মেইন ম্যেনু

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২৫ শতাংশ

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘সমাজ পরিবর্তনে যুব সমাজের ভূমিকা ও গান্ধী দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মহাত্মা গান্ধীর ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভার আয়োজন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়েছে। তাদের হিসাবে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে আমাদের দেশের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার আপত্তি থাকলেও এটাই সত্যি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রেখে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ।

তিনি আরো বলেন, আমি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এ কথা বলতে পারি। আর এতে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং থাকবে না। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিবেচনা করলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এই দুই মাসের অর্থনৈতিক অগ্রগতি গত অর্থবছরের তুলনায় বেশ ভালো। ইতিমধ্যে আমরা রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, রাজস্ব আদায়ে ১৪ শতাংশ ও রেমিট্যান্স আহরণে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মাইক্রো ইকোনোমিকের প্রতিটি সূচক ইতিবাচক।

উপজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকার আলাদাভাবে কাজ করছে, উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞলে ছড়িয়ে থাকা ৫৮ হাজার উপজাতি মানুষকে নিয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেখানে বেদে, কামার ও কুমারসহ অন্যান্য অবহেলিত সম্প্রদায়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমাদের পরিকল্পনা দেশের প্রতিটি মানুষকে সমৃদ্ধি করা। কাউকে মূল অর্থনীতির বাইরে রাখা হবে না।

মহাত্মা গান্ধী প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, মহাত্মা গান্ধী শুধু ভারতীয় ব্যক্তি নন। তিনি মানবতার প্রতীক। তার আন্দোলনে কখনোই সহিংস বিষয় ছিল না। তার সব আন্দোলনই ছিল অহিংস। তিনি সবার জন্যই কাজ করে গেছেন। তিনি তার অহিংসতার বাণী ভারত ও বাংলাদেশ, এমনকি আফ্রিকায়ও ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার কাছে দেশ কোনো বিষয় ছিল না। মানুষকে যুক্ত করে, বিশেষ করে, তরুণ সমাজকে যুক্ত করেই ছিল তার আন্দোলন। গান্ধীর অহিংসতার এই দর্শন পৃথিবী থেকে কখনোই হারিয়ে যাবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, গান্ধীজির দর্শন ছিল সহিংসতার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সহিংসতা মানবতার বিরুদ্ধে। তার এই অহিংস আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর ৪০ শতাংশ ছিল তরুণ। বর্তমান সমাজে তার এই দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই তরুণ। এই জনশক্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ইউএনডিপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক, সংসদ সদস্য পঙ্কজ বেদনাথ, উষাতন তালুকদার এমপি ও ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই