মেইন ম্যেনু

চিরবিদায় নিলেন উরুগুয়ের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক

মারাকানা স্টেডিয়ামে কান পাতলে এখনো নাকি বোবা কান্নার শব্দ শোনা যায়। ১৯৫০ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল উরুগুয়ে। আর এই জয়ের নায়ক ছিলেন আলসিদেস ঘিগগিয়া। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে তার করা গোলেই সর্বনাশ হয়ছিল ব্রাজিলের। প্রায় দুই লাখ (১ লাখ ৭৩ হাজার) দর্শকদের চোখের জলে ভাসিয়েছিলেন ঘিগগিয়া। এবারও তিনি তার ভক্ত ও কাছের মানুষদের কাঁদিয়েছেন। তবে এ কান্না চিরবিদায়ের কান্না। বৃহস্পতিবার তিনি ৮৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘিগগিয়ার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্ত্রী বেয়াত্রিজ। ঘিগগিয়াই ছিলেন উরুগুয়ের সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের সর্বশেষ জীবিত সদস্য।

১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। সেবার ফাইনাল হয়নি, গ্রুপপর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল চারটি দল। শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত ব্রাজিল। স্বদেশের বিজয়োৎসবে অংশ নিতে সেদিন মারাকানায় হাজির হয়েছিল প্রায় দুই লাখ দর্শক।

ম্যাচের ৪৭ মিনিটে স্বাগতিক দলকে এগিয়ে দেন ফ্রিয়াকা। ৬৬ মিনিটে হুয়ান শিয়াফিনো সমতা ফেরালেও ব্রাজিলের ফুটবল-পাগল মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু ৭৯ মিনিটে সেই আশায় জল ঢেলে, মারাকানাকে স্তব্ধ করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন ঘিগগিয়া।

সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। ব্রাজিলের ফুটবল-ইতিহাসের এক দুঃখজনক অধ্যায়ে পরিণত ম্যাচটির নাম হয়ে যায় ‘মারাকানাজো’। আর ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল-বধের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ঘিগগিয়ার নাম।

পরবর্তী সময়ে এই রাইট উইঙ্গারকে বহু বার ‘মারাকানাজো’ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে। বলা যায় তার সাক্ষাৎকারের বড় অংশ জুড়েই থাকত ৬৫ বছর আগের সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ। ব্রাজিলের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া তেমনই এক সাক্ষাৎকারে ঘিগগিয়ার অমর উক্তি, ‘আজ পর্যন্ত মাত্র তিন জন ব্যক্তি মারাকানাকে স্তব্ধ করতে পেরেছেন পোপ, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা আর আমি!’

১৯৫০ বিশ্বকাপের ৬৫ বছর পূর্তিতে তিনিও নিজেও স্তব্ধ হয়ে গেলেন চিরদিনের জন্য। বিদায় কিংবদন্তি। বিদায় আলসিদেস ঘিগগিয়া।






মন্তব্য চালু নেই