মেইন ম্যেনু

জঙ্গি প্রতিরোধে হার্ডলাইনে বেরোবি প্রশাসন

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি : সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে হার্ডলাইনে (কঠোর অবস্থানে) অবস্থান নিয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়(বেরোবি)। প্রতিটি বিভাগে ১০ দিন অথবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের জরুরী ভিত্তিতে তথ্য চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বর,আইডি নম্বর, স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট হলগুলোতে।

গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে হল ও বিভাগগুলোর কাছে এ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়। প্রতিটি বিভাগ ও হলগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নিকটে এ সকল তথ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

গত ১৮ জুলাই রংপুর কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ এ বি এম জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তর প্রেরিত এক চিঠিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ তথ্য চাওয়া হয়।

এ দিকে জঙ্গি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘তথ্য সেল’ গঠন করেছে বলেও জানা গেছে। বিভাগ ও হলগুলোতে এ চিঠি পাওয়ার পর অননুমোদিতভাবে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে স্ব স্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে। হল প্রভোস্টগণ অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে হলের বাইরে অবস্থানকারি শিক্ষার্থীদের সীট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মুলে মানববন্ধনসহ সমাবেশও করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সংগঠন নামক সংগঠন।

‘সাম্প্রতিক সংঘটিত গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ এবং শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য গ্রহণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সম্পর্কিত তথ্য চিঠি পাওয়া মাত্রই কোতয়ালী থানায় জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
তথ্য ছকে নিখোঁজ ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নাম;কয়জন অনুপস্থিত তার সংখ্যা;অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর নাম,বয়স,পিতার নাম,ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর;শিক্ষার্থীর শ্রেণি,বিষয়/শাখা ও রোল নম্বর; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকর্তৃক গ্রহীত ব্যবস্থা ও তার সম্পর্কে মন্তব্যও প্রদান করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সময়কাল ও অনুপস্থিতির সম্ভাব্য কারনও জানতে চেয়ে তথ্য জানাতে বলেছে পুলিশ।
সকল শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য পাঠানোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, সকল শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়নি যে সকল শিক্ষার্থী তাঁদের স্ব স্ব বিভাগ থেকে ছুটির অনুমোদন নিয়ে যায় নি, যে ছুটি টা বিভাগ থেকে অ্যাপ্রুভড(অনুমোদিত)না’ তাদের সম্পর্কেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে এবং তারাই ‘অননুমোদিত’। তিনি বলেন, যে সকল শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে এবং তাদের অনুপস্থিতির অনুমোদিত কারন রয়েছে যেটা স্ব স্ব বিভাগ জানে তাদের সম্পর্কে তথ্য জানাতে হবে না।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর মোঃ শাহীনুর রহমান বৃহস্পতিবার রাত ৮ টারদিকে এক মুঠোফোনে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো….১। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি কার্ড) সাথে রাখার জন্য বলা হয়েছে। ৩। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে চেকিং(পরীক্ষা) এর ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রহরীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে ইতোমধ্যে সার্চ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৪।অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নিয়ম-শৃঙ্খলা’ সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ ফাঁড়ির এস আই এরশাদ হোসেন বলেন, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে এবং পরিচয় গ্রহণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে ‘চেকিং রুম’ স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে ছেলে ও মেয়েদের হলেও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তথ্য জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে শহীদ মুখতার ইলাহী হলে ২১ জুলাই নোটিশের মাধ্যমে ৭ দিনের মধ্যে এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলে গত ১৮ জুলাই নোটিশের মাধ্যমে ২১ জুলাই এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট আমীর শরীফ জানান, ইতোমধ্যে যাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে অথচ হলে রয়েছে শীঘ্রই আলোচনা করে তাদের সীট বাতিল করা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিতিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবৈধভাবে যারা রয়েছে তাদের সীট বাতিল করা হবে,সীটধারীর পরিবর্তে অন্যজন থাকলে তাকে বের করে দেওয়া হবে এবং সীটধারী অনুপস্থিত শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হবে। এ প্রক্রিয়া শীঘ্রই কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান।

এ দিকে মেয়েদের হলে যারা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছে তাদের সীট বাতিল করা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান। যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমোদিত কারন ব্যতীত নিখোঁজ রয়েছে তাদের সম্পর্কে শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তথ্য দেওয়া হবে বলে জানান এই প্রভোস্ট।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কমূলক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।






মন্তব্য চালু নেই