মেইন ম্যেনু

চিরতরে ঝেড়ে ফেলুন স্ট্রেস এই কৌশলে

নাগরিক কর্মময় জীবনে স্ট্রেস যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। সামাজিক জীবনে নিরাপত্তার অভাব, কাজের চাপ, ব্যক্তিজীবনে সম্পর্কের টানাপোড়েন, সব কিছু সামলে চলা, সবার মন রেখে চলা সব মিলিয়ে আমরা যেন আর খুঁজে পাই না আমাদের নিজেকে। সবসময়ই একটা দুশ্চিন্তা, সতর্কতা আমাদের স্ট্রেসড করে রাখে।

জীবনের নেতিবাচক প্রতিটি বিষয়ই সত্যি। কিন্তু সব স্ময় নেতিবাচকতা যে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলতে চায় আমাদের। আমরা যদি চাই এর মাঝেও ভাল থাকতে পারি, খুঁজে নিতে পারি ইতিবাচকতা। ৫টি উপায়ে থাকতে পারি স্ট্রেস ফ্রি –

১। স্ট্রেস তৈরি করে এমন বিষয় থেকে দূরে থাকুন
আপনি চাইলেই আপনার বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু আপনি স্ট্রেস তৈরি করে এমন বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

প্রথমত,
অনেক সময় আমাদের স্ট্রেসের মূলে থাকে দুশ্চিন্তা। আমরা এমন সব কাজ করার ব্যপারে কথা দিয়ে ফেলি যেগুলো আসলে আমরা করতে চাই না বা আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। এমন কাজের দায়িত্ব আমাদের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে একই সাথে প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায় আত্মসম্মানের। দায়িত্ব গ্রহণের সময় সচেতন হন। প্রয়োজনে ‘না’ বলুন।

দ্বিতীয়ত,
স্ট্রেসের কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট করে দিন। অর্থাৎ, কাজ নিয়ে চাপে না থেকে বরং একটা পরিকল্পনা করুন। কিভাবে কাজটি শেষ করবেন, কোন কাজ আগে করবেন, সময় কতটা নেবেন ইত্যাদি বিষয়গুলো ঠিক করে ফেলুন। দুশ্চিন্তা না করে আপনার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ণ করুন। দেখবেন, কাজ আপনাকে স্ট্রেস দিচ্ছে না। বরং আত্মবিশ্বাসী করছে, গর্বিত করছে।

২। চিন্তা, কথা, কাজকে ইতিবাচক করুন

ইতিবাচক চিন্তা
যে কোন স্ট্রেসফুল অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করার প্রথম এবং প্রধাণ শর্ত হল আপনাকে মন মানসিকতায় ইতিবাচক হতে হবে। কথা বলার সময় ‘হ্যাঁ’ সূচক কথা বলার অভ্যাস করুন। আপনার চাওয়াগুলোকে ‘হ্যাঁ’ সূচক করুন। যেমন, ‘আমি কিভাবে এত সকালে ঘুম থেকে উঠব?’ এই চিন্তা না করে ভাবুন, ‘আমি অবশ্যই ৬টায় উঠে যাব’। এভাবে সব কিছুকেই পজেটিভ ভাবা অভ্যাস করুন।

ইতিবাচক কথা
সবসময় কথা বলার সময় খেয়াল রাখুন, আপনি ‘না’ সূচক কিছু বলবেন না। আপনি ‘না’ বলতে চান এমন বাক্যেরও ‘হ্যাঁ’ সূচক ধরণ রয়েছে। যেমন- ‘আপনার কাছে কি এই পণ্যটি ভিন্ন রঙের হবে?’ উত্তরে ‘না, হবে না’ বলার পরিবর্তে বলুন, ‘এটি শুধু এই রঙ্গেরই হবে।’

ইতিবাচক কাজ
আপনার চিন্তা, কথা এবং কাজের সমন্বয় করুন। কখনও সেই কাজ করবেন না যা করার ক্ষেত্রে আপনার মন সায় দেয় না। বাস্তবতার সাথে নিজের আবেগকে একাত্ম করুন। তাহলে আপনাআপনি আপনার কাজ ইতিবাচক হয়ে যাবে।

৩। সৎ হন
অসৎ মানুষের চিন্তা অনেক। কারণ তাকে সারাক্ষণ ধরা পড়ার ভয়ে থাকতে হয়। কিন্তু আপনি যখন একজন সৎ মানুষ তখন কেউ সহজে আপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না। যে কোন সমস্যা নিয়ে আপনি নির্দ্বিধায় অনেক দূর পর্যন্ত লড়াই করতে পারবেন। এমন মানুষের জীবনে অযথা স্ট্রেস থাকে না। প্রশান্তিময় জীবন চাইলে ব্যক্তিজীবনে সৎ হন।

৪। খাটি মানুষ হন
প্রতিনিয়ত খাটি ব্যক্তিত্বের চর্চা করা দিনে দিনে আপনাকে নিজের কাছে একজন স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে দাঁড় করায়। দায়িত্ব নিয়ে নিজের কাজ করা, অন্যের জন্য সমস্যা তৈরি না করা, যতটুকু সামর্থ্য ততটুকু কাজ করা একজন মানুষের জীবনকে সহজ করে। কথায় এবং কাজে এক হওয়া আপনাকে অন্যের কাছে বিশ্বস্ত করে। এতে আপনার স্ট্রেসও কমে আসে। কারণ যত দ্বিচারিতা, তত দুশ্চিন্তা, তত ভয়!

৫। কৃতজ্ঞ হন
একটু শান্ত হয়ে যদি চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন, আপনার জীবনে যা যা নেই তার চেয়ে অনেক বেশী কিছু আপনার আছে। আমরা সবসময় যা নেই তা নিয়ে ভেবে নিজের সময়কে ক্ষতিগ্রস্থ করি। জীবনে অনেক কিছু পাই নি, পেতে হবে, না পেলে কিভাবে জীবন সার্থক হবে এসব চিন্তা করে স্ট্রেস বাড়াই। এসব চিন্তা বন্ধ করুন। এই সুন্দর পৃথিবীতে আপনি বেঁচে আছেন, আপনার জীবন আপনার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। এর জন্য কৃতজ্ঞ হন। কৃতজ্ঞ হন আপনার যা আছে তার সব কিছুর জন্য। ফোকাস করুন নিজের উপর। নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকুন সবসময়। নিজেকে ভালবাসুন। অকারণ স্ট্রেসকে ছুঁড়ে ফেলুন বাইরে।






মন্তব্য চালু নেই