মেইন ম্যেনু

ছিপছিপে মানুষের যেসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে পারেন আপনিও!

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ভীষণ ডায়েট অথবা ব্যায়াম করেন অনেকেই, কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা এতসব কষ্ট ছাড়াই সারাবছর রয়ে যান ছিপছিপে, সুন্দর শরীরের অধিকারী। এসব মানুষ কি জন্ম থেকেই ভাগ্যবান? নাকি তারা এমন কিছু অভ্যাসের চর্চা করেন যা তাদেরকে সহজেই সুস্থ রাখে, ওজন রাখে কম? হ্যাঁ, এমনই কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন আপনিও। এতে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে অনেক সহজ।

১) ঘুম থেকে উঠেই পর্দা সরিয়ে দেওয়া

সকালে সূর্যের আলো চোখে এসে পড়লে শুধু যে ঘুম ঘুম ভাব দূর হয় তাই নয়, বরং যারা সকাল সকাল এমন রোদে থাকেন তাদের BMI কম হতে দেখা যায়, জানা যায় এক গবেষণায়। সূর্যের আলোর অভাব আপনার দেহঘড়ির ছন্দপতন ঘটাতে পারে। এতে মেটাবলিজম প্রভাবিত হয় এবং ওজন বাড়তে দেখাজায়, ২০-৩০ মিনিটের সকালের রোদ আপনার BMI প্রভাবিত করতে যথেষ্ট।

২) খাওয়ার জন্য সঠিক বাসন-পত্র

খাওয়ার সময়ে বড় প্লেট ব্যবহার করলে অবধারিতভাবেই আপনার খাওয়া বেশি হবে। জুস বা স্মুদি পান করার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি যদি লম্বা, চিকন একটা গ্লাসে জুস পান করেন তাহলে আপনার ক্যলোরি এবং চিনি গ্রহণের পরিমাণটা কম হবে।

৩) ব্রেকফাস্টে খান প্রোটিন

সকালের নাশতায় যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন খাওয়ার ফলে সারাদিন ক্যালোরি গ্রহণ কম হয়। তাদের পেটও বেশি সময় ভরা থাকে। আপনি যদি বেশি খাওয়ার কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে থাকেন তাহলে ব্রেকফাস্টে বেশি করে প্রোটিন খান।

৪) শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

শুধুমাত্র অফিসের বাস ধরার জন্য হলেও অথবা ছোটখাটো কেনাকাটার জন্য দোকানে যেতে হলেও যে হাঁটাহাঁটি করা হয় সেটাকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখবেন না কখনো। দিনের মাঝে যখনই সময় পান, শরীরটাকে খাটিয়ে নিন। খাবার আগে অর্থাৎ খালি পেটে ব্যায়াম করাটা অবশ্য ফ্যাট বার্ন করার জন্য বেশি উপকারী।

৫) মেডিটেশনের পেছনে কিছু সময় ব্যয় করুন

এর জন্য একেবারে আয়োজন করে ইয়োগা ম্যাট পেতে বসে ধ্যান করাটা জরুরী নয়। সকালে অল্প কিছু সময় গভীর নিঃশ্বাস নিন। নিজের মনের প্রশান্তির জন্য এই সময়টুকু ব্যয় করুন। এ সময়টায় চিন্তা করে নিন আপনি সারাদিন ভেবেচিন্তে খাওয়াদাওয়া করবেন, যা ইচ্ছে তাই খাবেন না।

৬) মনোযোগ দিয়ে খান

অন্য কোন কাজ করতে করতে খেতে থাকলে খাওয়ার দিকে মনোযোগ থাকবে না। ফলে আপনি নিজের অজান্তেই বেশি খেয়ে ফেলবেন অথবা খাবেন এমন সব খাবার যেগুলো আপনার জন্য মোটেই ভালো নয়। আবার মন দিয়ে না খেলে আপনি খেয়ে ফেলেন এমন সব খাবার যেগুলো হয়তো আপনার ভালোও লাগছে না। এ কারণে খাবারের প্রতি মনোযোগ থাকাটা জরুরী।

৭) মন ভালো করতে খাবেন না

অনেকেই কষ্ট পেলে, বিষণ্ণ থাকলে বা রেগে গেলে খেতে থাকেন। ক্ষুধা না লাগলেও এভাবে খাওয়ার ফলে তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করাটা কঠিন হয়ে যায়। আবেগের কারণে খেতে ইচ্ছে করলে তখনই স্ন্যাক্সের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। মাথা ঠাণ্ডা করার জন্য বাইরে একটু হেঁটে আসুন। দেখবেন খাওয়ার ইচ্ছে চলে গেছে।

৮) বেশি ফল খান

সারাদিনের সব খাবারেই একটু একটু করে ফল যোগ করার চেষ্টা করুন। ব্রেকফাস্টে আপনার সিরিয়ালে কয়েকটা স্ট্রবেরি ছড়িয়ে দিন। স্যান্ডুইচে যোগ করুন কয়েক স্লাইস আপেল। এটাই আপনার স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস শুরু করে দেবে।

৯) পরিমাণমতো ঘুমান

অতিরিক্ত ওজনের মানুষের তুলনায় ছিপছিপে শরীরের নারীরা সপ্তাহে ২ ঘন্টা বেশি ঘুমান, জানা যায় এক গবেষণায়। এতে ক্ষুধা কম হয়, কারণ ক্ষুধার হরমোন কম হয়ে যায়।

এই সবগুলো অভ্যাস আপনি দ্রুত আয়ত্তে আনতে পারবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে নিজের জীবনচর্চায় একটা একটা করে অভ্যাস গড়ে তুলে দেখতে পারেন কোনটা বেশি উপকারে আসছে।






মন্তব্য চালু নেই