মেইন ম্যেনু

জঙ্গিনেতা রাজীব গান্ধী ৮ দিনের রিমান্ডে

নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা ও গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে ‘রাজীব গান্ধী’র আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানি শেষে শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান এ আদেশ দেন।

এর আগে পুলিশ রাজীব গান্ধীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালতে রাজীবের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলায় জড়িত যে কয়জনকে জীবিত ধরা হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজীব গান্ধী অন্যতম। শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব জানিয়েছেন, তিনি নব্য জেএমবির একজন শীর্ষ নেতা। তিনি নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এ ছাড়া তিনি উত্তরবঙ্গে সংগঠনের সামরিক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গুলশান হামলায় খায়রুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম এবং শোলাকিয়া ঈদগাহে হামলার সময় শফিউল ইসলাম ডনকে সরাসরি যুক্ত করেন তিনি।

তিনি জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত ২২ থেকে ২৩টি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাজীব গান্ধী। এদের মধ্যে জাপানি নাগরিক কোনিও হোশি, টাঙ্গাইলের দর্জি নিখিল, পাবনার পুরোহিত নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে, রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী, কুষ্টিয়ায় হোমিও চিকিৎসক সানাউর, পঞ্চগড়ে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর, দিনাজপুরে হোমিও চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা উল্লেখযোগ্য।

মনিরুল বলেন, রাজীব গান্ধী নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার আগে পুরাতন জেএমবিতে কাজ করতেন। ওই সংগঠনের শুরা সদস্য ডা. নজরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী।

রাজীব গান্ধীর বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে। তার বাবার নাম মাওলানা ওসমান গণি মণ্ডল ও মায়ের নাম রাহেলা খাতুন। তিনি ২০০৪-০৫ সালের দিকে জেএমবিতে সক্রিয় হন। শুরুর দিকে তিনি জঙ্গিনেতা আব্দুল আউয়ালের বাবুর্চি ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলার আগে জঙ্গিদের অপারেশনাল হাউজে রাজীবও থাকতেন। সেখান থেকেই তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। হামলার দিন পর্যন্ত তার পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ছিলেন। হামলার পরপরই পরিবারসহ শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় চলে যান রাজীব গান্ধী। কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর যখন তার নাম পুলিশের কাছে আসে তখন তিনি উত্তরবঙ্গে চলে যান। গত কয়েক দিন থেকে তিনি আবারও ঢাকায় আসার চেষ্টা করছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুলশান হামলার বেশ কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড ছিল। এখনো আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে তিন জঙ্গি রয়েছে। এদের মধ্যে একজন হলেন বাশারউজ্জামান চকলেট। তাদের আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।






মন্তব্য চালু নেই