মেইন ম্যেনু

চলনবিলে গ্রীষ্মের দাবদাহে অতিষ্ট জনজীবন

জাহাঙ্গীর আলম, চাটমোহর (পাবনা) থেকে : গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জনজীবন। টানা ভ্যাপসা গরম আর অনাবৃষ্টির কারণে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। বৈশাখের এ প্রচন্ড তাপদাহে গরমের হাত থেকে বাঁচতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে নানা ধরনের শরবত ও কোমল পানীয়র পাশাপাশি ডাবের পানি শতভাগ নিরাপদ হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে ডাবের।

তবে দাম বেশী হওয়ায় নিম্ন বিত্তের তৃষ্ণার্ত মানুষ ডাবের পানির পরিবর্তে হাট বাজারে বিক্রি হওয়া বেলের, আখের অথবা গুড়ের শরবতসহ বিভিন্ন কোমল পানীয় পান করছেন। সেইসঙ্গে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ অঞ্চলে বেড়েই চলেছে অসহনীয় লোডশেডিং। তীব্র গরম আর অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে দিনের বেলায় উপজেলা শহরের রাস্তাগুলোতে সর্ব সাধারণের চলাচল অন্য সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম।

বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, জনবহুল স্থানে ডাব এবং শরবত ও কমল পানীয়র পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। বিভিন্ন পেশার অনেক পথচারী তৃষ্ণা নিবারণে পথের ধারে দাঁড়িয়ে নানা রকমের ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা পানীয় আর ডাবের পানি বিক্রি বেড়ে গেছে বহুগুন। সেই সাথে লাচ্ছি জুস আর কোমল পানীয়ের ব্যবসাও বেশ রমরমা।

ডাব বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম জানান, গরমে ডাবের চাহিদা বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় সরবারহ কম হওয়ায় এবারে ডাবের দাম অনেক বেশী। বড় ও মাঝারি আকারের প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। তবে নিম্ন মধ্য বৃত্তের চাইতে বৃত্তবান ক্রেতারাদের সংখ্যাই বেশী বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, এক শ্রেণীর মানুষেরা গরমের হাত থেকে বাঁচতে কেউ জেনে আবার কেউ না জেনে পান করছেন খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া নানা রকমের নিম্নমানের শরবত ও পানীয়। এরফলে কিছু সময়ের জন্য তৃষ্ণা দূর হলেও এসব পানীয় থেকে পানি বাহিত রোগ টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয় ও জন্ডিসসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব ঘটছে।

এছাড়াও সচেতনতা ও মনিটরিং এর অভাবে সংগৃহিত ময়লা পানি থেকে বানানো বরফ খাচ্ছেন অনেকেই। তবে এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে দাবি সচেতন মহলের। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নইে বললেই চলে। এমনকি তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

এছাড়াও কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণেই তাপমাত্রা বেড়েছে। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগ। অতিরিক্ত গরমের কারণে উপজেলা জুড়ে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এক্ষেত্রে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিদিনই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানান, সুস্থ্য থাকতে চাইলে গরমে প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। শসা, আখের রস, আনারস, লেবুব শরবতসহ সব ধরনের খোলা পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে হবে। গরমে বাইরের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।






মন্তব্য চালু নেই