মেইন ম্যেনু

চাঁদপুরে প্রেমিক-প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা

জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় প্রেমিক নবির হোসেন (২০) ও প্রেমিকা রেহানা আক্তার (১৪) বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার ৫ নং সদর ইউনিয়নের বাউড়া গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে দু’জনে একসাথে বিষপান করে। পরে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

বুধবার সকালে থানা পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট করে দু’জনের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।

আত্মহত্যাকারী এই প্রেমিক বাউড়া গ্রামের ছৈয়াল বাড়ীর আবদুল হাকিমের ছোট ছেলে নবির হোসেন। সে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করে দিনমজুরের কাজ করছিল। আর প্রেমিকা হাজী বাড়ীর আজিজুল্লাহর ছোট মেয়ে রেহানা আক্তার। সে হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

প্রেমিক নবীর হোসেনের ভাই কবির হোসেন জানায়, ২৩ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এলাকায় একটি মাহফিল হয়। ওই মাহফিল থেকে প্রেমিকা রেহানা আক্তার কাকে দিয়ে ফুসকা এনেছিল। এই ফুসকা তার ভাই নবীর হোসেন দিয়েছে অযুহাত তুলে মেয়েকে বেদম মারধর করেছিল মা, ভাই মাঈনুদ্দিন ও রাহিম। ওইসময় রেহানা পায়ে গুরুতর আঘাত পায়। তখন মেয়েটি তার মা-বাবাকে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকী দিয়েছিল। বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে নবীর হোসেন আমাকে খুলে বলেছে। তখন ভাইকে ধৈর্য্য ও শান্ত থাকার অনুরোধ করি। কিন্তু মেয়েটির প্ররোচনায় দুইজনে একসাথে আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছে।

ভাই কবির হোসেন আরো জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষপান করা অবস্থায় নবীর আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেÑ ‘ভাই আমি আর রেহানা একসাথে বিষ খেয়েছি। মরে যাচ্ছি, মাফ করেদিস। দোয়া করিস। ’

তবে এ বিষয়ে মেয়ের ভাই রাহিম বলেন, এসব বানোয়াটে কথা। সোমবার এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। ছেলে নবীর হোসেন বিষ কিনে এনে আমার বোনকে খবর দিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের সর্ম্পকের বিষয়টি ছয় মাস পূর্ব থেকে পরিবারবর্গ জানতে পেরেছে বলেও তিনি জানান।

জানতে চাইলে প্রেমিক নবীর হোসেনের মা পারুল বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মেয়ের ভাইয়েরা হাজীগঞ্জ বাজারে একাধিকবার মারধর করেছে। তারা সামান্য অযুহাতে মেয়েকেও একাধিকবার মেরেছিল। গ্রাম্য শালিশে দুই বছর পর তাদের বিবাহ হবে বলে একটি স্টাম্প করা হয়। অথচ শালিশীগণ ওই স্টাম্পে কারো সাক্ষর রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহআলম ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, মেয়েটি দুইবার ছেলের বাড়ীতে পালিয়ে গেছে। শেষ বার মেয়ের বাবা ও ভাই পুলিশের স্বরণাপন্ন হয়। তখন মেয়েকে ছেলের বাড়ী থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তখন উভয় পক্ষের সিন্ধান্ত মোতাবেক পূর্ণ বয়স হবার পর অর্থ্যাৎ ২ বছর পর পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ হবার সিন্ধান্ত নেয়া হয়।

ওসি আরো বলেন, মেয়ের ভগ্নিপতি মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। তবে দুই জনের আত্মহত্যার পিছনে কারো প্ররোচণা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই