মেইন ম্যেনু

চকোলেটের সঙ্গে ব্রণ কতটা সম্পর্কিত?

যদিও এখন ব্রণের খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ চিকিৎসা আমাদের দেশেই এসে গেছে, তারপরও এ নিয়ে ভুল ধারণার শেষ নেই। যেহেতু ব্রণ সৌন্দর্য হরণকারী সমস্যা তাই এ নিয়ে নানারকম তথাকথিত চিকিৎসা এবং উপদেশ প্রচলিত আছে। এ সবরে অধিকাংশই ব্রণ নিরাময়ে বিশেষ কোনো কাজে এসেছে বলে জানা যায়নি। অনেকের ধারণা চকোলেট ও ক্যান্ডি, ভাজা-পোড়া তৈলাক্ত খাদ্য, চিপস্ ইত্যাদি খেলে ব্রণ বেড়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বরাবরই সাধারণের এ ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান জানে ব্রণ কেন হয়।

যারা জানে না ব্রণ কেন হয় এবং কীভাবে হয়, তারাই ব্রণ নিয়ে রকমারী চিকিৎসার ডালি সাজায় আর উপদেশের ফুলঝুরি বর্ষণ করে। ব্রণ মূলত হয়ে থাকে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ডের অতিক্রিয়ার কারণে। সাধারণত সেক্স হরমোনের (এন্ড্রোজেন) প্রভাবেই এটি হয়ে থাকে। বয়সন্ধিকাল থেকে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের শরীরেই এই সেক্স হরমোনটির (এন্ড্রোজেন) নিঃসরণ ঘটে। প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই হরমোনের প্রভাবে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড(গ্রন্থি) প্রচুর পরিমাণে সিবাম তৈরি করে। এই গাঢ় এবং আঠালো চরিত্রের সিবাম খুব সহজেই সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড (গ্রন্থি) এবং হেয়ার ফলিকুল ভরাট করে বন্ধ করে দেয়। তখন ক্রমশ এই গ্রন্থি ফুলে উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে সেটির মধ্যে সামান্য পুঁজও জমতে থাকে।

এক সময় এটি ফেটে অবস্থাভেদে শাঁসের মত সাদা পদার্থ কিংবা পুঁজ বের হতে দেখা যায়। এ অবস্থায় সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে এবং প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণের কাছে ইনফেকশন বলে পরিচিত। সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড বা ঘর্মগ্রন্থির এই ফুলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অবস্থাকেই ব্রণ বলা হয়।

ব্রণের বিভিন্ন ধরন এবং পর্যায় রয়েছে। যা সাধারণের কাছে বোধগম্য হবার কথা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের বংশগতির বাহক জিনের সঙ্গে এন্ড্রোজেনের অতি নিঃসরণের একটি যোগসাজশ রয়েছে। এদিকে আমেরিকার গবেষকরা ব্রণ সৃষ্টিতে কিংবা ব্রণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে চকোলেটের কোনো ভূমিকা থাকার আশংকা একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রমাণ হিসাবে, সমীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্রণে আক্রান্ত এবং ব্রণে আক্রান্ত নয় এমন তরুণ তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে চকোলেট খাইয়ে দেখা গেছে, তরুণ তরুণীদের কারোই নতুন করে ব্রণ ওঠেনি এবং যাদের ইতিপূর্বে ব্রণ ছিলো তাদের ব্রণের তীব্রতাও বাড়েনি। এ দিকে ইয়ালি ইনস্টিটিউটের ডার্মাটোলজি (ত্বক বিষয়ক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা) বিভাগের ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ডা. এন্ডু ব্রনিন এর কথা হচ্ছে- প্রকৃতপক্ষেই যদি চকোলেট জাতীয় খাবারে ব্রণ বেড়ে যেত কিংবা ব্রণ হতো তাহলে শিশু-কিশোরদের মাঝেই ব্রণের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়ার কথা ছিলো। কারণ শিশুরাই চকোলেট জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকে।

লেখক : ডা. সজল আশফাক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক






মন্তব্য চালু নেই