মেইন ম্যেনু

‘চোখ বেঁধে গুলি করেছে পুলিশ’

যশোরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আকবর আলীর (৩৮) দাবি, ‘আমি ডাকাত নই। অনেকের সামনে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে গুলি করেছে। আমি কৃষক, মাঠে-ঘাটে কাজ করি বলে জানালেও পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে।’ অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আকবর আলী দুর্ধর্ষ ডাকাত। ডাকাতি প্রস্তুতির সময় পুলিশ তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাইপগানসহ গ্রেপ্তার করেছে।

যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার শাফিন মাহমুদ বলেন, ‘মণিরামপুরে সোমবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। ডাকাতরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি ছুড়লে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগানসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আকবরকে আটক করা হয়।’

পুলিশের দাবি অনুসারে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চালকিডাঙ্গা গ্রামের একটি নার্সারিতে সোমবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পুলিশ অভিযান চালায়। তখন গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে এবং অন্যরা পালিয়ে গেলে ডাকাত আকবর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকবরের বক্তব্য পুরোটাই ভিন্ন।

গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গুলিবিদ্ধ বাম পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে আকবর। হাতে হ্যান্ডকাফ, দড়ি আটকানো বেডের সঙ্গে। রয়েছে পুলিশ প্রহরা।

আকবর বলে, ‘সোমবার সন্ধ্যায় পারদিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে গিয়েছিলাম পাঁচ কিলোমিটার দূরের রাজগঞ্জ মোড়ে। ঘুগরাইল গ্রামের মিজান ডেকেছিল। রাত ৮টার দিকে মোড়ের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে যখন পান খাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ পুলিশ আসে। কোনো কারণ ছাড়াই ধরে নিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন চালায়। এরপর আমার পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। আমি ডাকাত নই, কৃষক। মাঠে-ঘাটে কাজ করি জানালেও পুলিশ ছাড়েনি।’

আকবরের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘জাপান থেকে করিম সাহেব নামে এক ব্যক্তি মাঝেমধ্যে আমার বোন রাবেয়াকে ২০-৫০ হাজার টাকা পাঠান। প্রতিবেশী শহিদুলসহ কয়েকজন এ টাকার ভাগ চায়। টাকা না পেয়ে শহিদুল কয়েক দিন আগে আমার স্বামীর নামে ছিনতাই মামলা দেয়। এ মামলা ছাড়া আমার স্বামীর নামে অন্য কোনো মামলা নেই। শহিদুল পুলিশকে ঘুষ দিয়ে আমার স্বামীকে পঙ্গু করে দিয়েছে।’

এ অভিযোগ সম্পর্কে শহিদুল জানান, আকবর দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও ডাকাত। গুলির ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

মণিরামপুর থানার ওসি তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘আকবরের নামে তিনটি ডাকাতি, একটি গণধর্ষণসহ পাঁচটি মামলা আছে। সে দুর্ধর্ষ ডাকাত। আকবর ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য সত্য নয়।’






মন্তব্য চালু নেই