মেইন ম্যেনু

চিকিৎসার নামে ভণ্ড ফকিরের ধর্ষণ, বিয়ের ৫ মাসে অন্তঃসত্ত্বা [ভিডিও]

চিকিৎসার নামে মাদারীপুরের শিবচরে এক লম্পট ভণ্ড ফকিরের বিরুদ্ধে বহু মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। শেষমেশ চিকিৎসার নামে নবম শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর স্বামীর ঘরে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘর ভাঙে নববধূ ওই মেয়েটির।

এ ঘটনায় মেয়েটি থানায় মামলা করলে ওই ভণ্ড ফকিরের সব কাহিনী বের হয়ে আসে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ভণ্ড ফকির তাজেল মুন্সীর ফাঁসি দাবি করেছে এলাকাবাসী।

উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ গ্রামের উৎরাইল দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী অনেক দিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিল। এ অবস্থায় তার মা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের এক ফকিরের চিকিৎসার কথা জানতে পারে। গত প্রায় ৫ মাস আগে মাদ্রাসাছাত্রী মেয়েটিকে নিয়ে তার মা দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগরা পুকুরপাড় গ্রামের কথিত ফকির তাজেল মুন্সীর (৫৫) কাছে নিয়ে যায়। ফকির তাজেল মুন্সী প্রথম দিন মেয়েটিকে চিকিৎসা হিসেবে পানি পড়া দেয়।

এর কয়েকদিন পরে তাজেল সাদেকাবাদ গ্রামে মেয়েটির বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে পেটে মালিশ করার জন্য তেল পড়া দিয়ে মা থাকায় ফিরে আসে। এর কয়েকদিন পর আবারও তাজেল চিকিৎসার নামে ওই বাড়িতে গিয়ে নিজেই মেয়েটিকে মালিশ করে। মালিশ করার সময় মেয়েটির মায়ের মোবাইলে বিদেশে থাকা ভাই ফোন করলে সে ঘরের বাইরে চলে যায়।

এক পর্যায়ে তাজেল মেয়েটিকে ধর্ষণ করে এবং এটিই চিকিৎসা বলে কাউকে না জানাতে বলে। লজ্জা ও ভয়ে মেয়েটি এ ঘটনা তার কাউকে বলেনি। এ ঘটনার প্রায় ৩ মাস পর দত্তপাড়ার এক মুদি দোকানির সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে হয়।

বিয়ের প্রায় ২ মাস পর শারীরিকভাবে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে তার স্বামী মেয়েটিকে নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করালে মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ধরা পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটি তার স্বামীকে ফকিরের ওই ধর্ষণের বিষয়টি জানায়।

ঘটনা শুনে মেয়েটিকে তালাক দেয় তার স্বামী। ২৮ ডিসেম্বর মেয়েটি দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে ওই লম্পট ভণ্ড ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বুধবার বিকালে ফকির তাজেলকে গ্রেফতার করে।

এরপরই বের হয়ে আসে চিকিৎসার নামে বহু মেয়েকে ধর্ষণের অজানা সব তথ্য। চিকিৎসার নামে মেয়েদের সম্ভ্রমহানিসহ নানা অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে এলাকাবাসী। শিবচর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ফকিরকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন






মন্তব্য চালু নেই