মেইন ম্যেনু

ঘুরে আসুন বন্ধুসুলভ বেলজিয়াম

বেলজিয়াম খুব ছোট একটি দেশ। অনন্য চমৎকার শহর ব্রাসেলস এর জন্যই দেশটি মূলত প্রসিদ্ধ। এটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ন্যাটো সহ আরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংগঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। বেলজিয়ামে দেখা মেলে বিভিন্ন সংস্কৃতিরও। এখানে ৩ টি ভিন্ন ভাষাভাষির জনগোষ্ঠী বাস করে। উত্তরের ফ্লন্ডোর্সে অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল, এদের ভাষা ডাচ। ওয়ালোনিয়া হল দক্ষিণে, এদের ভাষা ফরাসি। আয়তনে ওয়ালোনিয়া তুলনামূলক বড় এবং মূল জনসংখ্যার অর্ধেকের বাস এখানেই। দেশটির পূর্ব দিকে আবার অল্পসংখ্যক জার্মান ভাষাভাষি লোক বাস করে। এই তিন জনগোষ্ঠী মিলেই বেলজিয়াম, উন্নত বিশ্বের একটি জনবহুল দেশ।

আনন্দের বিষয় হল, বেলজিয়ামে বিশের সবচেয়ে ঘনত্বপূর্ণ রেলরোড নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ঘিঞ্জি। নাসার মহাকাশচারীরা তাই এর নামকরণ করেছেন ‘বেলজিয়ামের জানালা’ হিসেবে কারণ মহাশূন্য থেকে যখন বেলজিয়ামকে দেখা যায় তখন পুরো দেশটি এত আলোকিত হয়ে থাকে, মনে হয় যেন একটি টর্চ। আপনি দেশটিকে জানতে চাইতে পারেন এর ইতিহাসের জন্য, রাজনীতির জন্য অথবা আধূনিক শহরগুলোয় ঘুরে বেড়াতে পারেন স্বানন্দ্যে। বেলজিয়াম স্বাগত জানায় সবধরণের মানুষকে। আর এজন্যই এটিকে বলা হয় ‘Tasty Waffles’ বা মিষ্টি কেক। আসুন জেনে নিই আরও মজার মজার কারণগুলো।

১। নেদারল্যান্ড এবং জাপানের পর বেলজিয়ামেই দেখতে পাবেন সবচেয়ে বেশী গাড়ি। সড়কে অজস্র গাড়ির এই প্রাচুর্য্য অবাক করে দেবে আপনাকে।
২। বেলজিয়ামে কিন্তু মাথাপিছু নাগরিকত্ব প্রদানের হার সবচেয়ে বেশী। দেশের বাইরে আবাসন তৈরির ইচ্ছে থাকলে ভেবে দেখতে পারেন এই দেশটির কথা।
৩। ব্রাসেলস এয়ারপোর্টে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী চকলেট বিক্রী হয় বলে পরিসংখ্যান বলে।
৪। বলা হয়, বহুল জনপ্রিয় খাবার ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ বেলজিয়ামের উদ্ভাবন।
৫। বেলজিয়ামের কোস্ট ট্রাম পৃথিবীর দীর্ঘতম কোস্ট পথ, ৬৮ কিলোমিটার।
৬। সাক্সোফোন আবিষ্কার হয়েছিল বেলজিয়ামেই। এডলফে সাক্স ১৮৪০ সালে আবিষ্কার করেন এই বাদ্যযন্ত্রটি।
৭। বেলজিয়ামের সবচেয়ে উঁচু পয়েন্ট হল সিগন্যাল ডি বোত্রেঞ্জ। এটি ৬৯৪ মিটার উঁচু। মজার ব্যাপার হল এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং এর (দুবাই এর বার্জ খালিফা, ৮২৮ মিটার) চেয়েও কম উচ্চতাসম্পন্ন।
৮। বেলজিয়াম আর নেদারল্যান্ডের সীমানা একদমই যেন গায়ে গায়ে লাগানো। এমনকি দুই দেশের কিছু দালানের দেয়াল তো সীমানা রেখার উপরেই একেবারে।
৯। বেলজিয়াম পরিচিত তার কর ব্যবস্থার জন্যও। কিছু পরিসঙ্খ্যানে দেখা যায়, আপনার আয়ের ৬৪ ভাগই চলে যায় ট্যাক্সের পিছনে। এটা বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় বেশী। এবার আরেকবার ভাবুন, এই দেশে বাস করতে আসবেন কিনা!
১০। ব্রাসেলসে ১২০টি আন্তর্জাতিক সরকারি সংগঠন এবং ১৪০০ টি এনজিও রয়েছে। নিউইয়র্কের পর ব্রাসেলসেই সবচেয়ে বেশী আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
১১। অন্য যে কোন দেশের তুলনায় উজ্জ্বল দেশ বেলজিয়াম। এর মহাসড়কের ঘনত্বের কারণে রাতে এটি বিশ্বের মানচিত্রে জ্বলে থাকে টর্চের মত।
১২। সবচেয়ে ছোট দেশ হওয়া স্বত্তেও বেলজিয়াম বিশ্বের ত্রয়োদশ বৃহৎ রপ্তানি বাণিজ্যের দেশ।






মন্তব্য চালু নেই