মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রাম নগরী থেকে চামড়া পাচারের আশংকা

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ভারতে চামড়া পাচারের আশংকা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রতি বছরই ভারতে চামড়া পাচার হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হন দেশের প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবারও চামড়া পাচারকারী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে অভিযোগ করে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চামড়া পাচার রোধে তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেবে। এ ব্যাপারে শিগগিরই সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতি বছর বৃহত্তর চট্টগ্রামে কোরবানীর ঈদ-পরবর্তী চামড়ার হাটে প্রায় ৮০-৯০ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়। আর এ সুযোগে অধিক মুনাফার আশায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সীমান্ত পথে পশুর চামড়া ভারতে পাচার করে দেয়।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা ও ফেনী জেলায় প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোরবানির পশু জবাই হয় । এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ গরু , ১ লাখের মত ছাগল, ১০-১৫ হাজার ভেড়া এবং ২০-৩০ হাজারের মত মহিষ । এবারও একই পরিমাণ পশু জবাই হবে বলে জানালেন চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ হিসেবে কোরবানীর সময় প্রায় ৪ লাখের মত চামড়া পাওয়া যায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে। গরু-মহিষের চামড়া প্রতিটি গড়ে ২০০০ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। আর প্রায় ৫০ হাজার ভেড়া- ছাগলের চামড়া গড়ে ২০০ টাকা হিসেবে হয় ১ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, এই চামড়ার একটি অংশ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে ফেনী ও কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যায়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ সেকান্দর সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারতীয়রা আমাদেরকে গরু দিতে চায়না ; অথচ আমাদের চামড়ার ব্যাপারে তাদেও আগ্রহ রয়েছে।

তিনি আরা বলেন, কোরবানীর আর এক সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনও বৈধ পথে ভারতীয় গরু তেমন একটা আসছে না। উল্টো বাংলাদেশ থেকে চামড়া পাচারকারীদের গোপনে সহযোগিতা করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এজন্য বারবার দেশীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা মার খাচ্ছে।

চামড়া পাচার ঠেকাতে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। হামজারবাগ এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ নুরু জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গাড়িতে চামড়া নেওয়ার পথে ফেনী ও কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার হয়ে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির কড়া নজরদারী প্রযোজন ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী হাজী নুর আহমদ বলেন, প্রতিবছরই ঈদের পর চামড়া পাচারে সক্রিয় হয় কতিপয় চক্র। এজন্য কোরবানির ঈদের আগেই প্রশাসন চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করলে ভাল হয়।

চামড়া পাচার রোধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে শিগগিরই চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে । চামড়া পাচার রোধে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চামড়া পাচার রোধে প্রতিবারই আমাদের একটা ভিজিল্যান্স টিম থাকে, এবারও আমরা সমন্বয় সভা করে সিদ্ধান্ত নেব।






মন্তব্য চালু নেই