মেইন ম্যেনু

চেহারা দেখে বোঝা যায় স্বাস্থ্যের যেসব অবস্থা

আপনার চেহারাই আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেয়। শুষ্ক ত্বক, ফাটা ঠোঁট ও বলিরেখার মত সাধারণ সমস্যাগুলো খুব সহজেই দূর করা যায়। কিন্তু কখনো কখনো এই লক্ষণগুলো হতে পারে নীরব কোন রোগের উপসর্গ। তাই ত্বকের কোন সমস্যা বিশেষত চেহারায় প্রকাশিত হয় এমন কোন লক্ষণকে সৌন্দর্য সমস্যা ভেবে বা বয়সকে দোষারোপ করে এড়িয়ে যাবেননা। ডাক্তার যখন কোন রোগীর চোখে চোখ রেখে কথা বলেন তখন শুধুমাত্র সংযোগ স্থাপনের জন্যই এমনটা করেন তা নয়। চেহারার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার সূত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। আসুন তাহলে জেনে নেই চেহারায় প্রকাশিত এমন কিছু উপসর্গের বিষয়ে যা স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত।

১। অসময়ের বলিরেখা
মুখে বলিরেখার উপস্থিতি কেউই পছন্দ করেনা। যদিও বয়স হলে এটা হওয়া অনিবার্য। কিন্তু অসময়ের বলিরেখা হওয়ার অর্থ হচ্ছে সঠিক ভাবে ত্বকের যত্ন না নেয়ার ফল। মহিলাদের ক্ষেত্রে অকালবার্ধক্যের বা বলিরেখা পড়ার প্রধান কারণ হল অস্টিওপোরোসিস। ফিনিক্স এর ক্রোনোস লঞ্জিভিটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর করা এক গবেষণায় জানা যায় যে, অসময়ের বলিরেখা ও ত্রুটিপূর্ণ হাড়ের ঘনত্ব মহিলাদের আর্লি মেনোপোজ দশার সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। এছাড়াও পানিশূন্যতার ফলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে গেলেও অসময়ের বলিরেখা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতির ফলেও এমন হতে পারে। ভিটামিন ডি এর মাত্রা অধিক হলেও ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে পারে।

২। ফেসিয়াল হেয়ার
মহিলাদের মুখে অবাঞ্ছিত চুলের উপস্থিতি খুবই বিব্রতকর হয়ে থাকে। এটি শুধু সৌন্দর্য সমস্যাই নয়, এটি হতে পারে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের জন্য। যার ফলে গর্ভধারণের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব অথবা অনিয়মিত পিরিওডের সমস্যা দেখা দেয়। হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণেও চেহারায় লোমের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। কিছু মহিলার ক্ষেত্রে হিরসুটিজম এর কারণেও মুখের অবাঞ্ছিত লোমের আধিক্য হতে দেখা যায়। স্টেরয়েডের অপব্যবহারের কারণেও এমন হতে পারে। তাই মুখের অবাঞ্ছিত চুল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ওয়াক্সিং, থ্রেডিং বা অন্য কোন বিউটি ট্রিটমেন্ট নেওয়ার আগে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৩। চূড়ান্ত শুষ্ক ও ফাটা ত্বক
জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। ময়েশ্চারাইজিং রুটিন মেনে চলা, হাইড্রেটেড থাকা ও সঠিক খাদ্যগ্রহণ করার পর ও যদি আপনার সারা শরীর শুষ্ক থাকে তাহলে এটি হতে পারে হাইপোথাইরয়ডিজম বা ডায়াবেটিসের কারণে। এই উভয় প্রকার সমস্যার কারণেই শরীর আর্দ্রতা হারায় ও ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। ধমনীর সংকীর্ণতা বা হৃদরোগের মত লুকানো কারণের প্রতিও ইঙ্গিত করে এই লক্ষণ, বিশেষ করে আপনার হাত ও পায়ের ত্বক যদি মাত্রাতিরিক্ত ড্রাই হয়ে যায় তাহলে। ধমনীর সংকীর্ণ হয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ কমে যায় বা বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং ত্বক নিস্তেজ ও ড্রাই হয় এবং ফেটে যায়। অ্যালার্জি বা সোরিয়াসিসের কারণেও এমন হতে পারে।

৪। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ হওয়া
ক্লান্ত হলে, ভয় পেলে বা বিব্রত হলে চেহারা লাল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার গাল অথবা নাক লাল হয়ে যাওয়া সিস্টেমিক লুপাস ইরাইদিমেটোসাস (SLE) কে নির্দেশ করে। এটি একটি অটো ইমিউন অবস্থাযা সারা শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে। মুখ লাল হওয়ার সাথে সাথে যদি ব্রণের প্রাদুর্ভাব হয় তাহলে তা রোসাসিয়ার লক্ষণ হতে পারে। রক্তনালীর বিবর্ধনের ফলে এই রোগ হয়। সেবোরোইক ডারমাটাইটিস এর কারণেও এমন হতে পারে যা পার্কিনসন্স ডিজিজের সাথে সম্পর্কিত।

৫। ঠোঁট ফাটা
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ঠোঁট ফাটা স্বাভাবিক। ভিটামিন বি এর ঘাটতি, ড্রাগ অ্যালার্জি, ডিহাইড্রেশন অথবা থাইরয়েডের কর্মহীনতার কারণেও এই সমস্যাটি হতে পারে। যদি ঠোঁট ফাটার সাথে শুষ্ক চোখ, শুষ্ক মুখ, শুষ্ক ত্বক থাকে ও জয়েন্টে ব্যথা হয় তাহলে Sjogren Syndrome এর কারণে হতে পারে। যা একটি ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা।

৬। আঁচিল
সাধারনত আঁচিল অক্ষতিকর হয় এবং অনেকের জন্মগত জড়ুল থাকে। তবে এটি স্কিন ক্যান্সারের ও লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও এটি লিভার সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

৭। ফোলা মুখ
হার্ট অথবা কিডনির সমস্যার কারণে এটি হতে পারে যাকে ইডিমা বলে।
এছাড়াও চোখের পাতার উপরে হালকা হলুদ দাগ দেখা গেলে হৃদরোগের কারণে হতে পারে, চেহারায় অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে স্ট্রোক এর লক্ষণ, ঠোঁট বা নখে নীলাভ আভা দেখা দিলে হার্ট বা ফুসফুসের সমস্যাকে নির্দেশ করে, এনেমিয়ার লক্ষণ বোঝা যায় চেহারা ম্লান দেখালে, মোটা ঘাড় ও ছোট চোয়াল দেখে নিদ্রাহীনতার লক্ষণ বোঝা যায়, মুখের কোণায় ঘা দেখলে ভিটামিন বি এর ঘাটতি বুঝা যায়।






মন্তব্য চালু নেই