মেইন ম্যেনু

ছোটখাটো কাজেই অনেক সময় চলে যাচ্ছে? জেনে নিন কারণ

আপনি কি ছোটখাট কাজগুলো করতে অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন, যেমন- ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া, ঘর পরিষ্কার করা, ট্যাক্স বা অন্যান্য বিল দেয়া ইত্যাদি? যে কাজগুলো না ফেলে রেখে করে ফেলা দরকার সেগুলো না করাকেই দীর্ঘসূত্রিতা বলে। কোন না কোন সময়ে আমরা সবাই এই কাজটি করে থাকি। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিতই এই ছোটখাট কাজ গুলো সময়মত করতে অপারগ হন তাহলে এটিকে একটি বড় সমস্যা হিসেবেই ধরে নিতে হবে। তাই এর কারণ নির্ধারণ করাটা অনেক জরুরী। তাহলেই আপনি আপনার সমস্যাটির সমাধান করে সময়ের কাজ সময়েই করতে পারবেন। আসুন তাহলে কারণগুলো জানার চেষ্টা করি।

১। আপনি কি কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে আছেন?

আপনি যে কাজটি করতে পছন্দ করেন না তাই যদি আপনাকে করতে হয় তাহলে আপনি বিরক্তি অনুভব করবেন, যার ফলে টেনশন হবে। সেই কাজটি তাৎক্ষণিকভাবে না করলে আপনি কিছুটা স্বস্তি পান। কিন্তু কোন না কোন সময় আপনাকে সেই কাজটি করতেই হবে যা আপনাকে রাগান্বিত করে বা আপনি অপরাধ বোধে ভোগেন এবং এর ফলেই স্ট্রেসের সৃষ্টি হয় ও তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই কারণে আপনার যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা হল

· ঘুমের সমস্যা

· চিন্তা বৃদ্ধি পাওয়া

· এনার্জির ঘাটতি বা মনোযোগের সমস্যা

· মাথা ব্যথা বা পেশীতে টান পরা

মনকে সতেজ রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিন কারণ এগুলো স্ট্রেস বৃদ্ধি করে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান এবং আপনার বন্ধু বা কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন।

২। ADHD হতে পারে?

Attention-deficit hyperactivity disorder এর সমস্যাটিতে যারা ভোগেন তারা সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পরেন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সমাধা করতে সক্ষম হননা। আবার কেউ কেউ অনেক বেশি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ পরিকল্পনা করতেও সমস্যায় পড়েন বা খুব সহজেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং হাল ছেড়ে দেন। এছাড়াও যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল

· দিবাস্বপ্ন দেখা

· ভুলে যাওয়া বা জিনিষ হারিয়ে ফেলা

· ভুল করা বা অনিরাপদ ঝুঁকি গ্রহণ

· স্নায়বিক অস্থিরতায় ভোগে।

চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যাধির উপসর্গ গুলোর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। থেরাপির মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তা শনাক্তকরণ ও চিন্তার ধরণের পরিবর্তন করা সম্ভব এবং সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সাহায্য করে।

৩। আপনি কি ক্লান্ত?

আপনার ইচ্ছা শক্তির কারণেই আপনি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছেন, এটি আরো যে বিষয়ের উপর নির্ভর করে তা হল পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত করে এবং সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করার জন্য যে মনোযোগ প্রয়োজন তা হতে অনেক সময় লাগে। কম ঘুমের আরো যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তা হল

· টিভি দেখতে দেখতে বা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যাওয়া।

· খিটখিটে মেজাজ

· ছুটির দিনে অনেক বেশি ঘুমানো

· ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হওয়া

আপনার ক্লান্তি দূর করার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। এজন্য ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে জাগার সময় ঠিক রাখুন। ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন।

৪। উদ্বিগ্নতা হতে পারে?

নেতিবাচক আবেগের প্রতি আপনার মস্তিষ্ক অনেক বেশি প্রতিক্রিয়াশীল। যেখানে ভয়ের কিছুই নেই সেখানে অনেক খারাপ কিছু হবে বলে ভাবছেন আপনি। অ্যাংজাইটির সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা পরিবার, স্বাস্থ্য, অর্থ বা কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে অনেক এনার্জি নষ্ট করে এবং প্রাত্যহিক কাজগুলোকেই অনেক কঠিন মনে করে। উদ্বিগ্নতা দূর করার জন্য আস্তে আস্তে এবং গভীরভাবে ১০ বার দম নিন ও দম ছাড়ুন। ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করাটাও অত্যন্ত জরুরী।

৫। বিষণ্ণতা হতে পারে?

বিষণ্ণতা মস্তিষ্কের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত করে। আপনার শখের কোন কাজ করতেও আপনার এনার্জি কম মনে হতে পারে। নিজেকে দুর্বোধ্য ও অসহায় মনে হতে পারে। এই রকম মনোভাব বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার আগেই মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিন। ঔষধ বা থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠুন।

৬। OCD হতে পারে?

Obsessive Compulsive Disorder এ যারা ভোগেন তারা যখন সঠিক কাজ করেন তখন মস্তিষ্ক সেই সংকেত পাঠাতে পারেনা। যখন বিরক্তিকর অনুভূতি হয় তখন তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন না। কাজটি সমাধা করার চেয়ে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করার প্রতি তারা বেশি মনোযোগী হয়। প্রচুর অবাঞ্ছিত চিন্তা ও চিত্র তৈরি করে তারা এবং হাত ধোয়ার মত শুচিতায় সময় নষ্ট করে। ঔষধ ও থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

আপনি যা করতে পারেন :

· নিজের প্রতি সৎ থাকুন কোন বিষয়টি আপনাকে কাজ থেকে বিরত রাখছে তা বের করুন। তার পর বাস্তবিকভাবেসেই সমস্যাটি থেকে বের হবার পন্থা খুঁজে নিন।

· যদি মনে করেন যে আপনার কোন মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্যই এমন হচ্ছে তাহলে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

· বড় কোন কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন, তাহলে কাজটি করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

· নিজে সময় নির্ধারণ করে নিন এবং সেই সময়ের মধ্যে কাজটি করতে পারলে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

· যখন বুঝতে পারবেন যে আপনি অযথাই সময় নষ্ট করছেন তখন রাগান্বিত বা লজ্জিত হওয়ার পরিবর্তে নিজেকে ক্ষমা করুন। এতে আপনি পরবর্তীতে দীর্ঘসূত্রিতা কম করবেন। তাই নিজের সাথে সহজ হোন।






মন্তব্য চালু নেই