মেইন ম্যেনু

চাঁদা তুলে শিশুদের দিয়ে সড়ক নির্মাণ

মাথায় তিন থেকে আটটি করে ইট। আর সেগুলো নিয়ে কয়েকজন শিশু পৌঁছে দিচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তির কাছে। আর ওই ব্যক্তিরা ইটগুলো বিছিয়ে তৈরি করছিলেন রাস্তা। সরকারিভাবে সড়কের কাজ না করায় চাঁদা তুলে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক ছাড়াই এ শিশুদের দিয়ে সড়কের নির্মাণকাজ করছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।

বুধবার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলবিলাস গ্রামে গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাউফল-লোহালিয়া সড়কের দক্ষিণ বিলবিলাস এলাকায় মূল সড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে আইনুদ্দিন সিকদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার মাটির তৈরি শাখা সড়ক। সড়কটি দিয়ে ওই এলাকার শিশু, নারী ও পুরুষসহ দুই শতাধিক মানুষ যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটিতে অতিরিক্ত কাদা হওয়ায় চলাচলে খুবই কষ্ট হয়। সরকারিভাবে সড়কটি নির্মাণ না করায় ভুক্তভোগীরা চাঁদা তুলে নিজেরাই সড়কটির নির্মাণকাজ করছেন। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাউফল-লোহালিয়া সড়কের দক্ষিণ বিলবিলাস এলাকায় মূল সড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে একটি শাখা সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এক ব্যক্তি মূল সড়কের পাশে রাখা ইট চার শিশুর মাথার ওপর তুলে দিচ্ছেন। এদের মধ্যে দুই শিশু তিনটি করে এবং দুই শিশু আটটি করে ইট মাথায় নিয়ে ইট বিছানোর দায়িত্বে থাকা তিন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আর তাঁরা রাস্তার ওপর ইট বিছিয়ে দিচ্ছেন।

এ সময় মো. নূর হোসেন সিকদার (৬৫) নামের একজন আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আগে ভোটের (নির্বাচন) সময় হ্যারা (প্রার্থীরা) ভোটারেগো দ্বারে (কাছে) গিয়া তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা হোনতো (শুনত)। রাস্তাঘাট কইরা দেওয়নের ওয়াদা করত। এহন আর ভোট দেওয়ন লাগে না। ভোট ছাড়াই হ্যারা চেয়ারম্যান-মেম্বার অইয়া যায়। হেই লইগা আমাগো খোঁজখবরও লয় না, আর রাস্তাঘাটও হেরা কইরা দেয় না। এহন আমাগো রাস্তা আমরাই পোলাপাইন লইয়া করতাছি।’

রাস্তার ইট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী মো. সোহাগ বলে, ‘বৃষ্টির দিনে কাদার রাস্তা দিয়া স্কুলে যাইতে খুব কষ্ট হয়। তাই আমরা হ্যাগো (বড়দের) লগে রাস্তার কাজ করছি।’ অভিন্ন কথা বলে দক্ষিণ বিলবিলাস দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী মো. জুয়েল ও হোসনাবাদ দারুস ছালাম মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. হাসান। প্রত্যেক শিশুই তখন অনেকটা কান্ত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল সদর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি (সদস্য মেম্বার) জালাল আহম্মেদ সিকদার এ ঘটনাকে ‘ভালো উদ্যোগ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দ দিয়ে একবার সড়কটির কিছু মাটির কাজ করানো হয়েছিল। এখন তাঁরা নিজেদের অর্থায়নে ইট দিয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করছেন।






মন্তব্য চালু নেই