মেইন ম্যেনু

চন্দ্রিমা উদ্যানের ‘যৌনকর্মী’ বিউটির গল্প!

বিউটি (ছদ্মনাম)। একজন মাঝ বয়সী নারী। বয়স আনুমানিক ৩০-৩২ বছর। রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে নিজের দেহ বিক্রি করে অর্থ আয় করে সংসার চালন তিনি। স্বামী নেই, দুটি সন্তান তার। বর্তমানে তিনি সাভারে থাকেন। তবে বিউটি ঢাকার স্থানীয় বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি আমাদের একটি টিম রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে ছিল। উদ্দেশ্য চন্দ্রিমা উদ্যান সম্পর্কে নানান ধরনের নিউজ করা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে এই টিমের চোখে পড়ে ভিন্ন একটি চিত্র। উদ্যানে হালকা আলোর রাস্তাটিতে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের কিছু নারী ব্যাগ হাতে ঘোরাফেরা করছে।

কিছুক্ষণ পরপর কোন একজন পুরুষ, অল্প বয়সী কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ তাদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলছে এবং গিয়ে অন্ধকারের মধ্যে কোন একটা বেঞ্চে বসে পড়ছে। টাকা লেনদেন করছে। এরপর… কিছুক্ষণ পর উঠে যে যার মতো করে চলে যাচ্ছে।

এই রহস্য উৎঘাটনের জন্য আমাদের টিমের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। ওখানে ঘোরাফেরা করা একজন নারী বিউটি। তার সঙ্গে কথা হয় আমাদের এই টিমের সঙ্গে। বিউটির কিছু সময় নেয়ার জন্য তাকে অর্থও প্রধান করতে হয় এই টিমের সদস্যদের।

নাম জানতে চাইতেই উত্তর দিলেন তিনি। জানালেন তার নাম বিউটি। থাকেন সাভারে তিনি ঢাকার স্থানীয়। স্বামী না থাকায় তিনি দুটি সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই পেশায় এসেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এখানে টাকার বিনিময়ে শুধু কিছুক্ষণ ছেলেদের সঙ্গে গল্প করেন এবং… শেষে ১০০-২০০টাকা নেন। তা দিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকেন। তবে তিনি কারো সঙ্গে ফ্ল্যাটে যান না।

বিউটি বলেন, কম কষ্টে এখানে আসিনি। স্বামী না থাকায় আজ আমার এই অবস্থা। স্বামী থাকলে কি আর এই পেশায় আসতাম? প্রশ্ন রাখলেন তিনি। এই পেশায় কোন মানুষ আসতে চায় না। যারা আসে বেঁচে থাকার তাগিতেই আসে। বলতে বলেতে প্রায় কেঁদে ফেললেন তিনি।

তিনি আরও জানান, স্বামী হারা, অভাগা, দুঃখীরাই এখানে নিরুপায় হয়ে আসেন। তবে অনেকে আবার এখানে আসেন নিছক আনন্দ নিতে। কেউ আবার আসেন ভালোভাবে জীবন চালানোর জন্য। তবে তারা কেবল মাঝে মধ্যেই আসে। তবে আমি এখানে প্রতিদিন আসি। কারণ এটা দিয়েই আমাকে বেঁচে থাকতে হয়।

বিউটির অভিযোগ, পৃথীবি বড় নিষ্ঠুর। এখানে কেউ কাউকে দেখতে চায় না। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। কাছের মানুষও কষ্ট দেখেও না দেখার বান করে। তাই বাধ্য হয়েই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেঁচে থাকতে এই কাজ করছি। পেট তো চালাতে হবে…।






মন্তব্য চালু নেই