মেইন ম্যেনু

জঙ্গি আর সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদূত ভারতের এই ৮ কমান্ডো বাহিনী

যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরা পারদর্শী। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রুর সামনে সাক্ষাৎ যম হয়ে উদয় হয় এরা। শত্রু নিকেষে এরা এতটাই ভয়ানক যে এদের বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর কম্যান্ডো বাহিনী হিসাবে ধরা হয়।

মার্কোস— ভারতীয় নৌসেনাবাহিনীর কম্যান্ডো। জলপথে শত্রুর মোকাবিলায় ওস্তাদ এরা। এমনকী, জলের তলাতেও এরা সমান তালে লড়াই করতে সক্ষম। ১৯৮৭ সালে এই কম্যান্ডোবাহিনীকে তৈরি করা হয়। ঝিলম নদীর মতো খরাস্রোতা পাহাড়ি নদী এবং বুলর লেকের মতো স্থানেও মার্কোস তার লড়াইয়ের দক্ষতায় সকলকে চমকে দিয়েছে। শত্রুপক্ষ এদের ‘দাড়িওয়ালা ফৌজ’ বলেও ডাকে।

মার্কোসের প্রশিক্ষণ এতটাই ভয়ানক যে, ৮০ শতাংশ জওয়ানই বাহিনী ছেড়ে পালিয়ে যায়। মার্কোসের সদস্য হওয়ার জন্য যে শারীরিক পরীক্ষা দিতে হয়, তাকে ভয়ঙ্কর বললেও কম বলা হবে।

মার্কোস কম্যান্ডোরা বিশ্বের হাতে গোনা সেই সেনা, যারা আকাশ থেকেও ঝাঁপ দিয়ে লড়াইয়ে সক্ষম। মার্কোস কম্যান্ডোদের হাতে থাকে ইজরায়েলে তৈরি টাভোর টার ২১ অ্যাসল্ট রাইফেল। যেহেতু জলে থেকে লড়াই করে মার্কোস, তাই তাদের সমস্ত অস্ত্র ওয়াটারপ্রুফ। জলের তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকলেও অস্ত্রের কিছু হয় না।

কোবরা— ‘হয় মরো না হয় মারো’। এটাই কোবরা কম্যান্ডো বাহিনীর আপ্তবাক্য। জঙ্গলের মধ্যে যে কোনও ধরনের গেরিলা যুদ্ধে সক্ষম এই বাহিনী। ২০০৮ সালে মূলত মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। কোবরা কম্যান্ডোরা এতটাই দক্ষ যে, মুহূর্তের মধ্যে জঙ্গলে শত্রুর চোখে ধুলো দিতে পারে। তারা এমন পোশাক এবং মুখে রঙ মেখে অভিযানে নামে যে, চট করে জঙ্গলে তাদের দেখে ফেলা কঠিন। প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দিয়েও অভিযানে সক্ষম কোবরা।

ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর অধীনে আসে কোবরা কম্যান্ডো বাহিনী। অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ইনসাস রাইফেল থেকে একে ৪৭, এক্স ৯৫-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত। কোবরা কম্যান্ডোদের নিশানা এতটাই নিখুঁত যে, যে কোনও স্থান থেকে শত্রুকে গুলি করে খতম করা এদের কাছে জলভাত।

প্যারাকম্যান্ডো— প্যারা কম্যান্ডো ইউনিট। ১৯৬৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এই কম্যান্ডো ইউনিটটি তৈরি করা হয়েছিল। এদের কাজ হল আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে শত্রুপক্ষের উপরে হামলা করে পদাতিক বাহিনীর অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রোজ ৬০ কেজি ওজনের জিনিসপত্র পিঠে চাপিয়ে অন্তত ২০ কিলোমিটার দৌড়তে হয় এই কম্যান্ডো বাহিনীর সদস্যদের। সাড়ে তেত্রিশ হাজার ফুট উপর থেকে ঝাঁপ দিতে সক্ষম এরা। আকাশপথে শত্রুর এলাকায় অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে সমুদ্রপথে হামলায় দক্ষ এই বাহিনী। প্যারাকম্যান্ডোরারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র ইউনিট, যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকার অনুমতি দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়।

গরুড়— পুরাণে উল্লিখিত গরুড়ের নামে এই কম্যান্ডো বাহিনীর নাম। ভারতীয় বিমান সেনার অধীনে এই কম্যান্ডো বাহিনী। ‘আক্রমণই হল বাঁচার মন্ত্র’— এই আদর্শেই অনুপ্রাণিত গরুড় কম্যান্ডো বাহিনী। ২০০৪ সালে এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। এদের প্রশিক্ষণ এতটাই কঠিন যে, একজন বিমান সেনার জওয়ানের পুরোপুরি গরুড় কম্যান্ডো হতে অন্তত ৩ বছর সময় লাগে। অ্যান্টি-হাইজ্যাকিং থেকে শুরু করে প্যারাট্রুপিং, বরফের মধ্যে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নৌসেনার কম্যান্ডো বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর অ্যান্টি ইনসার্জেন্সি এবং জঙ্গল ওয়ার-ফেয়ার স্কুলেও গরুড় কম্যান্ডোদের প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঠানকোট বিমান সেনা ঘাটিতে জঙ্গিদের মারতে করতে নামানো হয়েছিল গরুড় কম্যান্ডোদের।

ঘাতক— ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর কম্যান্ডো এরা। ২০ জন সদস্যের এই কম্যান্ডো বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্যই হল নিশানায় চোখের পলকে হামলা করা এবং শত্রুপক্ষকে হতভম্ব করে দেওয়া। মূল বাহিনীর সাহায্য ছাড়াই যাতে এরা অভিযান চালাতে পারে, সেভাবে প্রশিক্ষিত করা হয় এদের। দুর্গম পাহাড়ের গা বেয়ে যে কোনও উচ্চতায় উঠে যেতে পারে ঘাতক কম্যান্ডো বাহিনী। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে এই কম্যান্ডো বাহিনীকে নামানো হয়েছিল।

ব্লাক ক্যাটস— ১৯৮৬ সালে এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি হয়। এই কম্যান্ডো বাহিনীর মূল নাম ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এনএসজি। মূলত এরা এলিট কম্যান্ডো বাহিনী। যারা জঙ্গি নিধনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। জঙ্গি হামলার মোকাবিলা থেকে বিমান ছিনতাই, ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তা দেওয়া, যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে শত্রুপক্ষের হাত থেকে নিজেদের কব্জায় আনতে সক্ষম ব্ল্যাক ক্যাটস-এর কম্যান্ডোরা।

গত দু’দশকেরও বেশি সময়ে অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার, অপারেশন অশ্বমেধ, অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো, অপারেশন সাইক্লোন-এর মতো অভিযানে অংশ নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাটস। এরা এতটাই এলিট গ্রুপে পড়ে যে, এরা ভারতের কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী বা প্যারামিলিটারির অধীনে আসে না। এনএসজি-এর আবার দু’টো ভাগ রয়েছে— স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বা স্যাগ এবং স্পেশাল রেঞ্জার গ্রুপ বা এসআরজি। এনএসজি কম্যান্ডো হওয়ার জন্য ৯ মাস ধরে প্রশিক্ষণ চলে। সেই প্রশিক্ষণের চাপ সামলাতে না পেরে অন্তত ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ জওয়ান এনএসজি ছাড়তে বাধ্য হন।

স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স— ভারত-চীন যুদ্ধের সময়ে এই কম্যান্ডো বাহিনীর গঠন হয়েছিল। এরা এমন এক প্রশিক্ষিত কম্যান্ডো বাহিনী, যারা শত্রুকে তাড়া করে এলাকা ছাড়া করে। মূলত স্থলপথে যুদ্ধের জন্য এদের প্রশিক্ষিত করা হয়। যে কোনও ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গরিলা যুদ্ধে ভয়ঙ্কর রকমের দক্ষ স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স।

পাহাড়ের উপরে লড়াই থেকে শুরু করে প্যারাসুটে ঝাঁপ দিয়ে শত্রুকে শেষ করতে ওস্তাদ স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। পণবন্দিদের উদ্ধারেরও প্রশিক্ষণ আছে এদের। এই কম্যান্ডো বাহিনীর একটি ইউনিটকে সিয়াচেন হিমবাহে পাহারার কাজে মোতায়েন করা হয়।

ফোর্স ওয়ান— ২৬/১১ হামলার পর এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। এদের মূল কাজ মুম্বাইকে রক্ষা করা। বাণিজ্য নগরীর বুকে যে কোনও ধরনের সন্ত্রাস প্রতিরোধে এই বাহিনীকে তৈরি করা হয়েছে। ফোর্স ওয়ান-এর কম্যান্ডোদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে যে মাত্র ১৫ মিনিটে এরা শত্রুপক্ষের উপরে হামলা চালাতে সক্ষম। ফোর্স ওয়ান কম্যান্ডো বাহিনীতে যোগদানের জন্য ৩০০০ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। কিন্তু, তার মধ্যে মাত্র ২১৬ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই