মেইন ম্যেনু

ছিল ছেলে, জন্মের পর বাবা-মা পেলেন মৃত মেয়ে!

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পুরান থানা রোডের ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’র (হাসপাতাল) চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে মৃত নবজাতক দিয়ে জীবিত নবজাতক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে পারভীন আক্তার নামে কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকার এক নারী ওই হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন। এরপর তাদের হাতে মৃত মেয়ে নবজাতক হস্তান্তর করার পরই বাধে বিপত্তি।

পারভীনের স্বামী শামসুল ইসলাম বুলু অভিযোগ করেন, কয়েকবার তার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছে- ছেলে সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ পরীক্ষায় গর্ভের সন্তান সুস্থ্য ও স্বাভাবিক ছিল।

সন্তান প্রসবের পর হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা পারভীন-বুলুর সন্তান নিয়ে মৃত নবজাতক দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পারভীন আক্তার মৃত মেয়ে সন্তান প্রসব করেছেন। বাচ্চাটি গর্ভেই মারা গেছে।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত স্বজনরা থানায় কোনো মামলা দায়ের করেনি। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর সময়, কারণ জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নবজাতকের বাবা শামসুল ইসলাম বুলু বলেন, কেরানীগঞ্জের বসিলা এলাকায় থাকেন তিনি। ওই এলাকায়ই লেপ-তোষকের ব্যবসা তার। তাদের স্কুল পড়ুয়া নয় বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তার স্ত্রী পারভীনের প্রসব বেদনা শুরু হয়।

এরপর বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাশের বাসার দুই নারীসহ স্ত্রীকে নিয়ে একটি সিএনজিতে করে ওই হাসপাতালে আসেন। স্ত্রীকে হাসপাতালের তিন তলায় ডেলিভারি কক্ষের ভেতরে দিয়ে তিনি বাইরে যান। সেখানে তাদের সঙ্গে আসা অন্য দুই নারীও ছিল। হাসপাতালে আসার ১৫ মিনিটের মধ্যেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী। ডেলিভারির পর তারা সেখানকার আয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও আয়া একেক সময় একেক তথ্য জানাচ্ছিলেন তাদের।

তিনি বলেন, ‘আয়া প্রথমে আমাদের জানিয়েছে ছেলে বাচ্চা হয়েছে। এরপর বলে মেয়ে বাচ্চা হয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর বলে মৃত মেয়ে বাচ্চা হয়েছে। তবে এসময় আমি এখানে ছিলাম না।’ এরপর তারা ভেতরে গিয়ে মৃত মেয়ে বাচ্চা দেখতে পেয়েছে।

বুলু বলেন, ‘আমার স্ত্রী নয় মাস ধরে এখানেই চিকিৎসা করাতেন। তবে এরমধ্যে আমরা বাইরের একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম (জিএসসি) করিয়েছি। সেখান থেকে আমাদের ছেলে বাচ্চা হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন তো দেখি মৃত মেয়ে বাচ্চা। আর এতেই আমাদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান সিদ্দীকী বলেন, ‘এটা নিছক ভুল বোঝাবুঝি। না জেনেই তারা এই অভিযোগ করেছেন। এই হাসপাতালে সব শ্রেণির মানুষ সেবা নেয়। এরকম অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এই নারী দীর্ঘ নয় মাস ধরে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি সর্বশেষ নিয়মিত পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন। তাকে তিন দিন পর আসতে বলা হয়েছিল। তিনি আসেননি। আজকে (মঙ্গলবার) খুব ক্রিটিক্যাল সময়ে তিনি এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিমাসে চার থেকে পাঁচশ প্রসূতির প্রসব করানো হয়। গত পাঁচ বছর ধরে মানুষ এখানে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে। গত মাসেও ৩৫১টি শিশু প্রসব করানো হয়েছে। এরমধ্যে ৯১টি সিজারিয়ান ছিল।’

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) হাফিজ আল ফারুককে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রসূতি নারীর স্বজনদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এমনিতেই এসেছি।’

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে মৌখিক অভিযোগ ওঠার পরই আমরা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। একটি জিডি করে বাচ্চাটির ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। জীবিত বাচ্চা সরানোর মতো কোনো বিষয় আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শিশুটির মৃত্যুর কারণ জানার পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় শনাক্ত করার জন্য বলেছি। অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।’






মন্তব্য চালু নেই