মেইন ম্যেনু

ছাত্র পরিচয়ে ‘নির্জন বাড়িটি’ ভাড়া নেয় নিহত জঙ্গিরা

টাঙ্গাইলের পৌর এলাকা কাগমারার মির্জাবাড়ির মাঠের কাছে তিনতলা একটি ভবন। বাড়ির পেছনে ফসলি জমি আর সামনে পাড়ার ইটবাঁধানো রাস্তা। নতুন তৈরি ভবনটির মালিক মোহাম্মদ আজাহার উদ্দিন। মির্জাবাড়ি মাঠ এলাকায় তিনি আজাহার মাস্টার নামেই পরিচিত।

এই আজাহার মাস্টারের বাড়িটিই গত ২৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র পরিচয়ে ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। এলাকাটি বেশ সুনসান। ঘনবসতি তেমন বেশি নয়। আজাহার মাস্টারের বাড়ির ২০০ গজ দূরে আরেকটি বাড়ি। সবগুলোর বাড়ির অবস্থানই ফাঁকে ফাঁকে। ফলে নির্জন এ বাড়িটির বাসিন্দা হিসেবে কে আসছে আর কে যাচ্ছে তার খুব একটা খোঁজ রাখত না স্থানীয়রা। আজ সেই বাড়িটিতেই অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে নিহত হয় দুই ‘জঙ্গি’।

এ অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে র‍্যাব ১২-এর কমান্ডার ও অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শাহাবুদ্দিন খান জানান, দেশব্যাপী জঙ্গি অভিযান চলমান থাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, মির্জাবাড়ির মাঠের কাছে ওই বাড়িতে আস্তানা গড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে জঙ্গিরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের এ এলিট ফোর্সের দুই সদস্যও আহত হন বলে জানিয়েছেন শাহাবুদ্দিন খান।

র‍্যাব জানায়, শহরের পৌর এলাকা কাগমারার মির্জাবাড়ির মাঠের কাছে তিনতলা একটি ভবনে অভিযান চালালে জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই তিনতলা ওই ভবনটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখেন।

তিনতলা বাড়িটিতে র‍্যাবের অভিযান বিকেল ৩টার দিকে শেষ হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার এ অভিযানের বিষয়ে বিকেল ৪টার দিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব ১২-এর কমান্ডার শাহাবুদ্দিন খান জানান, কাগমারা মির্জা মাঠের পাশে আজাহার আলী মাস্টারের বাড়িতে জঙ্গি অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। এ সময় ‘আল্লাহ আকবর’ ধ্বনি দিয়ে জঙ্গিরা র‌্যাবের উদ্দেশে গুলি চালায়। র‌্যাবও তখন পাল্টা গুলি চালালে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তবে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় এখনো পর্যন্ত জানাতে পারেনি র‍্যাব।

ওই ভবনের কক্ষ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ১০টি চাপাতি, পাঁচটি গুলি, দুটি ল্যাপটপ ও নগদ ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান শাহাবুদ্দিন খান।

এদিকে বাসার মালিক আজাহার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে তিনজন ছাত্র বাসা ভাড়া নেয়। এ সময় তাদের কাছে পরিচয়পত্র চাইলে দু-একদিনের মধ্যেই দেওয়ার কথা বলে ওই ছাত্ররা। আজ এ ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন ওই ভাড়াটিয়ারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

টাঙ্গাইল ছাড়াও শনিবার সকালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাশাপাশি দুটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে ১১ জঙ্গি নিহতের ঘটনা ঘটল।






মন্তব্য চালু নেই