মেইন ম্যেনু

চলে গেলেন ১৯ শতকের শেষ মার্কিনি

চিরবিদায় নিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়ঃজ্যেষ্ঠ মানুষ।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, সুসানাহ মুশহাত জোনস ছিলেন বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি। ১১৬ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৮৯৯ সালের জুলাই মাসে আলাবামায় জন্মগ্রহণ করেন জোনস। তিনিই ছিলেন ১৯ শতকে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শেষ জীবিত নাগরিক। বেঁচে থাকলে আগামী জুলাইয়ে তিনি ১১৭ বছর পূর্ণ করতেন।

তিন শতাব্দীর মেলবন্ধনে মহাকাব্যিক জীবন যাপন করে গেছেন জোনস। নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের বিষয়। দেখেছেন দুটি বিশ্বযুদ্ধ। তার জীবনকালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন ২০ জন রাষ্ট্রপতি।

সুসানাহ মুশহাত জোনসরা ছিলেন ১১ ভাই-বোন। তার দাদা-দাদি ছিলেন দাস-দাসী। বাবা-মা ছিলেন ফসল কুঁড়ানি। মাঠ থেকে ফসল কুঁড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা।

কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েদের জন্য বিশেষ স্কুলে পড়াশোনা করেন জোনস। ১৯২২ সালে হাইস্কুল পাস করেন তিনি। আয়ার কাজ নিয়ে নিউ ইয়র্কে চলে আসেন জোসন। এখানে আফ্রিকান-আমেরিকান মেয়েদের বৃত্তির জন্য তহবিল গঠন শুরু করেন।

১০৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। এরপর অবসরে যান। ২০১৫ সালে তার ১১৬তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়। জোনসের জীবদ্দশায় এত এত ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে, যা একজীবনে হয়তো কেউ পড়ে শেষ করতে পারবেন না।

মহারানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর আগে, মারকোনির ওয়ারলেস উদ্ভাবনের আগে এবং রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ানোর আগে জন্ম নেওয়া জোনস আরো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বেঁচে ছিলেন। তার জন্মসালে অর্থাৎ ১৮৯৯ সালে ঘটে যায় আরো অনেক ঘটনা। এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বোয়ার যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং এ বছর অ্যাসপিরিন আবিষ্কৃত হয়।

জোনসের দীর্ঘজীবনের রহস্য
মদ ও ধূমপান থেকে একেবারেই বিরত ছিলেন জোনস। পর্যাপ্ত ঘুমাতেন। জোনস মনে করতেন, এসব কারণেই তিনি দীর্ঘায়ুর অধিকারী। তা ছাড়া আনন্দের মধ্যে থাকাও দীর্ঘজীবী হওয়ার আরেকটি কারণ।

গত বছর টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোনস বলেছিলেন, প্রতিদিন চার খ- শুকনো ও পরিশোধিত শূকরের মাংস দুধে ভিজিয়ে খেতেন তিনি।

জোনসের মৃত্যুর পর এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি হচ্ছেন ইতালীয় নারী এমা মোরানো। মনে করা হয়, ১৯ শতকে জন্ম নিয়ে আজ পর্যন্ত বেঁচে থাকা শেষ ব্যক্তি এই মোরানো। ১৮৯৯ সালের নভেম্বর মাসে ইতালির ভারবেনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই