মেইন ম্যেনু

চাটমোহরে পানি নিষ্কাশনের উৎস মুখে অবৈধ স্বোঁতিবাধ দিয়ে মাছ নিধন

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলের অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর খাল-বিল, নদী-নালায় অবৈধভাবে অর্ধশত স্বোঁতিবাধ স্থাপণ করে মাছ নিধন চলছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মৎস্য বিভাগের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এ সকল স্বোঁতিবাধ স্থাপণ করেছেন। এই স্বোঁতিবাধের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ ছেঁকে তোলা হচ্ছে। এতে করে চলনবিলের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছাইকোলা, শিয়ালগাড়ি, নটাবাড়িয়া, কিনু সরকারের জোলা, চিনাভাতকুর, হান্ডিয়াল, মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ সকল স্বোঁতি বাঁধ স্থাপণ করা হয়েছে। বিল ও নদীর পানি নেমে যাবার সময় স্বোঁতিবাধ স্থাপণ করে মৎস্য নিধন যজ্ঞে নেমে পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাটমোহর উপজেলার চর-ছাইকোলা পয়েন্টে ছাইকোলা ফকির পাড়া গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত বাস্তুল মোল্লার ছেলে কালাম হোসেন, হান্ডিয়াল কৃষি কলেজের সামনে শফিকুল, ছাওয়ালদহ গোপাল হলদার, চরনবীন এলাকায় জাবেদ, কুমিল্লি এলাকায় আব্দুল ওহাব ও হয়দেব হলদার, সমাজ মিয়াপাড়া জোলায় ওমরেশ ও স্বপন, মির্জাপুর ছরিদুল ইসলাম, বওসা ঘাটে আনন্দ হলদার, কুকড়াগাড়ী পয়েন্টে শহিদুল ইসলাম, চিনাভাতকুর সাইফুল ইসলাম, গুমানী নদীতে সাইদুল ইসলাম, মির্জাপুরে খোদাবক্স, নটাবাড়িয়ায় হোসেন মেম্বার, মুকুল মেম্বার, কাটেঙ্গায় সাইফুল, মোস্তফা স্বোঁতি বাঁধ স্থাপণ করে মৎস্য নিধন করছেন। বিল অথবা নদীর মাঝে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে মাঝের একটি রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়। সৃষ্টি হয় প্রবল ¯্রােতের। এটাই স্বোঁতি বাঁধ। স্্েরাতে জাল পাতা হয়। সমস্ত মাছ জালে এসে জমা হয়। স্বোঁতিবাধ স্থাপণের ফলে বিলের পানি দ্রুত নামতে পারে না।

ফলে জমি দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকে। এতে করে কৃষক সময় মতো রবিশস্য আবাদ করতে পারছেন না। এভাবে মাছ ধরার ফলে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। আরোও জানা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এসব স্বোঁতি জাল পেতেছেন। ফলে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা, গম ও ভুট্টাচাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, চলনবিলের বিস্তৃীর্ণ এলাকার পানি গুমানী নদী, বড়াল, চিকনাই, করতোয়া, কাটাবাড়ী, বেশানী ও আত্রাই নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। অক্টোবর মাসের শেষ ভাগে এসে বিলের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকা জেগে ওঠে। জেগে ওঠা এসব নরম পলি মাটিতে কৃষক ছিটিয়ে সরিষা, গম ও ভুট্টা, পিঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি রোপণ করে থাকে। এতে করে চলনবিলের কৃষক বাড়তি আবাদ সুবিধা ভোগ করে।

কিন্তু এবছর পানি নিষ্কাশিত হওয়ার উৎস মুখ তাড়াশের কুন্দইল, কাটাবাড়ী, কুশাবাড়ী, ধামাইচের জয়নাল হাজীর বাড়ীর কাছে, চরকুশাবাড়ী বড়ঘাটে স্বোঁতি জাল স্থাপণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে অবৈধ ওই স্বোঁতি জাল উচ্ছেদ করে চলনবিলের পানি নিষ্কাশনের দাবি জানিয়েছেন বিলাঞ্চলের শতশত কৃষক।

ফলে চলনবিলের কুন্দইল, ধাপতেতুলিয়া, ভেটুয়া, পতিরামপুর, মাকরশন, কামারশন, দিঘিসগুনা, লালুমাঝিড়া, খরখরিয়া, সাতানদিঘিসহ নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুরের খুবজীপুর ইউনিয়ন এলাকা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা এতে হতাশ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, চলনবিলে যুগ যুগ ধরে শুকনো মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ করে আসছে কৃষকেরা। কিন্তু গত প্রায় ৬/৭ বছর ধরে কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাসে শীতকালীন মৌসুমী বিনা চাষে সরিষা, রসুন, পিঁয়াজ ও ভুট্টার আবাদ করে বাড়তি লাভবান হচ্ছেন।

কিন্তু চলনবিলের পানি নিষ্কাশনের উৎস মুখে স্বোঁতি স্থাপন করে মাছ ধরার কারণে জমি থেকে যথা সময় পানি নামতে পারছে না। একাধিক সূত্র মতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এ সকল বাধ দিয়ে মাছ নিধন করছে। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রওশন আলম জানান, স্বোঁতি বাধ দিয়ে পানি বাধাগ্রস্ত করলে রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হবে।

এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা সুমী সম্প্রতি বিভিন্ন বিলে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি স্বোঁতিবাধ অপসারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।






মন্তব্য চালু নেই