মেইন ম্যেনু

চকরিয়ার চেয়ারম্যান নিজের কাঁধে তুলে নিলেন বেরিবাধ সঃস্কারের কাজ

জামাল জাহেদ, কক্সসবাজারঃ কক্সবাজারের পেকুয়ায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপির) চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের অর্থয়ানে চলছে প্রায় ৫কি.মি বেঁড়িবাধ সংস্কার বাস্তবায়ন কাজ। এ খাতে তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০লাখ টাকা।

এ ইউনিয়নের পশ্চিম অংশে অবস্থিত কুতুবদিয়া চ্যানেল সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি উন্নয়ন র্বোড (পাউবো) নিয়ন্ত্রনাধিন ৬৫/২বি পোল্ডারের বেঁিড়বাধের মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ব্যক্তিগত উদ্যেগে সংস্কার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম।

সমুদ্রের করাল গ্রাস ও প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতে উপজেলার উপকুলীয় মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া থেকে শরতঘোনা পর্যন্ত প্রায় ১০ কি.মি বেঁিড়বাধ বিধ্বস্থ হয়েছে। এরই মধ্যে ৫কি.মি বেঁড়িবাধ বিলিন হয়েছে।

বিলিন হওয়া ওই অংশ দিয়ে গত দু’মাস আগে কুতুবদিয়া চ্যানেলের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে এ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। প্রায় এক মাস হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি ছিল। জন দুর্ভোগ ছিল চরম পর্যায়ে। গত এক মাস আগে মগনামার শরতঘোনা ও কাকপাড়া পয়েন্টে বেঁড়িবাধ সংস্কারের উদ্যেগ নেন চেয়ারম্যান ওয়াসিম। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এলাকায় জলবদ্ধতার কারনে জনজীবন মারাত্বকভাবে ব্যাহত হয় এ ইউনিয়নে।

চেয়ারম্যান এলাকার জনদুর্ভোগ ও মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য নিজেই উদ্যেগ নেন বেঁড়িবাধ সংস্কারের জন্য। এনিয়ে স্থানীয় চিংড়ি চাষি ও এলাকার সব শ্রেনীর লোকজন নিয়ে মগনামায় একাধিক সামাজিক বৈঠক করেন। বৈঠকে স্থানীয়রা বেঁড়িবাধ সংস্কারের জন্য চেয়ারম্যানকে ত্রান কর্তার ভুমিকা রাখার আবেদন করেন। চেয়ারম্যান জনগনের অনুরোধ সাদর গ্রহন করেছেন। এ সময় বেঁড়িবাধের বিলিন অংশ ৫কি.মি মাটি দ্বারা সংস্কারের উদ্যেগ নেন চেয়ারম্যান।

প্রচন্ড বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার মাঝে শরতঘোনার জাবের আহমদের বাড়ি থেকে চরখানাই হয়ে হুমায়ন চৌধুরীর মৎস্য ঘের পর্যন্ত প্রায় দু’কি.মি বেঁড়িবাধ সংস্কারের জন্য শতশত শ্রমিক ও স্কেবেটার দিয়ে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়ন করেন। একইভাবে ওই ইউনিয়নের পশ্চিমকুল এলাকায় প্রায় আঁধা কি.মিটার বেঁড়িবাধের বিলিন অংশ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেন চেয়ারম্যান।

সেকান্দার বাড়ি থেকে ইউপি সদস্য আজিজুল হকের বাড়ি পর্যন্ত বিলিন অংশ দিয়ে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। প্রায় ৫লাখ টাকা ব্যয় করে ওই অংশ সংস্কার করেন চেয়ারম্যান।

চেপ্টাখালীর দক্ষিন পাশ্বে জালিয়াপাড়ার নিকট এক কি.মি বিলিন অংশ সংস্কারকাজও বাস্তবায়ন করেন তিনি। মগনামা ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিনে কাকপাড়া মাজার পয়েন্টে প্রায় দেড় কি.মি বেঁড়িবাধের বিলিন অংশ দিয়ে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিপুল এলাকা প্লাবিত হয়।

সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর বাড়ি থেকে উজানটিয়া সিমানা পর্যন্ত ওই কাজ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সংস্কার করেন চেয়ারম্যান। ওই সময় থেকে সমুদ্রের জোয়ারের পানি মগনামায় প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি অমাবস্যার তিথির জুঁ’র প্রভাবে সাগরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেঁড়িবাধের সংস্কার অংশগুলোও ঢেউয়ের আঘাতে ফের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে শরতঘোনা ও কাকপাড়া পয়েন্টে গত কয়েক দিন ধরে বাধ উপচিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। চেয়ারম্যান ওয়াসিম ঝুঁকিপুর্ন বেঁড়িবাধের এসব পয়েন্ট ফের সংস্কারের জন্য গত তিন দিন ধরে শতশত শ্রমিক নিয়োগ করে মাটি ভরাট কাজ চলমান রাখেন।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, আজিজুল হক, শাহেদুল ইসলাম, জাইদুল হক জানায় সরকারি কোন বরাদ্ধ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান তার গুরু দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ পালন করতে নিজের টাকায় বেঁড়িবাধ সংস্কার করে জোয়ারের পানি আটকিয়েছেন। আমরা তার মহৎ কাজে এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানায়।

ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম জানায় বেঁড়িবাধ সংস্কার বাস্তবায়ন কাজে ১ম পর্যায়ে আমি ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু এর পরেও একাধিক স্থানে ফাটল ও মারাত্বক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ৫কি.মিটারে ফের মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এতে আমার আরো ব্যয় হবে প্রায় ২০ টাকা। শ্রমিক দিয়েছি বেঁড়িবাধের মাটি কাটতে। নজরদারি করতে লোক নিয়োগ দিয়েছি।

এরা জোয়ারের সময় রাত ও দিনে বেঁড়িবাধের অবস্থা সার্বক্ষনিক নির্নয় করছেন। আমার ইউনিয়নবাসি পানি থেকে পরিত্রান পেয়েছে। আমার ভাল লাগছে এ টুকু। জনগন আমাকে আশা নিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি সব সময় জনগনের মঙ্গল কামনা করি।






মন্তব্য চালু নেই