মেইন ম্যেনু

ঘূর্ণিঝড়ের পর বৃষ্টির যন্ত্রণা, থাকতে পারে আরও ২ দিন

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর এর প্রভাবে আরও অন্তত দুই দিন বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে শুরু করে ঘূর্ণিঝড়টি। এ সময় বৃষ্টি ঝরিয়ে তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে সন্ধ্যায় স্থল নিম্নচাপে রূপ নেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম উপকূলের সন্দ্বীপ, ফেনী, নোয়াখালী, সীতাকুণ্ড, হাতিয়া, কুতুবদিয়া উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে ঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী দুই দিন বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলসহ দেশের প্রায় সব জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

রোয়ানু উপকূল পেরোনোয় সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিপদ সংকেত কমিয়ে ৩ নম্বরে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঝড় সামনে রেখে শুক্রবার বিকাল থেকে চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।

ঝড়ে চট্টগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজারে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে কয়েকশ ঘর।

ঝড়ের প্রভাবে এদিন ভোর থেকে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সঙ্গে ছিল ঝড়ো বাতাস। এদিন সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার।

রোয়ানুর প্রভাবে আগেরদিন শুক্রবারও চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হয়। এদিন বরিশালের খেঁপুপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। কক্সবাজারের টেকনাফে ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

গত দুই দিনে ঢাকায় ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক এলাকায় রাস্তার গর্তে পানি জমায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

পুরনো ঢাকার আগামসি লেইন, নাজিমুদ্দিন রোডে সকালে পানি জমতে দেখা যায়। ফ্লাইওভারের কাজ চলতে থাকা মৌচাক-মগবাজার সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে ব্যাপক ভোগান্তি হয় যান চলাচলে।

আবহাওয়ার রোববারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই