মেইন ম্যেনু

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ধোয়াশা কাটল না

চলতি বছরের ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বয়স পাঁচ মাস হতে চলল। অথচ পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়টি যেন হালে পানি পাচ্ছে না। মাস খানেক ধরে কমিটি গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা এখনো ধোয়াশা হয়েই রয়েছে।

বিগত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের চার মাস শেষে ১৪ নভেম্বর ২২০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

কিন্তু এবার চার মাস পেরিয়ে পাঁচ মাস হতে চলল, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। তবে নতুন সভাপতি বলছেন ডিসেম্বরের মধ্যে আর সাধারণ সম্পাদক বলছেন জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এত দিনেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। হতাশার কথাও শোনা যাচ্ছে। এর আগে একাধিকবার কমিটি গঠনের আওয়াজ উঠলেও তা আওয়াজই থেকে গেছে শেষমেশ।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণা কি এবার বাস্তবায়ন হবে?

কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ মাসেই আমরা কার্যক্রম শেষে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করব।”

তবে সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের বক্তব্যে একটু ভিন্নতা আছে। তিনি বলেন, “আমরা পৌরসভা নির্বাচন ও ৪ জানুয়ারির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে ব্যস্ত। আশা করি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারব।”

গত ৪ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর। এরপর বেশ কিছু জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়ে দপ্তরে।

কমিটি ঘোষণা করতে না পারার পেছনে কয়েকটি জাতীয় কর্মসূচি কারণ বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়। সূত্রমতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর শোকের মাস আগস্ট এবং বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিল বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সেভাবে বৈঠকে করতে পারেনি তারা। আর এই কারণে কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো গঠন করা সম্ভব হয়নি।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২৫১ সদস্যের হলেও এখনই সম্পূর্ণ কমিটি গঠন করতে অনাগ্রহী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যদি কমিটি ঘোষণা হয়ই, সেটা ২০১ সদস্যের হতে পারে।

অপর একটি সূত্র জানায়, উচ্চমহলের নেতা বিশেষত ছাত্রলীগের এক ‘বড় ভাই’ অথবা হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেই কেবল ঘোষণা করা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

এদিকে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা ও দ্বিধায় আছে ছাত্রলীগের বড় একটি পক্ষ। সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাতের অনুসারী ছিল পক্ষটি। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকলেও কাউন্সিল-কেন্দ্রিক গ্রুপিংযের মারপ্যাঁচে কোণঠাসা এই পক্ষের নেতাকর্মীরা এখন নিজেদের অবস্থান, পদ, রাজনীতি নিয়ে শঙ্কায়।

ডিসেম্বরের মধ্যে কিংবা জানুয়ারির শুরুতে, শেষ পর্যন্ত ঠিক কবে ঘোষিত হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি, সে বিষয়ে ধোয়াশা থেকেই যায়।






মন্তব্য চালু নেই