মেইন ম্যেনু

সাগর-রুনি হত্যা মামলা

চার বছরেও ফুরোয় না সেই ৪৮ ঘণ্টা

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আদৌ হচ্ছে বলেই মনে করেন না মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।

আজ বৃহস্পতিবার এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চার বছর পূর্ণ। চার বছর পূর্তিতে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাথে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন নওশের আলম রোমান।

শুরুতেই তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই আছে। তদন্তের কিছুই আমরা দেখি না।’

তাহলে মামলাটি নিয়ে এখন আপনারা কি ভাবছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত আদৌ হচ্ছে বলেই মনে হয় না। চার বছরেও কোন প্রকার আপডেট আমাদের কাছে নেই। আমরা জানতেও পারি নাই কিছু হয়েছে কি না।’

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কি না বা করেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘না, তাদের সাথে একসময় যোগাযোগ করতাম। তাদের সাথে ছিলামও। তিন চার মাস আগে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে, আমরা কিন্তু জানি না। গত (মঙ্গলবার) উনি আসছিলেন। ওনার সাথে পরিচয় হয়েছে। র‌্যাব কিছু বলেও না আমাদেরকে। যার জন্য হতাশা থেকে আর কিছু জিজ্ঞাসাও করা হয় না।’

বৃহস্পতিবার এ মামলাটিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতে বাদী নতুন কোন কিছু না জানতে পারায় বলা যায় এ তারিখেও চার্জশিট দাখিলের মতো কোনো কিছু হচ্ছে না।

গত বছরের ১৬ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালত সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন বিচারক।

গত ২০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেছ আলী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে মামলায় জব্দ আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য গ্রেফতার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে আদালতকে জানান। ওইদিন তিনি আরও জানান এ বিষয়ে আংশিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রতিবেদন ও তদন্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যথাশিগগির সম্ভব আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত গত ৪৮ মাসে কমপক্ষে ৩০ বারেরও অধিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত তদন্তে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, নিহতের আত্মীয়স্বজন, নিহতদের অফিসের সহকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিসহ মোট ১৫০ জন ব্যাক্তি জবানবব্দি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এ মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের মধ্যে তানভীর জামিনে আছেন।

ওই হত্যাকান্ডের ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৫ আসামি যথাক্রমে মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুণ, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড নেওয়া হয়।

ওইদিনই আরও দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে।

র‌্যাবের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির লাশ তোলা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে কোনো নেশাজাতীয় খাবার বা পানীয় বা কোনো বিষের আলামত পাওয়া যায়নি।

এরপর ২০১২ সালের ৭ জুন থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জব্দকৃত আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য ৮ আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়ের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই