মেইন ম্যেনু

জঙ্গি দমনে ব্যাচেলরদের সম্পৃক্ত করার দাবি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলায় বসবাসরত জনসংখ্যার অধিকাংশ ব্যাচেলরদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সম্পৃক্ত করতে পারলে তাহলে জঙ্গিবাদের অপসংস্কৃতি থেকে খুব শীঘ্রই বেরিয়ে আসা সম্ভব বলে দাবি করেন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)।

বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্প্রসারিত হলে সংবাদ সম্মেলন ও অতিথিদের অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠানে এমন দাবি করেন বক্তারা।

অভিমত অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ব্ল রেইড-এর নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দ্বায়িত্ব পালনে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যখন-তখন বা যেকোনও সময় তল্লাশির নামে যাতে কোনও ব্যাচেলর হয়রানীর শিকার না হয় সে ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের সময়-এর সহযোগি সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুণ কবির খোকন বলেন, আমাদের নিজ-নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোল গড়ে তুলতে হবে এবং ব্যাচেলরদের অংশকে আমরা যদি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া কর্মসূচীতে সংম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে সুফল বয়ে আনা সম্ভব। তবে ব্যাচেলর কোনও ধরনের হয়রানী থেকে বাড়িওয়ালাসহ পুলিশ বাহিনীকে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্ভব করতে হবে।

সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ বলেন, ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া আইনটি সংশোধন করে সময় উপযোগি করা এখন সময়ের দাবি। আর এই আইনটি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি ভাবে ব্যাপক আলোচনা বা জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাড়ি ভাড়া উপকমিটিকে যদি আমরা কার্যকর করতে পারি তাহলে ব্যাচেলরদের সমসাময়িক যে দূর্ভোগ তা নিরসন করা সম্ভব। আর বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া যদি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে বাড়ি ভাড়া দিতে বাধ্য থাকে তাহলে সরকার এখান থেকে বিপুল পরিমানে রাজস্ব আয়ও অর্জন করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা ও পরবর্তী কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ব্লক রেইড’ নিয়ে কতিপয় বাড়িওয়ালা আমাদের ব্যাচেলর সমাজের উপর যে মানসিক অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেছে তা অমানবিক এবং নাগরিক অধিকার হরন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল কলেজ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১০টি সরকারি কলেজ আছে রাজধানীতে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) দেওয়া তথ্য মতে, এ ১১টি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছেন প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বেসরকারি ৩৮টি মেডিকেল কলেজের ৩২টি আর বেসরকারি ৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২টির অবস্থান ঢাকা মহানগরে। এগুলোর কোনোটিরই পর্যাপ্ত আবাসন-সুবিধা নেই। তারপর আছে এইচএসসির পর মেডিকেল আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু প্রায় এক লাখ ছাত্রছাত্রীর চাপ। এর একটি বড় অংশকে বাড়ি খুঁজতে গিয়ে নাকাল হতে হয় প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।

১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলেন রাজধানীতে প্রায় দেড়কোটি কোটি মানুষের মাঝে আমাদের হিসেব মতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যাচেলর এই শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক প্রকার জিম্মিদশায় আছেন। তা যেন দিন-দিন প্রকট থেকে প্রকট হচ্ছে। তাদের নতুন বছর শুরুই হয় ভাড়া বৃদ্ধির আতঙ্ক দিয়ে। বাড়তি ভাড়া দিতে না পারলে বাড়ি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া বাকিদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকে না।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনও ধর্ম নেই। নেই কোনও পরিচয়। শোলাকিয়ার ঈদগা মাঠকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো নিহত জঙ্গি আবিরকে বেওয়ারিশ বলে তার মরদেহ দাফনের মাধ্যমে এটাই প্রামণীত, জঙ্গিদের কোনও বংশ পরিচয়ও নেই। এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আজ বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই বিশ্বের সকল নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই অপশক্তি নির্মুলে কাজ করতে হবে আমরা মনে করি।
সংবাদ সম্মেলন ও অতিথিদের অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠান থেকে আমাদের পরামর্শ-

১. ব্যাচেলরদের অধিকাংশ অংশ ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের বসবাস ভবন নির্মাণ করা।
২. ব্যাচেলরদের জন্য সরকারি ও বেসরকারীভাবে আবাসন নির্মান করা।
৩. জীবন-জীবীকা নির্বাহকারী ব্যক্তি ব্যাচেলরদের সহজ শর্তে ঋৃন প্রদান করা।
৪. ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া আইনটি যুগোপযোগি করা।
৫. ভাড়ার লক্ষ্যে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার লিখিত চুক্তি ও ভাড়ার রশিদ প্রদানে বাধ্য করা।
৬. বাড়ি ভাড়া আইন, নিয়ন্ত্রক’র ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে জনসচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৭. বাড়িওয়ালা কর্তৃক ভাড়াটিয়ার কোনও প্রকার নির্যাতনে অর্থদন্ডের পাশাপাশি জেলদন্ডের বিধান নিশ্চিত করা।
৮. ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিকটস্থ থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সমাধানে পুলিশের তৎপরতা নিশ্চিত করা।






মন্তব্য চালু নেই