মেইন ম্যেনু

জঙ্গিনেতা বুরহানের শেষ টুইটেও জাকির নায়েক!

গুলশানে স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলাকারী জঙ্গিদের মতো ভূস্বর্গ কাশ্মীরে নিহত জঙ্গিনেতা বুরহান ওয়ানিও ছিলেন জাকির নায়েকের ভক্ত! আর এর প্রমাণ মিলেছে ওয়ানির শেষ টুইটে।

গত শুক্রবার (৮ জুলাই) কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার হাতে নিহত হন ২২ বছরের বুরহান। সে দিনই টুইটারে বুরহান লিখেছিলেন, ‘জাকির নায়েককে সমর্থন করুন নইলে এমন সময় আসবে যখন কোরান পাঠ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।’

ওই কথাই ছিল বুরহানের শেষ টুইট। বুরহান ভাই নামে ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট চালাতেন তিনি। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

মুম্বাইয়ের এই ইসলাম প্রচারক পিস টেলিভিশন নামের ধর্মীয় চ্যানেল চালান। সেখানে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে ভারতে। ব্রিটেন, আমেরিকায় চ্যানেলটি নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম প্রধান দেশেও। বাংলাদেশেও শিগগিরই চ্যানেলটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে শুধু চ্যানেল বন্ধ করে দেয়াই নয়, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে নয়াদিল্লি। তার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ কথা ভাবছে ভারত।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাকিরের বিপুল জনসমর্থনের বিষয়টি মাথায় রেখে আটঘাট বেঁধে এগোচ্ছে দেশটির সরকার। আর তাই জাকিরের বিরুদ্ধে তদন্তে ৯টি দল গঠন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

৯টি দলের মধ্যে চারটি জাকিরের বক্তব্যের ভিডিও ও সিডি-র ফুটেজগুলো খতিয়ে দেখবে। তিনটি দল খতিয়ে দেখবে জাকিরের সোশ্যাল মিডিয়ার গতিবিধি। আর জাকিরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুটি দলের ওপর।

এই দলগুলিতে থাকছেন এনআইএ, ইনটেলিজেন্স ব্যুরো, র এবং রেভিনিউ ইনটেলিজেন্সের প্রতিনিধিরা। জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে পাঠানো অর্থ কোন খাতে খরচ করা হয়েছে বা বিদেশি অনুদান নেয়ার ক্ষেত্রে আইন মানা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত দশ বছরে জাকির কোন কোন দেশে গিয়েছেন, কাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং সেই সফরের জন্য কারা টাকা ঢেলেছে, সেটাও রয়েছে তদন্তের আওতায়। জাকিরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কাজকর্মও যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

ঢাকার গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলাকারী দুই জঙ্গি ও হায়দারাবাদে ধরা পড়া আইএস জঙ্গি এই জাকির নায়েকের ভক্ত ছিল। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ অনুরোধ করলে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হবে বলে জানায় ভারত।

ভারতের সম্প্রচারমন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু গত শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘আমরা অভিযোগ তদন্ত করছি। কারণ এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, সেই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও হুমকি।’

বাংলাদেশেও জাকির নায়েকের পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত এসেছে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কথায়। শনিবার একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এই টিভিটি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রণালয়ের অফিস খুললেই কাজ শুরু হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সরকারের স্ট্যান্ড আমরা স্পষ্ট করব।’

জাকির নায়েক তার নিজের প্রতিষ্ঠিত পিস টিভিতে ধর্ম নিয়ে যে আলোচনা করেন বাংলাদেশসহ বাংলাভাষী মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে সেগুলো বাংলা ডাবিং করে সম্প্রচার করে চ্যানেলটি। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জাকির নায়েকের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী বলতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। তার বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বহু তরুণ জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই