মেইন ম্যেনু

চাহিদা মেটাতে সৌর বিদ্যুতে বিশেষ জোর

বিদ্যুতের চাহিদার মেটাতে সৌর বিদ্যুতের উপর জোর দিচ্ছে সরকার। এ জন্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্লান্ট স্থাপনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেনীর সোনাগাজীতে এক হাজার একর এলাকাজুড়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। এ জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এরপর সিরাজগঞ্জে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনুমোদনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে যাচাই করে শিগগিরিই অনুমোদন দেয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, চলতি অর্থবছর অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌরশক্তি) উৎপাদন করার দু’টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে ৭.৬ মেগাওয়াট (পিক) গ্রিড কানেকটেড সোলার ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যতম। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে একশ মেগাওয়াট গ্রিড কানেকটেড সোলার ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কমিশন জানায়, সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। যার মধ্যে সরকারের অর্থায়ন থাকবে ১২২ কোটি ২৮ লাখ ২ হাজার টাকা। বাকি ২ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বাস্তবায়নকারি সংস্থা নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকো) দেবে।

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু ব্রিজের কাছের সয়েদাবাদ ইউনিয়নে স্থাপন করা হবে প্রকল্পটি। চলতি বছর অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করা যাবে।

পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ উইংয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, সিরাজগঞ্জের প্রকল্পটি ২ বছর মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি)। সরকারি অর্থের ক্ষেত্রে এমটিবিএফ এ বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে না পারলে এতো বেশি সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদিত হলেও কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। ফলে প্রকল্প মেয়াদ ও ব্যয় দুই-ই বাড়বে, যা কাম্য নয়।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে ৭.৬ মেগাওয়াট (পিক) গ্রিড কানেকটেড সোলার ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দূষণমুক্ত পরিবেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌরশক্তি) উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় রাখা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ বা ২ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সূত্র মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি বিদ্যুৎ। দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লান-২০১০ অনুযায়ী সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জ্বালানির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে তেল, গ্যাস, কয়লা, পারমাণবিক শক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। সে অনুযায়ী, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনাও রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই