মেইন ম্যেনু

ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাবার মৃত্যু

ভারতের কলকাতা থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলের লাশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে পেট্রাপোল চেকপোস্টে রফিক মণ্ডল এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রফিক মণ্ডল গাজীপুরের গোবিন্দবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

ছেলে আসাদ মণ্ডলের (১৪) ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য স্ত্রী আরমা বেগমসহ গত ১২ এপ্রিল কলকাতা গিয়েছিলেন রফিক। চার দিনের মাথায় গত ১৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদ মারা যায়।

পরদিন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ছেলের লাশসহ দেশের পথে রওনা দেন আসাদের বাবা-মা।

সোমবার সন্ধ্যায় দেশে প্রবেশের আগেই পেট্রাপোল চেকপোস্টে মারা যান রফিক মণ্ডল। এ অবস্থায় ছেলে এবং স্বামীর লাশ নিয়ে বিপাকে পড়ে যান আরমা বেগম।

মঙ্গলবার সকালে ছেলের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন আরমা বেগম। কিন্তু সনদ না থাকায় স্বামীর লাশ এখনো পাঠাতে পারেননি।

রফিকের মরদেহ বনগাঁ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ডেপুটি হাইকমিশন থেকে লাশের ছাড়পত্র আনতে কলকাতায় গেছেন আরমা।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে কখন লাশ হস্তান্তর হবে তা সংশ্লিষ্ট কেউই বলতে পারছে না। এ অবস্থায় বেনাপোল চেকপোস্টে আহাজারি করছেন রফিকের স্বজনরা।

বেনাপোল চেকপোস্টে মৃত রফিকের স্বজন খন্দকার আলী জানান, রফিক মণ্ডল পেশায় কৃষক। জমিজমা বিক্রি করে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন তিনি।

সুস্থতার আশায় চারমাস ধরে ছেলের চিকিৎসার পেছনে সব অর্থ খরচ করলেও দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এ অবস্থায় স্বজনদের পরামর্শে কোনোমতে টাকা জোগাড় করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় যান রফিক-আরমা।

কলকাতায় একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে আসাদকে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ভর্তির পর পরই বলেছিলেন, আসাদকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ নেই। অযথা টাকা খরচ না করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান।

খন্দকার আলী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার আসাদের লাশ নিয়ে বাংলাদেশে রওনা দেন রফিক ও আরমা। বিকালে পেট্রাপোল চেকপোস্টে পৌঁছে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় হঠাৎ রফিক বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওই সময় রামেশ্বর রায় নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার পথে বমি করার পাশাপাশি প্রচণ্ড বুকের ব্যথায় জ্ঞান হারান রফিক। এরপর বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান খন্দকার আলী।

রফিকের লাশ এখন হাসপাতালে রয়েছে। লাশ আনতে ছাড়পত্র যোগাড় করতে আরমা বেগম সকালেই কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে ছুটে গেছেন।

ছেলের অকালমৃত্যুর পর স্বামীকেও হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আরমা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ছেলের শোকেই ওর বাবা চলে গেল। ছেলেকে ভীষণ ভালোবাসতো সে।

খন্দকার আলী জানান, আসাদের লাশ নিয়ে আত্মীয়-স্বজনরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা করেছেন। ভারত থেকে বাবা রফিকের লাশ আনার পর বাবা-ছেলেকে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাবা-ছেলের হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর শুনে চেকপোস্টে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় মানুষের চোখেও বেদনার ছাপ ছিল।

এই ঘটনায় বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধানসভার সদস্য বিশ্বজিৎ দাস স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশী ওই নারী মৃত ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। আমরা অসহায় এই মাকে সব রকমভাবে সাহায্যের চেষ্টা করছি।’






মন্তব্য চালু নেই