মেইন ম্যেনু

জঙ্গি আস্তানায় স্নাইপার রাইফেল, সেনা পোশাক

চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে এক বাসায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এক আস্তানা থেকে স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এরা হলেন, মো. নাঈম (২৫), মো রাসেল (২৪) ও মো. ফয়সাল (২৫)।

শনিবার রাত দেড়টা থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জানান, রাতে হাটহাজারি থানার আমান বাজার এলাকায় হাজী ইছহাক ম্যানসন নামের ওই দুই তলা বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি স্নাইপার রাইফেল, ১৯০ রাউন্ড গুলি, ১২ সেট সেনা বাহিনীর পোশাক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১০ টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাসা থেকে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

বাড়ির মালিক মো. ইসহাক জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাফিস নামে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানও ছিলো। কোরবানি ঈদের আগে নাফিসের স্ত্রী ও সন্তান ঢাকায় চলে যায়। মাঝে মাঝে নাফিস এই বাসায় আসতেন। জিজ্ঞেস করলে জানাতেন, বাসার কাজে পরিবার বাইরে আছে। ১০ দিন আগে নাফিস ওই বাসায় সর্বশেষ আসেন। তাদের কারও আচরণ দেখেই কোনো সন্দেহ হয়নি। গতকাল রাতে অভিযানের পর তারা পুলিশকে বাসা থেকে অস্ত্র বের করতে দেখেছেন বলে জানান।

এর আগে মিরপুরে গত বুধবার রাত থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই বাড়ির ছয়তলা থেকে মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় হাতে তৈরি ১৬টি গ্রেনেড (আইইডি—ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), দুটি ককটেল, বোমা বা গ্রেনেড রাখার একটি বিশেষ জ্যাকেট ও গ্রেনেড তৈরির প্রচুর উপকরণ।

এ বিষয়ে বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ওই বাসা থেকে একটি এমকে ডাবলওয়ান স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এটা খুবই অত্যাধুনিক। ১৫০০ গজ দূর থেকে নিশানা ঠিক করা যায়। এই রাইফেলের গুলিতে মৃত্যু অবধারিত। তিনি জানান, এই ধরনের রাইফেল সেনাবাহিনীর কাছেও নাই।

স্নাইপার রাইফেল তারা কোথায় পেলো জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে তাদের এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে তারা এই অস্ত্র কোথায় পেলো।

সেনবাহিনীর পোশাকের বিষয়ে কমিশনার বলেন, সেনাবাহিনীর পোশাকের মতো পোশাক বাইরে থেকে কেনা যায়। এমনকি পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন র‌্যাংকের ব্যাচ পাওয়া যায়। এইসব পোশাক বাইরে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানির পোশাকের রং পুলিশের পোশোকের মতো। এসব আইন করে বন্ধ করা উচিৎ।

বাসা বাড়িতে এরকম জঙ্গি আস্তানা গড়ে উঠায় কোনো উদ্বেকজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জলিল বলেন, এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। অস্ত্র থাকলেও দুই চারজন মিলে বড় ধরনের কোনো হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারবে না। আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনেক সজাগ রয়েছি।






মন্তব্য চালু নেই