মেইন ম্যেনু

চাঁদা বকেয়া: বিএনপিতে কালো তালিকায় কয়েকশ নেতা!

মাসিক চাঁদা পরিশোধে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মুখে তাগাদা, তিন দফা চিঠি দিলেও আদায় হচ্ছে না বকেয়া। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চাঁদা আদায় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের তিনি বকেয়া আছে এমন নেতাদের নাম কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্যমতে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির কয়েকজনসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতার চাঁদা পরিশোধ আছে। অথচ দলটির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৮৬ জন।

চাঁদা দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্যরা। এদের প্রায় সবাই বিরোধী দলে থাকাবস্থায় পাঁচ বছরে কোনো চাঁদা দেননি। এমনকি পরেও পরিশোধ করেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তিনি বলেন, ‘নিয়মিত চাঁদা দেয়া উচিত। চাঁদা পরিশোধ নিয়ে অলসতা ঠিক নয়। কারণ সদস্যদের চাঁদা দিয়ে দল চলে, বিএনপির মতো দলে তো অনেক খরচ’।

নিজের চাঁদা কয়েকমাস পর পর পরিশোধ করেন এমনটা জানিয়ে মাহবুব বলেন, ‘এজন্য দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের আর একটু তৎপর হতে হবে। আর হামলা মামলার কারণে অনেক নেতা ঘরছাড়া এটাও বকেয়া পড়ার কারণ’।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘মূলত অলসতার কারণে চাঁদা বকেয়া পড়ছে। তবে যখন যারা যেভাবে পারে পরিশোধ করে। আমি নিজেও যখন পার্টি অফিসে যাই একত্রে কয়েক মাসের চাঁদা দিয়ে আসি। তবে বকেয়া রাখা ঠিক না’।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রতি সদস্যের মাসিক চাঁদা এক হাজার টাকা। পাঁচশ টাকা চাঁদা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার নেতাদের। সম্পাদকের চাঁদা তিনশ টাকা, সহ-সম্পাদকের ক্ষেত্রে দুইশ টাকা এবং সদস্যদের ক্ষেত্রে একশ টাকা মাসিক চাঁদা। তবে নির্বাহী কমিটিতে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন তাদের জন্য ছিল এক হাজার টাকা।

দলের শীর্ষ নেতাদের চাঁদা আদায়ের জন্য দপ্তর থেকে লোক পাঠানো হয়। তাদের যাতায়াত খরচসহ চাঁদা পরিশোধ করার নিয়ম রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া অন্য নেতারা নিজেদের সুবিধামত কখনো ব্যক্তিগতভাবে আবার কখনো লোক মারফত চাঁদা পরিশোধ করে থাকেন।

এদিকে নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করতে না পারার জন্য নেতারা অজুহাত হিসেবে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, সরকারের মামলা ও দমন নিপীড়নের কারণে অনেকের পক্ষে মাসিক চাঁদা দেয়া সম্ভব হয়নি।

দলের একটি সূত্রের খবর, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রায় ৯ লাখ টাকা বকেয়া। দলের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশত নেতা ২০০৯ সালের পরে কোনো মাসিক চাঁদা দেননি।

নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল নেতার ধারণা বকেয়া চাঁদার পরিমাণ অর্থকোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ পর‌্যন্ত তিনবার কেন্দ্রীয় নেতাদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। সবশেষ গত জুন মাসে ৭ জুলাই পর‌্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে চিঠি দেয়া হয়। তাতে তেমন সাড়া না মিললেও কেউ কেউ অবশ্য একত্রে কয়েক মাসের চাঁদা পরিশোধ করেছেন।

যদিও দপ্তর সূত্রে এমন তথ্যের সঙ্গে একমত নন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যাদের বেশি দিন বকেয়া ছিল তাদের অনেকে কয়েক মাসের টাকা একত্রে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারণ দুই হাজার টাকার আগ পর‌্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। এর বেশি হলে ওই নেতার মোবাইলে এমএসএস পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেয়া হয়’।

শাহীন বলেন, ‘যেখানে দলের চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করেন সেখানে অন্যদের তো বাকি রাখার সুযোগ নেই। কারণ চাঁদার টাকায় দপ্তর চলে, এখানকার কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা দেয়া হয়। কিন্তু যেখানে নেতারা ঘরে থাকতে পারে না সেখানে নিয়মিত কিভাবে চাঁদা পরিশোধ করবে। অনেকে পরিশোধ করে ফেলছে। বাকিরা যোগাযোগ করছে’।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই