মেইন ম্যেনু

চাপ কমানোর জাদুকরী উপায়

দ্রুত অগ্রসর বিশ্বে বসবাস আমাদের। প্রতিনিয়ত কাজ, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় আমাদের।

চাকরির পদোন্নতির জন্য অধীর অপেক্ষা, কাজের পর্যাপ্ত প্রশংসা না পাওয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, বাচ্চাদের অসুস্থতা, প্রিয়জনের অসুস্থতা বা মৃত্যু ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আমাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়।

এই ধরণের চাপ আপনার মন, আচরণ ও মনোভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। চাপ তৈরি হওয়ার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে অস্থির বা অস্বাভাবিক জীবনযাপন।

আমরা ইচ্ছে করেলেই আমাদের জীবন থেকে সামগ্রিক চাপ বাদ দিয়ে ফেলতে পারি না। তবে চেষ্টা করলে এর ক্ষতির মাত্রাটা কমিয়ে আনতে পারি। চাপ কমাতে নিচের সহজ কিছু কৌশল অবলম্বন করে দেখতে পারেন। এতে করে আপনার মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

১. দীর্ঘ শ্বাসপ্রশ্বাস নিন: জন্মের ক্ষণ থেকেই আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছি। তবে সঠিক উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস নিলে এবং ছাড়লে আপনাকে আরামই দিবে না বরং চাপ কমিয়ে কর্মশক্তি বৃদ্ধি করবে। যদি আপনি ইয়োগা বা ধ্যান করতে না পারেন তাহলে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম চালিয়ে যেতে পারেন। গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, ধীরে ধীরে ছাড়ুন। পর্যায়ক্রমে পাঁচ ও দশ সেকেন্ড শ্বাস রাখার চেষ্টা করুন।

২. ইয়োগা: চাপ প্রশমনে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে ইয়োগা। কারণ ইয়োগা হচ্ছে ধ্যান এবং ব্যায়ামের সমন্বয়। এটি আপনার মন ও শরীর শক্তিশালী করবে এবং পেশী স্বাভাবিক রাখবে। বড় বড় তারকারাও চাপ কমাতে ইয়োগা করে থাকেন।

৩. কল্পনা: কল্পনা বা দিবাস্বপ্ন আপনার চাপ কমাতে ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। আপনি যখন চাপে থাকবেন তখন চেয়ারের হেলান দিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ রাখুন। ধীরে ধীরে এবং গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। সাগর, পাহাড়, সমুদ্র, ঘন সবুজ, নিস্তব্ধ বা শান্ত কোনো স্থান বা আপনার পছন্দের কোনো জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন। দেখবেন জাদুর মত আপনি নিজেকে অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে গেছেন। এই কৌশলটি আপনার চাপ কমাবে খুব দ্রুত।

৪. সংগীত: উচ্চ শব্দের গান না শুনে শান্ত প্রকৃতির গান শুনুন। ধীরগতির গান আপনার চাপ কমাতে সহায়তা করবে। চোখ বন্ধ করে কমপক্ষে ২০ মিনিট গান শুনুন। ইচ্ছে করলে দেশি-বিদেশি যন্ত্র সংগীতও শুনতে পারেন।

৫. অ্যারোমা থেরাপি: সারাদিনের ক্লান্তির পর হালকা গরম পানিতে গোসল অন্যরকম এক অনুভূতি তৈরি করবে। কিছু সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। তাছাড়া ফুলের সুবাসযুক্ত তেল আপনার মন এবং শরীর উভয়েরই প্রশান্তি দিতে পারে। ভ্যানিলা এবং দারুচিনি গন্ধযুক্ত তেল আপনার চাপ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্পা এবং অ্যারোমা থেরাপিতে ব্যবহৃত তেল বেশিরভাগ সময়ই শরীর ম্যাসাজে ব্যবহৃত হয়।

৬. পোষা প্রাণি: আপনার যদি পোষা কুকুর, বিড়াল, বা মাছের অ্যাকুরিয়াম থাকে তাহলে তাদের সাথে সময় কাটান দেখবেন অনেকাংশেই আপনার মানসিক চাপ কমে গেছে। আদরের কুকুরছানা বা বিড়ালছানাটি শুধু তাদের প্রতি আপনার ভালোবাসাই তৈরি করবে না আপনার মানসিক শান্তিও তৈরি করবে।

৭. পাওয়ার ন্যাপ: যখনই প্রচণ্ড চাপ অনুভব করবেন তখনই ২০ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে নিতে পারেন। যা আপনার মানসিক ও শারীরিক চাপ অনেকাংশেই কমাবে।

৮. গরম পানীয়: চা বা কফি শুধু আপনার উপভোগের সঙ্গী নয় আপনার প্রশান্তির জন্য ভাল কাজ করে। ক্যাফেইন চাপ কমিয়ে আপনার মানসিক অবস্থারও উন্নতি করে। তবে বেশি পরিমাণে চা বা কফি পান আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণও হতে পারে। যারা চা বা কফি কোনোটাই খান না তার এক কাপ গরম চকোলেট খেতে পারেন।






মন্তব্য চালু নেই