মেইন ম্যেনু

ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান গুলো

রাজশাহী বিভাগটি বাংলাদেশের উত্তর অংশে অবস্থিত। রাজশাহী জেলা প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানের জন্য বিখ্যাত। রাজশাহী শহরটি পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। বর্ষার প্রারম্ভে পদ্মা নদী জলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে অন্যদিকে শীতকালে সংকীর্ণ হয়ে যায়। তখন পদ্মার পাড়ে গেলে মরুভূমি দেখার স্বাদ ও মিটতে পারে। রাজশাহীতে আছে অনেক দর্শনীয় স্থান। আসুন এবার জেনে নিই রাজশাহীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে।

১। মহাস্থানগড়
উত্তর বঙ্গের প্রধান আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে মহাস্থানগড় যা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আগ্রহব্যঞ্জক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশ রাজত্ব করেছে এখানে এবং এটি ছিলো তাদের রাজধানী। মহাস্থানগড় প্রতিষ্ঠিত হয় ৩০০ খ্রিষ্টাব্দে। মহাস্থানগড়ের শেষ রাজা ছিলেন পরশুরাম। তিনি ছিলেন নিষ্ঠুর, অত্যাচারী ও মুসলিম বিরোধী। বালখ এর রাজা শাহ সুলতান মাহমুদ বালখি (রা) নিজের রাজত্ব ত্যাগ করে সুফি জীবন বেছে নিয়েছিলেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি সবশেষে এই স্থানে আসেন ও পরশুরাম এর মুখোমুখি হয়ে তাকে পরাজিত ও নিহত করেন। এই প্রাচীন নগরীটি ৪৫ ফুট উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিলো। দেয়ালের পরে তিন দিকে পরিখা ও এক দিকে করতোয়া নদী। এখানে দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ছাড়াও আছে অনেক পুরাকীর্তির নিদর্শন যার কিছু জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। রংপুর ও বগুড়া হাইওয়ে রাস্তার পাশে বগুড়া শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং করতোয়া নদীর পশ্চিম পাশে মহাস্থানগড় অবস্থিত। এই ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির দৈর্ঘ্য ৫০০০ ফুট ও প্রস্থ ৪৫০০ ফুট এবং পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেত থেকে ১৫ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এই স্থানটি এখনো হিন্দুদের জন্য পবিত্র স্থান। প্রতিবছর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হাজার হাজার হিন্দু ভক্তের স্নানের অনুষ্ঠান হয় করতোয়া নদীর তীরে। মহাস্থানগড় ঢাকা থেকে ২৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

২। পুঠিয়া প্যালেস
রাজশাহী অঞ্চলের আর একটি ঐতিহাসিক পর্যটন স্থান হচ্ছে পুঠিয়া প্রাসাদ। এই স্মৃতি স্তম্ভটির আরেকটি নাম হচ্ছে গোবিন্দ মন্দির। এখানের ভবন গুলোর উভয় পাশেই দীঘি আছে। বর্তমানে প্রধান ভবনে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিখ্যাত সাধক শাহ দেউলা এবং আরো অনেক সুফি সাধকের কবর আছে এখানে।

৩। নাটোরের মহারাজার প্রাসাদ
নাটোরের মহারাজার ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদটিই এখন উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। যা উত্তরাঞ্চচলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন। বর্তমানে এই ভবনের আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

৪। বরেন্দ্র জাদুঘর
পদ্মা নদীর পাশেই বরেন্দ্র জাদুঘর অবস্থিত। চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, বাগান এবং নির্জন প্রকৃতির সৌন্দর্য আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবে। এখানে আছে কৃত্রিম লেক ও পাহাড়। জাদুঘরের পাশেই আছে হযরত শাহ মখদুম (রা)এর মাজার। তিনি ছিলেন ইয়েমেন এর শাসক। তিনি এখানে এসে সমাজের অনেক কুসংস্কার দূর করেন, শিক্ষা দেন, ইসলামের প্রতিষ্ঠা করেন এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেন।

৫। বঙ্গবন্ধু সেতু
এটি বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু। ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু যমুনা নদীর উপর নির্মিত, যা ঢাকা ও রাজশাহীকে যুক্ত করেছে।

৬। ছোট সোনা মসজিদ
মোগল শাসনামলে ওয়ালী মুহাম্মদ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি পুরাকীর্তির সুন্দর নিদর্শন। এই মসজিদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত।

৭। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এই ব্রিজটি পদ্মা নিদীর উপর অবস্থিত।

৮। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
সপ্তম শতকে ২৭ একর জমির উপর এই বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করা হয়। ১৬ ফুট প্রশস্থ ও ১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেড়া এই বিহারে ১৭৭টি কক্ষ আছে যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন। এখানে জাদুঘর ও কটি মন্দির আছে। রাজা ধর্মপাল এই বিহারটি নির্মাণ করেছিলেন যা সৌমপুর বিহার নামে পরিচিত ছিল। ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের বাসে এখানে যাওয়া যায়। জয়পুরহাট থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে এই বিহার অবস্থিত।
এছাড়াও সাফিনা পার্ক, সরমংলা ইকোপার্ক, গোয়ালকান্দি জমিদার বাড়ি, হাওয়াখানা, তুলসি ক্ষেত্র, গজমতখালি ব্রিজ, নিশিন্দা রাজের ধ্বংসস্তূপ, শহীদ কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান গুলোও ঘুরে আসতে পারেন।






মন্তব্য চালু নেই