মেইন ম্যেনু

ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টেই ৫০০ প্রজাতির গাছের বাগান

অত্যাধুনিক আর আঁটসাঁট অ্যাপার্টমেন্ট ঘরগুলোর ভেতরে যেখানে মানুষেরই ঠিক করে জায়গা হয়না, সেখানে আবার গাছ? নাহয় খুব বেশি হলে বারান্দায় একটা ছোটখাটো টবই ঝুলিয়ে দেওয়া যায়, কিংবা বনসাই। কিন্তু পুরো একটা বাগান থাকবে বাসার ভেতরে? সেটাও কি হয় নাকি? হয়। আর ইচ্ছা থাকলে যে ব্রুকলিনের মতন শহরের ছোট্ট একটা অ্যাপার্টমেন্টেও বিশাল একটা বাগান বানিয়ে ফেলা যায় সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন সামার রায়েন ওকস।

পেশায় মডেল ওকস পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য আন্দোলনসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তবে তার এতসব কাজের কোনটাই নয়, যে বিষয়টি এই নারীকে সবার সামনে তুলে ধরেছে সেটি হচ্ছে তার বাসা।

উইলিয়ামসবার্গে ১,২০০ বর্গ ফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ওকস। আন্দাজ করতে পারেন ঠিক কতগুলো গাছ আছে সেই অ্যাপার্টমেন্টে? না, একটি, দুইটি বা তিনটি নয়। গাছের সংখ্যাতো অনেক দূরের বিষয়, ওকসের এই অ্যাপার্টমেন্টে গাছের মোট প্রজাতিই আছে প্রায় ৫০০ টি।

অবাক হলেন? গত ১১ বছর ধরে এই অবাক করা কাজটিই করে যাচ্ছেন এই নারী। কি গাছ নেই তার বাড়িতে? কলা বা আনারসের মতন ফলদ গাছ থেকে শুরু করে ঔষধি আর সৌন্দর্যবর্ধক- সব রকমের গাছই আছে ওকসের ঘরে। পড়াশোনাটা পরিবেশবিজ্ঞান নিয়েই করেছেন ওকস। তবে গাছের প্রতি ভালবাসাটার শুরু তার আরও আগ থেকে। পেন্সিলভেনিয়ার এক খামারে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। তাই গাছ আর পশু-পাখি, দুটোকেই যেন নিজের ভীষণ কাছের মনে হয়েছে ওকসের সবসময়।

“একটা অ্যাপার্টমেন্ট বাড়িতে বাগান বানানোটা খুব একটা সহজ কাজ না। বিশেষ করে, এখানে না আছে আলো, না আছে বাতাস, না আছে মাটি। তবে আমার ভাগ্য ভালো ছিল যে, আমার এই বাড়িটার দুই পাশেই জানালা আছে। একটা উত্তর মুখ করা, একটা দক্ষিন মুখ করা। আর দুটো থেকেই এত আলো পায় আমার গাছগুলো যে তাদের আর কোন সমস্যাই হয় না!” নিজের বাগানের কথা বলতে গিয়ে জানান ওকস।

বাথরুম, খাবার ঘর, রান্নাঘর, শোবার ঘর- কোথাও এক তিল জায়গা ছেড়ে দেননি ওকস। সবটুকু জায়গাকেই ব্যবহার করেছেন নিজের ইচ্ছেমতন। সাজিয়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের বাগান। তবে এটুকুতেই সন্তুষ্ট নন তিনি। আরও বড় পরিকল্পনা আছে ওকসের। নিজের বাড়িতে পুরো একটা খামার গড়ে তুলতে চান এই নারী। তবে তার বর্তমান বাড়ির মালিক ঘরের ভেতর বা ছাদে মুরগী, ছাগল, হাঁস, মৌমাছি- এগুলো পালতে দেবে কিনা সেটা নিয়ে চিন্তায় আছেন ওকস। তবে বাড়িওয়ালা না চাইলে কি হবে? দরকার পড়লে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে বাসা বদলাবেন তিনি। শহরের ছোট্ট জায়গার ভেতরেই যে গ্রামকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, পরিবেশকে লালন করা যায় সেটা তিনি দেখিয়েই ছাড়বেন। কী ভাবছেন? সত্যিই তো! ওকস যদি পেরে থাকে তাহলে আমি বা আপনি নই কেন? তাহলে এক্ষুনি শুরু হয়ে যাক ঘরের ভেতরে বাগান তৈরির কার্যক্রম?

সুত্র : মডার্ন ফার্মার






মন্তব্য চালু নেই