মেইন ম্যেনু

চাঁদপুরে ১৩৫ বছর বয়সী আম্বিয়া পেলেন বয়স্কভাতা

১৩৫ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুন পেলেন বয়স্কভাতা। একই সাথে তাঁর ছেলে নুরুল ইসলামও ৭৫ বছর বয়সে বয়স্কভাতার কার্ড পেয়েছেন। গত ১ নভেম্বর স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় ১৩৪ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুনকে নিয়ে বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে এই আম্বিয়া খাতুনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রায় দেড়শ বছর বয়সী এই আম্বিয়া খাতুন জন্ম গ্রহন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং সদর ইউনিয়নের দোয়ালিয়া গ্রামে। বিবাহ হয়েছিল একই গ্রামের দোয়ালীয়া মিজি বাড়িতে।

অবশেষে সোমবার ৮ জুন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রহমান মজুমদার আম্বিয়া খাতুন ও ছেলে নুরুল ইসলামকে বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করেন। দেড়’শ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুন তার ভাতা বই হাতে পেয়ে ফেলফেল করে কেঁদে ফেললেন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি তো খুশি হয়েছি। আপনারা খুশি হয়েছেন? এমন প্রশ্ন শুনে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও উপস্থিত এলাকার গণমান্য ব্যাক্তির নিশ্চুপ হয়ে যায়। এই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান তার ঔষধ খরচ বাবদ নিজ তহবিল থেকে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা প্রদান করেন।

যখন ইংরেজদের রাজত্ব চলছিল, তখন তাঁর জন্ম। সেই ১৮৮০ সাল। এটা জন্ম সনদে লিপিবদ্ধনুসারে। মুলতঃ তাঁর জন্ম ১৮৭০ এর দিকে। নাম আম্বিয়া খাতুন। বয়সের ভারে কি অবস্থা না দেখলে বুঝে উঠা দায়।

ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক দেয়া জন্ম সনদ অনুযায়ী আম্বিয়ার বয়স এখন ১’শ ৩৫ বছর। জম্মসনদে তারিখ ২ ফেব্র“য়ারী ১৮৮০ খ্রিঃ। তিনি এতো বছর বয়সেও এই স্বাধীন দেশে পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা।

নাতি নাছির উদ্দিন বলেন, দাদী এখনো নিজে নিজে হাঁটতে পারে। চোখে দেখে। নিজেই গোসল করতে পারে।

ছেলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেদের সহযোগীতা নিয়েই মায়ের সেবা করে আসেছি। সবসময় মাকে নজরধারীতে রাখি। এবারই প্রথমবারের মতো মায়ের সাথে আমিও বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়েছি।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়াতে আম্বিয়া খাতুনের খবর প্রকাশের পর ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তার হাতে ভাতার কার্ড দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও মৃত্যুর পূর্বে তাঁর হাতে বয়স্ক ভাতা তুলে দিতে পেরেছি। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিলো।’

উল্লেখ্য, ৮ সন্তানের জননী আম্বিয়া খাতুনের এখন এক ছেলে ছাড়া কেউ নেই। স্বামী-ছেলে-মেয়ে- নাতি-নাতনি অনেকে বৃদ্ধ বয়সে অনেক আগেই মারা গেছেন। রয়ে গেছে একমাত্র ছেলে নুরুল ইসলাম এবার হজ্জ্ব করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই