মেইন ম্যেনু

চীনের ক্ষ্যাপা বাড়িওয়ালারা (ছবি)

চীন হলো সকল সম্ভব অসম্ভবের দেশ। একদিকে যেমন মাওসেতুংয়ের মতো উদার সমাজতন্ত্রীর দেশ এটা, অপরদিকে চিয়াং কাইশেকের মতো যুদ্ধবাজ কট্টর নেতারও দেশ এটা। ভৌগোলিকভাবে চীন বিশাল হওয়ার কারণে দেশটির একেক অঞ্চলে একেক সংস্কৃতির মানুষ বাস করে। বহুধারার এই সংস্কৃতির মিলনমেলায় চীনকে পুঁজিপতি সমাজতন্ত্রী দেশ বানাতে কম কষ্ট করতে হয়নি দেশটির নীতি নির্ধারকদের। আর এই নগর সংস্কৃতির উন্নয়ণ করতে গিয়ে চীনকে কিছু আইন তৈরি করতে হয়েছে নিজ দেশবাসীদের স্বার্থে। ঠিক তেমনই একটি আইন হলো, যদি কখনও সরকারি কোনো অবকাঠামোগত কাজে কোনো চীনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি এসে পরে, সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হবে, জোরাজুরি করা যাবে না।

এই আইনের ফলে চীনা অনেক ভূস্বামীরাই সরকারি অনেক উন্নয়নকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ঠিকই টিকিয়ে রেখেছেন তাদের বসতবাড়ি থেকে শুরু করে নিছক জমি পর্যন্ত। গোটা চীনে এই ভূস্বামীদের বাড়িগুলোকে বলা হয় ‘নেইল হাউস’। তারা সরকারের তরফ থেকে দেয়া অর্থনৈতিক ও সম্পত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রথমদিকে চীন সরকার তার নিজের তৈরি আইন নিয়েই বেশ বিপাকে পরে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চীনা সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক যদি তার ভূমি বিক্রি করতে রাজি না হয়, তাহলে সেই ভূমি এড়িয়ে নির্মান কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

শুরুর দিকে অনেক চীনাই এই নতুন আইনটির প্রতি বিরোধীতা করেছিলেন। কিন্তু উন্নয়নের জোয়ারে সেই প্রতিরোধ টিকতে পারেনি। উল্টো ওই নেইল হাউস মালিকেরা হয়েছেন হাসির পাত্র। আওয়ার নিউজের পাঠকদের জন্য চীনের তেমনই কিছু নেইল হাউসের চিত্র তুলে ধরা হলো, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন’র সৌজন্যে।

2

চলতি বছরের ১৬ মে চীনের হেনান প্রদেশ থেকে এই ছবিটি তোলা হয়। সরকারি প্রনোদনা প্যাকেজ না মানায় তিনতলা একটি ভবনকে রাস্তার উপর রেখেই চলছে নতুন ছয় লেনবিশিষ্ট রাস্তার কাজ। নির্মান শ্রমিকদের দেয়া তথ্য মোতাবেক, রাস্তা নির্মানের সময়ও ওই বাড়ির মালিক তার বাড়িতেই ছিলেন এবং এখনও তিনি স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করছেন।

4

গুয়াঞ্জি প্রদেশের নান্নিং রোড থেকে তোলা হয়েছে এই ছবিটি। সরকারি প্রকল্পের মাঝখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন এই বাড়িটি সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও সফল হয়নি কর্তৃপক্ষ। শেষমেষ বাড়িটিকে রেখেই পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে হয়।

3

৬৭ বছর বয়সী হাস চাষী লু বাওগেন তার জীবদ্দশায় এই জীর্ণ দালানটি ত্যাগ করেননি। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে এই চাষীর সঙ্গে দীর্ঘ বচসার পর সরকার বাধ্য হয়ে এই বাড়িটি অধিগ্রহন থেকে সরে আসে। চীনের জিয়ানসু প্রদেশে ৭৫ বছর বয়সী ইয়াও বাওহুয়া তার বাড়িটি ধসে যাওয়ার পরেও জায়গা ছাড়তে রাজি হনননি তিনি।

5

6

7

8

9






মন্তব্য চালু নেই