মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ কন্টেইনার জট

দেশের প্রধান ও বৃহত্তম চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ কন্টেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যভর্তি কন্টেইনারে পরিপূর্ণ বন্দর ইয়ার্ডে এখন জাহাজ থেকে পণ্য খালাসেও জটিলতা দেখা গিয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস সীমিত করার ফলে বন্দরের বহিঃনোঙরে আমদানি পণ্য বোঝাই মাদার ভেসেলের সারিও ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বার্থে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রেখে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে পণ্য বোঝাই মোট কন্টেইনারের ধারণ ক্ষমতা ২৬ হাজার ৮৫৭ টিইইউস। এই ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে গতকাল রোববার পর্যন্ত বন্দরে সর্বমোট কন্টেইনাল ছিলো ২৭ হাজার ৪১৩ টিইইউস। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৫৫৬ টিইইউস বেশি। পণ্য ভর্তি কন্টেইনার ছাড়াও বন্দর ইয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়েছে খালি কন্টেইনারের সংখ্যাও।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার খালি কন্টেইনার রাখার। কিন্তু বর্তমানে এখানে খালি কন্টেইনারের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি। এই অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে তীব্র কন্টেইনার জট দেখা দিয়েছে। বন্দরে কন্টেইনার জটের পাশাপাশি বহিঃনোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বন্দর থেকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, রোববার বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে বহিঃনোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ৪৫টি। এ ছাড়াও বন্দর জেটিতে ২২টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন রমজানে আমদানি রফতানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বন্দরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে এই কন্টেইনার ও জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়েছে। এই জটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ী তথা আমদানি রফতানিকারকরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া এক মাস পূর্বে নৌযান ধর্মঘট, লাইটার জাহাজ মালিকদের ধর্মঘট এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে দুইদিন বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকার ফলে বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাতদিন কাজ করে বন্দরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বন্দরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাফর আলম আরও জানান, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।






মন্তব্য চালু নেই