মেইন ম্যেনু

ছাত্রমৃত্যুর জেরে বি.বাড়িয়া রণক্ষেত্র, কাল হরতাল!

গতরাতের সংঘর্ষের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর জেরে আগামীকাল বুধবার জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে মাদ্রাসাছাত্ররা।প্রথমে সারাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে হরতালের ঘোষণা দেয়া হলেও পরে তা জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। হরতালের ঘোষণাটি সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক। বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসাছাত্ররা ব্রাক্ষণবাড়িয়া রেল স্টেশনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সংঘর্ষের জেরে ব্রাক্ষণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটক পড়েছে।কখন এই সমস্যা নিরসন হবে এবং আটকে পড়া ট্রেনগুলো কখন ছাড়বে সে ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশসনও কিছু বলতে পারছে না।

গতকাল রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হাফেজ মাসুদুর রহমানের মৃত্যুর পর মাদ্রাসা ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

মাসুদুর রহমানের মৃত্যুর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় শহরে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত হাফেজ মাসুদুর রহমান ওই মাদ্রাসার (বড় মাদ্রাসা) শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নবীনগর উপজেলার সামন্তঘর গ্রামে। সে শহরে থেকেই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তার লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের ভাই হাফেজ মোহাম্মদ মামুন ও সহপাঠী মুফতি নিয়ামুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, মাসুদের গায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাত আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জনের মতো আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে শহরের জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমের মালিক রনির সঙ্গে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার (বড় মাদ্রাসা) এক ছাত্রের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে মাদ্রাসার কয়েকশ ছাত্র জেলা পরিষদ মার্কেটে গিয়ে রনির মালিকানাধীন বিজয় টেলিকমসহ একাধিক দোকানে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।

এরপর ব্যবসায়ীরা মাদ্রাসাছাত্রদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যোগ দিলে সংঘর্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সংঘর্ষে এক পক্ষে আছে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। অপর পক্ষে আছে মাদ্রাসাছাত্র ও কান্দিপাড়া এলাকাবাসী।






মন্তব্য চালু নেই