মেইন ম্যেনু

চোর নিয়ে বিপাকে মেয়র, চুরি হচ্ছে নতুন ডাস্টবিন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘পরিচ্ছন্ন বছর’ উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘সবুজ নগরী’র হিসাবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিতে বসানো হয়েছে মিনি ডাস্টবিন। নগরবাসী ডাস্টবিনগুলোতে বর্জ্য ফেললেও দুই মেয়রের এই মহতী উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ছিঁচকে চোর। রাতের আঁধারে বা দিবালোকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মিনি ডাস্টবিনগুলো। বেশ কিছু এলাকায় দিনে ডাস্টবিন দেখা গেলেও রাতে তা উধাও। গত কয়েকদিন দুই সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এই ডাস্টবিন চোর নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুই মেয়র। তবে চুরি ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। আর জনগণের সচেতনতা বাড়াতে পরিবেশবান্ধব পুলিশ তৈরির তাগিদ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

দুই সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫ হাজার ৭০০ মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার ডাস্টবিন লাগানো হয়েছে। উত্তর সিটিতে ৫ হাজার ডাস্টবিন বসানোর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এক হাজার লাগানো হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলতি মাসেই শেষ হবে। ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বিনের মধ্যে লিখেছেন, ‘আবর্জনাগুলো বিনে ফেললেই পরিষ্কার থাকবে আপনার শহর।’ আর উত্তরের বিনগুলোতে মেয়র আনিসুল হক লিখেছেন, ‘এখানে আবর্জনা ফেলুন। আমাদের প্রিয় শহর পরিচ্ছন্ন রাখি।’ পথচারীদের অনেকেই অভ্যাস

বদলে রাস্তার পাশের মিনি ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে শুরু করেছেন। কোনো ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সচেতন নাগরিকরা এখন খালি বোতল, চিপস কিংবা চকোলেটের মোড়ক ডাস্টবিনে ফেলছেন।

জানা যায়, যেসব স্থানে মানুষের ভিড় বেশি সেসব স্থানে ১৫০ মিটার পরপর ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে। আর যেসব স্থানে জনসমাগম তুলনামূলক কম, সেসব স্থানে আপাতত ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে ৩০০ মিটার পরপর। দুই সিটি করপোরেশনের মিরপুর, ফার্মগেট, মহাখালী, গুলশান, বনানী, টিএসসি, পল্টন, রামপুরা, কাকলী ও যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বসানো মিনি ডাস্টবিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নগরবাসীর অনেকেই চলতি পথে হাতের ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন এসব ডাস্টবিনে। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায় ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদকাসক্ত, টোকাই ও ছিঁচকে চোরেরা রাতের আঁধারে বা দিনে বিন খুলে নিয়ে ভাঙ্গাড়ির দোকানে বিক্রি করছে।

দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে আমরা অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর ঘোষণা করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে ৫ হাজার ৭০০ বিন স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কাজগুলোকে দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিনগুলো যদি কোনো ভাঙড়ির দোকানে পাওয়া যায়, তাহলে চোরকে সহায়তাকারী হিসেবে দোকানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দক্ষিণের মেয়র। ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, উত্তর সিটি এলাকায় শুকনো বর্জ্য ফেলতে রাস্তার পাশে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে। দুই মাসের মধ্যে এ ধরনের পাঁচ হাজার ডাস্টবিন বসানো হবে। তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে আশা করি পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরার আওতায় আসলে মনিটরিং করা সহজ হবে। তবে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, শুধু ডাস্টবিন বসালেই চলবে না। জনগণকে সচেতন করতে হবে। এ জন্য পরিবেশ কর্মী তৈরি করতে হবে। কাউন্সিলরদের কাজে লাগাতে হবে। মেট্রোপুলিশ বাহিনী দিয়ে সবুজ নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে ডাস্টবিনগুলো রক্ষার জন্য স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে এবং কমিটি গঠন ও সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর। দক্ষিণের এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াহিদুল ইসলাম মিল্টন বলেন, আমার এলাকা বিশেষ করে খিলগাঁও এলাকায় সিসি ক্যামেরায় সবকিছু মনিটরিং করা হয়। এ ছাড়া রাতে বিভিন্ন এলাকায় কড়া পাহারা থাকায় ছিঁচকে চোর বা মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারে না। একই সিটির একুশ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, শাহবাগ, টিএসসি এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় দোকানি, বাসিন্দাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। ডাস্টবিনগুলো যেন চুরি না হয় সেজন্য তাদের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।-বিডি প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই