মেইন ম্যেনু

চোখের প্রেশার ও গ্লুকোমা সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

যখন কোন মানুষের চোখের ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার বৃদ্ধি পায় তখন সাধারণভাবে তাকে চোখের প্রেশার বলে। যাদের চোখের প্রেশারের সমস্যা থাকে তাদের পরবর্তীতে গ্লুকোমা হওয়ার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। চোখের প্রেশার কী? কীভাবে নির্ণয় করা হয়? কীভাবে গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন মুম্বাই এর অ্যাডভান্সড আই হসপিটাল এর কনসালটেন্ট(গ্লুকোমা এন্ড ক্যাটারেক্ট) ডা. রাজেশ মিশ্র। গ্লুকোমা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

আই প্রেশার কী?

ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার (IOP) বা চোখের প্রেশার হচ্ছে চোখের ভেতরের তরলের চাপ। যা পরিমাপ করা হয় মিলিমিটার মার্কারিতে (mmHg)। যদি এই প্রেশার ১২-২২ মিলিমিটার মার্কারিতে থাকে তখন তাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। চোখের প্রেশার মাপা হয় টনোমেট্রির মাধ্যমে। এটি গ্লুকোমার জন্য একটি স্ক্রিনিং টেস্ট।

আই প্রেশার বৃদ্ধি পেলে কী হয়?

যদি আই প্রেশার ২২ mmHg এর বেশি হয় তাহলে একে অস্বাভাবিক বিবেচনা করা হয় এবং তখন একে অকুলার হাইপারটেনশন বা গ্লুকোমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদি কোন ব্যক্তির IOP স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে কিন্তু তার মধ্যে গ্লুকোমার কোন লক্ষণ প্রকাশ না পায় তখন তাকে অকুলার হাইপারটেনশন বলে। আই প্রেশার বেশি থাকার পাশাপাশি গ্লুকোমার কিছু লক্ষণ ও যদি প্রকাশ পায় তাহলে তাকে গ্লুকোমা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

আই প্রেশার কী দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে?

আই প্রেশার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। যা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়না। এমন ক্ষেত্রে পেরিফেরাল দৃষ্টি প্রথমে আক্রান্ত হয়। এই পরিবর্তন খুব ধীরে ধীরে হয় বলে তা অলক্ষিতই থেকে যায়। যদি সঠিক সময়ে এটি চিহ্নিত করা না যায় তাহলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি প্রভাবিত হয়। এর ফলে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়। গ্লুকোমা প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা গেলে ঔষধ ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায় এবং অন্ধত্বকে বিলম্বিত করা যায়।

আই প্রেশার কম হলে কি গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকেনা?

আই প্রেশার ঠিকভাবে নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কর্নিয়ার পুরুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অকুলার হাইপারটেনশন ট্রিটমেন্টের এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, যাদের চোখের প্রেশার ২৪mmHg এবং কর্নিয়ার পুরুত্ব বেশি তাদের গ্লুকোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম, যাদের কর্নিয়া স্বাভাবিক বা পাতলা হয় তাদের চেয়ে। যেমন- যাদের কর্নিয়া পাতলা তাদের চোখের প্রেশার ২০mmHg দেখায়, কিন্তু আসলে তাদের প্রেশার ২৭ mmHg হতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। একইভাবে কর্নিয়া যদি মোটা হয় তাহলে চোখের প্রেশার ১৮mmHg দেখালেও তা হতে পারে ১২ mmHg। এজন্য আপনার চিকিৎসক আপনার কর্নিয়ার ঘনত্ব পরিমাপের জন্য পেসিমেট্রি টেস্ট করাতে পরামর্শ দেবেন এবং এর ফলাফলের উপর আপনার চিকিৎসা পরিচালিত হবে।

আই প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?

আই প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ গ্লুকোমার ধরণের উপর নির্ভর করে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ওপেন এঙ্গেল গ্লুকোমা কোন লক্ষণই প্রকাশ করেনা এবং ধীরে ধীরে ও ব্যথাহীন ভাবে অপটিক নার্ভকে প্রভাবিত করে। অপটিক নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আগে এটি কোন প্রকার লক্ষণই প্রকাশ করেনা এবং এর একমাত্র লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন যখন প্যারিফেরাল ভিসন বা প্রান্তীয় দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এঙ্গেল ক্লোজার গ্লুকোমা প্রকাশিত হয় ঝাপসা দৃষ্টির মাধমে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঝাপসা দৃষ্টি অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। আস্তে আস্তে ঝাপসা দেখার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, চোখের ভেতরে ও চারপাশে ব্যথা হয়, আলোর দিকে তাকালে এর চারপাশে রঙিন বর্ণ বলয় দেখা যায়, চোখ লাল হয়ে যায় এবং বমি হয়।

কীভাবে নিরাময় লাভ করা যায়?

গ্লুকোমা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয় তবে আই প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে অপটিক নার্ভকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়। রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে ডাক্তার চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন যেমন- প্রতিদিন আই ড্রপ ব্যবহার করা বা লেজার ট্রিটমেন্ট বা সার্জারি করা ইত্যাদি।

আই প্রেশার নিয়ন্ত্রণের কিছু টিপস :

– ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন- সবুজ শাকসবজি ও মাছ খেলে চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় কিন্তু গ্লুকোমা প্রতিরোধ করা যায় না।

– ওপেন এঙ্গেল গ্লুকোমার ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম করলে চোখের প্রেশার কমে

– ক্যাফেইন আই প্রেশার বৃদ্ধি করে। তাই ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ সীমিত করুন।

– একবারে অধিক পরিমাণে তরল খাবার খেলে আই প্রেশার অস্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই কিছুক্ষণ পর পর অল্প অল্প করে তরল পান করুন

– ঘুমের সময় মাথা উঁচুতে রাখলে ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার কমে। তাই এমন বালিশ ব্যবহার করুন যাতে আপনার মাথা ২০ ডিগ্রী উঁচুতে থাকে।

– আপনার চক্ষু ডাক্তারের নির্দেশিত ঔষধ ও আই ড্রপ সঠিক ভাবে ব্যবহার করুন, নাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে

চোখের প্রেশার বৃদ্ধি পাওয়াই গ্লুকোমার একমাত্র কারণ নয়। এটি শুধুমাত্র ঝুঁকির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই উচ্চমাত্রার আই প্রেশারের রোগীদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানোর জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ গ্লুকোমার সূত্রপাতের বিষয়টি জানার জন্য ও সতর্ক থাকার জন্য।






মন্তব্য চালু নেই