মেইন ম্যেনু

ছোট্ট কিছু কৌশলে থামিয়ে দিন মাইগ্রেনের সম্ভাবনাকে

মাইগ্রেনের ব্যথা যে ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর রকমের যন্ত্রণাদায়ক সেটি যার মাইগ্রেন আছে সেই কেবল বুঝতে পারেন। ব্যথা শুরু হওয়ার পরপরই তাই মাইগ্রেনে আক্রান্ত একজন ব্যাক্তির চেষ্টা থাকে যেভাবেই হোক সেটাকে থামানোর কিংবা কমিয়ে দেওয়ার। কিন্তু কেমন হত যদি মাইগ্রেনের ব্যথাটাই না থাকতো? ব্যথা শুরুর আগেই যদি থামিয়ে দেওয়া যেত সেটাকে? ভাবছেন, এটাও কি সম্ভব? হ্যাঁ! সম্ভব। আর এর জন্যে কেবল মানতে হবে ছোট্ট কিছু কৌশল। কী সেগুলো? চলুন দেখে আসি।

১. খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন

মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার কারণ হিসেবে অনেকটা বেশি ভূমিকা রাখে খাদ্যাভ্যাস। খাবার ও পানীয় মাইগ্রেনের ব্যথার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ভূমিকা রাখে। বিশেষ কিছু খাবার, যেমন- ওয়াইন, পনির, পেঁয়াজ, কাজু, চকোলেট, প্রক্রিয়াজাত মাংস ইত্যাদি মাইগ্রেনের ব্যথা তৈরিতে সাহায্য করে। তাই আপনার ক্ষেত্রে কোন খাবার বা পানীয়টি মাইগ্রেনের ব্যথা সৃষ্টিতে সাহায্য করে সেটা চিনে নিন আর সেইমতন খাবার বাছুন। ক্যাফেইন থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করুন। আর যদি ক্যাফেইন ছেড়ে দেওয়ার ফলে মাইগ্রেনের ব্যথা তৈরি হয় তাহলে ধীরে ধীরে সেটা ছাড়ার চেষ্টা করুন, একেবারে না। এতে করে আপনি একটু হলেও প্রতিরোধ করতে পারবেন মাইগ্রেনের ব্যথাকে।

২. ঘুমের নিয়ম মেনে চলুন

কোনদিন ইচ্ছে হল তাই খুব বেশি ঘুমিয়ে নিলেন, আবার কোনদিন কম। কোনদিন খাবারের পরপর ঘুমিয়ে পড়লেন, আবার কোনদিন অনেক পরে। এই অনিয়মগুলোকে পাশে রেখে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। আর সেই নিয়মগুলো সবসময়ই অনুসরণ করুন। কখন ঘুমোবেন, কখন খাবেন- এই সময়গুলো যেন প্রতিদিন বদলে না যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ও খাওয়া সারুন। সেইসাথে সারাদিনে ভিটামিন বি২ ট্যাবলেট এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম ট্যাবলেট খেয়ে নিন। কারণ, এটি আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রেখে মাইগ্রেনের ব্যথাকে দূরে রাখে।

৩. ঔষধ সেবন করুন

দরকার পড়লে চিকিৎসকের সাথে আলাপ করুন আর মাইগ্রেনের হাত থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী ঔষধ-পত্র সেবন করুন। সেটা অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে। সাধারণত মাইগ্রেনের জন্যে বেটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের মতন ঔষধগুলোই সেবন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কিছু করার আগে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

৪. কগনেটিভ-বিহেভরিয়াল থেরাপি নিন

অনেক সময় মাইগ্রেন তৈরি হয় মস্তিষ্কের ভেতরে চলতে থাকা নানারকম মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা থেকে। আর এই সম্ভাব্য কারণগুলো থেকে দূরে থাকতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। থেরাপি নিন। এটি আপনার মস্তিষ্ক থেকে নেতিবাচক সব চিন্তাকে সরিয়ে দিয়ে মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

৫. বায়োফিডব্যাক অনুশীলন করুন

নিজেকে শান্ত রাখতে ও নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করতে বায়োফিডব্যাককে বেছে নিতে পারেন আপনি। বয়োফিডব্যাক নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার খুব জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। কিন্তু যেহেতু এটি সবাই পরেনা তাই প্রথমেই কোন বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করুন এ ব্যাপারে আর বিষয়টিকে পুরোপুরি শিখে নিন। এর মাধ্যমে হৃদপিন্ড থেকে শুরু করে শরীরের তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আপনি।






মন্তব্য চালু নেই