মেইন ম্যেনু

এক্সেল লোড কন্ট্র্রোল ষ্টেশনের হালচিত্র

চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ॥ নিরব প্রশাসন, অতিষ্ঠ চালকরা

টিপু সুলতান (রবিন), সাভার থেকে: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলীতে অবস্থিত এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনে পরিবহন থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তারা। ওভার লোড নিয়ন্ত্র্রন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে স্কেলটি স্থাপন করা হয়েছিল তার উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা বরং একটি শ্রেণির অর্থ রোজগারের  সর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়মের অতিরিক্ত মাল বোঝাইকৃত ট্রাক-লরি থেকে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছেন এক্সেল লোড কন্ট্রোলের লোকজন। তাদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অসহায় ট্রাক চালকরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো অনেক চালককে প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হতে হচ্ছে এই চক্রটির হাতে। ফলে ট্র্রাক চালকরা একেবারেই অসহায় তাদের কাছে। আর এই চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রত্যাক্ষ্যভাবে সহযোগিতা করছে থানা পুলিশ ও সড়কে টহলরত হাইওয়ে পুলিশ। দুই স্তরের  চাঁদাবাজিতে ক্ষুব্দ ট্রাকচালক থেকে শুরু করে এলাকার জনসাধারন।

একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনটিতে প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করছেন স্টেশনের কর্মীরা। আর তাদের এইকাজে সহযোগিতা করছে আইন শৃংখলা রক্ষাক হিসেবে পরিচিত পুলিশ। ২০টনের অধিক প্রত্যেক ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও লরিকে চাঁদাদিয়েই পার হতে হয়। ২শত থেকে ২হাজার টাকা কিংবা আরও অধিক টাকা দিতে হয় তাদের। এখানেই শেষ নয়। স্টেশনের পশ্চিমপাশে হাইওয়ে পুলিশ চেক পোষ্টের নামে আরো একবার চাঁদাবাজি করে ট্রাক চালকদের উপর।

photo5

এই স্টেশনটি প্রথমে উদ্বোধন করা হয় জোট সরকারের আমলে। ওই সময় ব্যাপক চাঁদাবাজির কারনে স্টেশনটি বন্ধ ছিল প্রায় দু’বছর। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার তা চালু করেন যোগাযোগ মন্ত্রী (বর্তমানে সেতু ও সড়ক মন্ত্রী) ওবায়দুল কাদের। এরপর থেকেই চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। স্টেশনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের ষ্টেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, সড়কে ওভার লোড ঠেকাতে ওই স্কেলটি বসানো হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ ২০টন (গাড়ির ওজনসহ) মালামাল বহন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এর অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করার অপরাধে হাইওয়ে পুলিশের কাছে ১৯৮৩ সালের মোটরযান আইনে মামলা দেওয়া হয়। গাড়ী কর্তৃপক্ষ আবার জরিমানা প্রদান করে মামলা নিস্পত্তি করে থাকেন। নিয়মের অধিক ওজনের মালামাল বহনকারী গাড়ী থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনিই (ষ্টেশন ম্যানেজার মিজানুর রহমান) অতিরিক্ত মালামাল বহনকৃত ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন (চাঁদাবাজি করছেন) যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে আওয়ার নিউজ বিডি’র কাছে। ২০ টনের অধিক মালামাল বহনকারী গাড়ীগুলোর রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে।

আরো দেখা যায়, ষ্টেশনের পশ্চিমপাশে ভারী মালামাল বহনকারী বেশ কয়েকটি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ট্রাকগুলোর চালকরা ষ্টেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চাঁদার পরিমান নিয়ে দরকষাকষি করতে গেছেন। চাঁদার পরিমানের বিষয়ে সুরাহা শেষে তারা স্কেলে মালামাল ওজন না করিয়েই পাশের রাস্তা দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একের পর এক ট্রাক দাড়িয়ে থাকায় প্রতিমুহুর্তেই যানজট লেগেই থাকছে বাথুলী-বারবাড়িয়া এলাকায়।

photo-1

একাধিক ট্রাক চালক আওয়ার নিউজ বিডি’কে বলেন, বাথুলী এলাকা পার হওয়ার সময় আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। স্টেশনের লোকজন  আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ব্যবহার করে। চাঁদার পরিমান নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

অপরদিকে চাঁদা দিয়ে গাড়ী নির্বিঘ্নে পার হয়ে যেতে পারায় ট্রাক চালকরাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত মালামাল বহনের সংযত হচ্ছেনা। ফলে মহাসড়কের স্থায়ীত্বকাল নষ্ট হচ্ছে। বারেক ও রফিক নামের দুই ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল- অধিক মালামাল বহন করলে তাদের পাঁচশত থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। বিপরীতে তারা চার থেকে পাঁচগুনের  বেশী ভাড়া পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তাদের লাভ বেশীই হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন কারখানার কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে মাসিকভিত্তিতে চাঁদা নিয়ে অতিরিক্ত মালামালবহনকৃত ট্রাক ছেড়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বাথুলী ও বারবাড়িয়া বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বলেন, এক্সেল লোড কন্ট্রোল ষ্টেশনটি চাঁদাবাজির আখড়া। যেভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে তাতে মনে হয় এদের ধরার জন্য দেশে কোন পুলিশ কিংবা আইন শৃংখলা বাহিনী নেই। তারা আরো বলেন, চাঁদাবাজির কারনে একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে মহাসড়কের স্থায়ীত্বকাল কমে যাচ্ছে। এরমধ্য দিয়ে মূল উদ্দেশ্যের শূণ্যভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ষ্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী আর থানা ও হাইওয়ে পুলিশের অর্থ রোজগারের নিরাপদ আস্তানা গড়ে উঠেছে এখানে।

photo4

স্টেশন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড এর সত্বাধীকারী মোহাম্মদ হোসেন জনি বলেন, যা করা হচ্ছে (চাঁদাবাজি) তা আইন শৃংখলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি বলেন, এ স্টেশনে মন্ত্রীর লোকজনও চাকরী করেন।

চাঁদাবাজির বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ রিজাউল হক আওয়ার নিউজ বিডি’কে বলেন, এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনটি আমার জন্য গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, উপর মহল মনে করেন এখান থেকে নাকি পুলিশ অনেক টাকা কামাই করে। এছাড়া তিনি বলেন, যদি কেউ চাদাবাজি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজির কারনে ওজন নিয়ন্ত্রন কক্ষে কয়েকবার হামলা করেছে  স্থানীয় এলাকাবাসি সহ ট্রাক চালকরা। এছাড়া রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড এর সত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন জনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও হয়েছিল।






মন্তব্য চালু নেই