মেইন ম্যেনু

চার বছরেও শুরু হয়নি ডেসটিনির দুই মামলার বিচার

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং মামলা দায়েরের প্রায় চার বছর পার হতে চললেও শুরু হয়নি আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য।

বার বার সময়ের আবেদন ও অধিক সংখ্যক আসামি হওয়ার কারণে অভিযোগ গঠন না হওয়ায় আলোচিত মামলা দুটির মূল বিচার কার্যক্রম এগোচ্ছে না।

মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিই চলছে দেড় বছর ধরে। তারপরও শেষ হয়নি অভিযোগ গঠনের শুনানি। এরই মধ্যে ২৭ কার্যদিবস অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়েছে ।

সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষ আবার শুনানির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ২৯ মার্চ ফের শুনানির দিন ধার্য করেন। ২৯ মার্চও মামলার শুনানি হয়নি। সর্বশেষ মামলা দুটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আগামী ৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। এভাবেই কালক্ষেপণ হচ্ছে মামলার বিচার কাজে।

সূত্রে জানা গেছে, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমীন নিজেই চান মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হোক।

সূত্র জানায়, রফিকুল আমীন বলেছেন, ‘বিনা বিচারে প্রায় চার বছর কারাগারে আটক রয়েছি। বিচারে অভিযুক্ত হলে কারাগারেই থাকব আর নির্দোষ হলে তো মুক্ত হব। এভাবে কারাগারে আর বন্দি থাকতে চাই না।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর। এরপর শুনানির জন্য ২৭টি তারিখ নির্ধারণ করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। প্রায় প্রতি তারিখেই আংশিক শুনানি করে সময় চেয়ে আবেদন করেন উভয় পক্ষের আইনজীবী।

দুদকের আইনজীবী (পিপি) মীর আহম্মেদ সালাম এ বিষয়ে বলেন, ‘ডেসটিনির দুই মামলায় খুব দ্রুত অভিযোগ গঠন করা হবে। মামলায় আসামি সংখ্যা বেশি হওয়ায় শুনানিতে সময় লাগছে। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আংশিক শুনানি করে আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করেন। এ কারণে মামলার বিচার এখনো শুরু করা যায়নি। ’

আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘ডেসটিনির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত দুই মামলার আসামির সংখ্যা ৫১ জন। আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির সময় বেশি লাগছে। এ কারণেই অভিযোগ গঠন শুনানিতে একটু সময় বেশি লাগছে।’

এামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সোসাইটির বোর্ডসভায় অনুমতি না নিয়ে সদস্যদের অগোচরে প্রলোভন দেখিয়ে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন লিমিটেড গ্রুপের পরিচালকরা বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ডেসটিনির পরিচালকরা ওই সব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন, যা আইনের পরিপন্থী।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম প্রায় চার হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) অভিযোগে ডেসটিনির বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৪ সালের ৪ মে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে ডিটিপিএল ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ ৫১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলা দুটির মধ্যে একটিতে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আর অন্যটিতে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। দুটি মামলায় একই ব্যক্তি একাধিকবার আসামি হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা ৫১।

অভিযোগপত্রের ৫১ আসামির মধ্যে ৪৬ আসামি পলাতক। মামলার আসামিদের মধ্যে এমডি মো. রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম , মো. জিয়াউল হক মোল্লা ও সাঈদুল ইসলাম খান (রুবেল) কারাগারে আছেন । আর একমাত্র আসামি লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ জামিনে আছেন।

মামলার পলাতক আসামিরা হলেন-ডেসটিনির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, ফারাহ দীবা, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এসএম আহসানুল কবির, জুবায়ের হোসেন, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, আজাদ রহমান, মো. আকবর হোসেন সুমন, মো. সুমন আলী খান, শিরীন আকতার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মো. মজিবুর রহমান, ড. এম হায়দারুজ্জামান, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কাজী মো. ফজলুল করিম, মোল্লা আল আমীন, মো. শফিউল ইসলাম, সিকদার কবিরুল ইসলাম, মো. ফিরোজ আলম, ওমর ফারুক, সুনীল বরণ কর্মকার ওরফে এসবি কর্মকার, ফরিদ আকতার, এস সহিদুজ্জামান চয়ন, আবদুর রহমান তপন, মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এসএম আহসানুল কবির (বিপ্লব), এএইচএম আতাউর রহমান রেজা, গোলাম কিবরিয়া মিল্টন, মো. আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, একেএম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, মো. দেলোয়ার হোসেন, মিসেস জেসমিন আক্তার (মিলন) ও মো. শফিকুল হক।






মন্তব্য চালু নেই