মেইন ম্যেনু

ছোট ব্যাগেই গোটা জাতির ভাগ্য

ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল সাড়ে ৩টা ছুঁই ছুঁই করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রীর সংসদে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় সকল শীর্ষ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেছেন।

সংসদ ভবনের সপ্তম তলায় পরিচালক (জনসংযোগ) এ এম মোতাহার হোসেনের কক্ষের ভেতরে ও সামনে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের প্রচণ্ড ভীড়। গণমাধ্যম কর্মীরা বার বার বাজেট ডকুমেন্ট সরবরাহের জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন।

কিন্তু পরিচালক জনসংযোগের চোখ তখন টেলিভিশনের পর্দায়। হাসিমুখে এইতো এখনই দিচ্ছি বললেও টেলিফোনে অধঃস্থনদের অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শুরু হওয়ার আগে কোনভাবেই যেন ডকুমেন্ট সম্বলিত ব্যাগ গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে না যায় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

এক পর্যায়ে সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক সাড়ে ৩টা বেজে গেছে জানিয়ে বার বার তাগাদা ও বাইরে থেকে অপেক্ষমান বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকরা ডকুমেন্ট চাইতে থাকলে পার্লামেন্ট জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উত্তম চক্রবর্তী ও সেক্রেটারি কামরুন রেজা চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা তাদের শান্ত করতে এগিয়ে যান।

ঠিক সাড়ে ৩টা। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রাজকীয় কায়দায় মাননীয় স্পীকার সংসদ কক্ষে আসছেন বলে স্বাগত জানানো হলো। পরক্ষণেই স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতা শুরু করলে কাঙ্খিত ডকুমেন্ট বিতরণ শুরু হয়।

একটু খেয়াল করতেই দেখা যায় বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) প্রস্তুতকৃত সোনালী আঁশ হিসেবে সুপরিচিত পাটের ব্যাগে বাজেট ডকুমেন্ট গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। চলতি সংসদ অধিবেশেন কভার করতে যারা কার্ড পেয়েছে সেই কার্ডে সিল মেরে ডকুমেন্ট দেয়া শুরু হয়। এ সময় প্রবীণ এক সাংবাদিক হুড়োহুড়ি দেখে বলেন, ছোট্ট এই পাটের ব্যাগটির ভেতরে গোটা জাতির ভাগ্যে। এ ব্যাগের ডকুমেন্ট দেখেই গণমাধ্যম কর্মীরা গোটা জাতিকে তাদের ভাগ্যে কি আছে তা জানাবেন। অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীরাও তাতে সায় দিলেন।






মন্তব্য চালু নেই