মেইন ম্যেনু

যতটা দরকার এবার ততটাই কঠোর হব : প্রধানমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ রোধে আমাদের সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, জঙ্গি মোকাবেলায় যতটা কঠোর হওয়া দরকার ততটাই কঠোর হবে সরকার। কারও সমালোচনা গ্রহণ করা হবে না। জঙ্গিবাদের লাগাম টানতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হন। আমেরিকাতেও কিছুদিন আগে একই ঘটনা ঘটলো। এখন দেখা যাচ্ছে যারা এসব তৈরি করেছিলো তারাই এখন লাগাম টানতে চাইছে। কেননা হামলা তাদের উপরও আসছে। আমাদের কমিউনিটি পুলিশকে আরো সচল করতে হবে।

জঙ্গিবাদের বিস্তার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবার জঙ্গিবাদ বপন হলে তা আর রোধ করা যায়না। বিস্তৃত হতেই থাকে। গত কয়েকদিন আগে যে ঘটনাটি ঘটলো তা এদেশে প্রথম। প্রত্যেকটা ধর্মের মানুষের উপর যেমন মসজিদ, মন্দির গীর্জা, প্যাগোডায় এর আগে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের উপর হামলা করা হলো।

তবে এমন ঘটনার ক্ষেত্রে এভাবে হামলাকারীদের শেষ করা এবং জিম্মিকে উদ্ধার করার ঘটনা আর কোনো দেশেই হয়নি। গুলশান হামলার ঘটনায় নিহতদের সবাই বন্ধুপ্রতীম দেশের নাগরিক। দেশে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দু:খজনক। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ভালো কাজ করেছে।

শোলাকিয়ার হামলার কথা টেনে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, শোলাকিয়ার আগেই আমি সতর্ক করেছিলাম যে এটা দেশের সবথেকে বড় জামাত। সেখানে হামলা হতে পারে। সেখানেও ২ পুলিশ মারা যায়। কারা এর পেছনে ছিলো সেটাও গোয়েন্দা সংস্থা বের করে ফেলেছে। আমি অবাক হলাম যে, এরা কোন ধরনের মুসলমান যে এশার নামাজের পর তারাবি না পড়ে গেলো মানুষ খুন করতে। ঈদের দিন নামাজ না পড়ে নামাজ যারা পড়ছে তাদের উপর হামলা করতে গেলো।

এই ঘটনার পরে মিডিয়ার উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের কিছু মিডিয়া আছে। তারা নানান রকম জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছে। যারা এসব কথা বলে বেড়াচ্ছে আমার মনে হয় তাদের মনের আশা পূরণ হয়নি। তারা চায় এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটুক। অবশ্যই আমি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছি সেভাবেই কাজ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাহবা না দিয়ে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করার চেষ্টা কেন করছে তা আমরা দেখতে চাই।

দেশের স্বার্থে কিছু করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে অনেক কোম্পানী আছে তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে। আমরা মনে করি উচ্চশিক্ষিত পরিবারের ছেলেমেয়েদের অনেক বড় মন হবে কিন্তু তারা যে ধর্মান্ধ হয়ে যাবে সেটা কেউই ভাবেনি। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়, কখনোই ছিলো না। এব্যাপারেও আমাদের সবার সচেতন হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেউ গুম হলেই সবাই সরকারকে দায়ী করে। কেউ কেউ যে স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছে। সেসবের ব্যাপারে কোনো রকম তথ্য দিতে এসব প্রতিষ্ঠান কেন ব্যর্থ হচ্ছে? যারা নিজেরা নিজেরা হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যাপারে এসব তথ্যাদি নেই। আমরা চাই এরপর থেকে প্রত্যেকটা স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন কতদিন অনুপস্থিত আছে তা নিশ্চিত করা। কারা তাদের বিপথে নিয়ে গেলো তা খুঁজে বের করা দরকার সবার আগে।






মন্তব্য চালু নেই