মেইন ম্যেনু

ছাত্রদলে বিদ্রোহ, দায় বিএনপিরও!

ছাত্রদলের বিদ্রোহে বিএনপির দায় আছে বলে মনে করেন ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল। তার ভাষ্য,“পার্টি কখনো এসবের (বিদ্রোহ) বিরুদ্ধে সাসটেইনেবল, (টেকসই) দৃঢ় কোন অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। বরং ক্ষেত্রবিশেষে উল্টোটাই হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের কখনও কখনও পুরস্কৃতও করা হয়েছে। যে কারণে বার বার পার্টিকে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ”

বুধবার ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা তার ফেসবুক পেজে ছাত্রদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মন্তব্য করেন। মন্তব্যে ছাত্রদলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিদ্রোহের কারণ ও বিদ্রোহীদের নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভও প্রকাশ করেন ছাত্রদলের সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কমিটি হলেই বিদ্রোহের নামে বিশৃঙ্খলা। এমন অবস্থা চলতে পারে না, চলা উচিত নয়। এজন্য পার্টির উচিত অবিলম্বে যথাযথ একটি পদ্ধতি ঠিক করে দেয়া। যে পদ্ধতিতে অটোমেটিক্যালি নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। এটা এখন সময়ের দাবি।”

‘প্রসঙ্গ ছাত্রদল: ব্যথিত! মর্মাহত!! হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!!!’ শিরোনামে লেখা শহীদুল ইসলাম বাবুলের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

“ ঢাউস সাইজের ৭৩৬ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির আকার আয়তন দেখে, যারপরনাই হতাশ হয়েছি। আর যাই হোক ছাত্রদলতো আমাদের অস্তিত্বের সাথেই বিরাজমান।

ধারাবাহিকভাবে ছাত্রদলের ৬টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। ২ টি কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় খানিকটা জড়িতও ছিলাম। সঙ্গত কারণেই, এই সংগঠনের ভালো মন্দ আমার মধ্যে দারুনভাবে ক্রীড়া করে।

এখন যারা ছাত্রদল করছে, সকলেই আমার অনুজ। এদের বেশির ভাগই আমরা একসাথে কাজ করেছি। তাই সম্পর্কও দারুন নিবিড়। যে কারণে ছাত্রদল নিয়ে কথা বলা আমার জন্য বেশ বিব্রতকর।

কমিটি বা পদায়ন হলো কাজের মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি। সঙ্গত কারণেই কমিটি যখন হয় (সেটা যত ভালো বা মন্দই হোক) অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ, হতাশা বা বেদনা থাকে। তাই কমিটি হওয়ার পরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা খুব কঠিন।

কিন্তু গত কয়েকদিনে যা দেখেছি, তা দেখে সত্যিই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি জানিনা, বাট এমনও যদি হয়, কমিটি গঠনে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা বা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে, তারপরেও কি এই ধরনের প্রতিক্রিয়া মেনে নেয়া যায়?

পার্টি অফিস কি কারো ব্যক্তিগত প্রপার্টি ? কেন বারবার এই জড় পদার্থের উপরই হামলা ? খুব বেশি অর্থ খুঁজবার কি দরকার রয়েছে?

ছাত্রদল নেতা কর্মীরা নিজেদেরকে একটি মাত্র প্রশ্ন করুনতো, বিগত ৭ বছরে আগুন ভাংচুরতো দূরের কথা, পুলিশের সামনে নির্বিঘ্নে একটি মিছিল করতে পেরেছেন কিনা?

অথচ পুলিশ আপনাদের পাশেই আছে, তাদের হাতে পিস্তল-বন্দুকও আছে, তাদের সামনেই আপনারা নির্বিঘ্নে অফিস জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, শহীদ জিয়ার ম্যুরাল ভাঙছেন! তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছেন, আর পুলিশ আপনাদের পাহারা দিচ্ছে! এর মানে কি দাঁড়ায়???

আমি বিশ্বাস করি না, ছাত্রদলের কোন ছেলে এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে। চেহারাগুলি যা দেখলাম- তাতেও মনে হয়না, এরা ছাত্রদলের কেউ।

দীর্ঘ ৯ বছর হলো একটি বৈরি ও দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা সময় অতিবাহিত করছি। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের মত একটি বৃহৎ সংগঠনের পুনর্গঠন নিঃসন্দেহে দুরূহ কাজ। বিগত দিনে যখন ক্যাম্পাসে বা হলে হলে আমাদের অবস্থান ছিল, তখনও এখানে একটি ছোট হল কমিটি করতে গেলেও শিবির বা ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের কলরব উঠতো। পত্র-পত্রিকায় বিতর্ক শুরু হয়ে যেত। শুধু আমাদের ক্ষেত্রে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বি ছাত্রসংগঠনকেও একই পরিস্থিতি ফেস করতে দেখেছি।

এহেন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে ২৫ টি ইউনিটের কমিটি করা সাংঘাতিক কঠিন কাজ। বছরের পর বছর এসব ইউনিটগুলির কমিটি গঠন করা যাচ্ছিল না। ছাত্র জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কমিটি হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে সামান্য একটি পদ বা স্বীকৃতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছোট ভাইদের আকুতি বা আহাজারি দেখে খুব বিপন্ন বোধ করতাম।

অবশেষে তাদের একটি স্বীকৃতি হয়েছে। আমার জানা মতে, ছাত্রদলের জন্মের পরে এবারই প্রথম একই সঙ্গে এতগুলি ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন করা হলো। জান বাজি রেখে আন্দোলনে থাকা এতগুলো ছেলের স্বীকৃতি হলো, এটাই আমার কাছে বড় বিষয়। অনেকে খুশি হয়েছে, আবার অনেকে কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে মন খারাপও করেছে। কিন্তু তারাতো নিজেদের অফিসে আগুন লাগাতে যায়নি।

২৫ টি ইউনিটে কমপক্ষে হাজার দেড়েক নেতাকে পদায়ন করা হয়েছে। এটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, তার সাথে নিশ্চয়ই অনেক মানুষ জড়িত ছিল। ভুলও হয়েছে হয়তো, ফাঁক- ফোঁকরে দু’চারজন অনুপ্রবেশকারীও স্থান পেয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে কি ছাত্রদলের কোন নেতা বা কর্মী নিজ অফিস জ্বালিয়ে দিবে ???

তার মানে এই নয় যে, ছাত্রদলের কেউ কখনো এমনটি করেনি। দ্বিধাহীন ভাবে বলতেই হয়, এখানে আমার পার্টিরও বড় ধরনের একটা দায় আছে। পার্টি কখনো এসবের বিরুদ্ধে সাসটেইনেবল, দৃঢ় কোন অবস্থা ধরে রাখতে পারেনি, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। বরং ক্ষেত্র বিশেষে উল্টোটাই হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের কখনও কখনও পুরস্কৃতও করা হয়েছে। যে কারণে বার বার পার্টিকে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এখনতো অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কমিটি হলেই বিদ্রোহের নামে বিশৃঙ্খলা। এমন অবস্থা চলতে পারে না, চলা উচিত নয়। এজন্য পার্টির উচিত অবিলম্বে যথাযথ একটি পদ্ধতি ঠিক করে দেয়া। যে পদ্ধতিতে অটোমেটিক্যালি নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। এটা এখন সময়ের দাবি।

শেষ কথা – কে কী পদ পেলো, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো যোগ্যরাই টিকে থাকে। সময়ই তাদের নির্বাচিত করে, আবার সময়ই তাদের প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তোলে-

‘আল্লাহ্‌ সময়কে করেছেন সত্য উপলব্ধি আর ভুল ত্রুটির নির্ণায়ক। সেই সময়ই-সকলের যোগ্যতা, ত্যাগ আর অবদানের স্বীকৃতি দেয়’।”






মন্তব্য চালু নেই