মেইন ম্যেনু

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ‘নিখোঁজ’ ৭৭ তরুণকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ৭৭ যুবক ‘নিখোঁজ’ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য জানতে কাজ করছে র‌্যাব-পুলিশ। ইতোমধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ সদর দফতর। তবে এখন পর্যন্ত কারো অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত কয়েকজন জঙ্গি সদস্য বেশ কয়েক মাস নিখোঁজ ছিলেন। এমন খবর প্রচারের পর পরিবার ও অভিভাবকরা আরো অর্ধশতাধিক যুবক নিখোঁজের খবর দেন।

পুলিশ ও র্যা ব সূত্র জানায়, নিখোঁজ যুবকদের অধিকাংশরাই উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী পরিবারের। তাদের মধ্যে ১০ জনের পাসপোর্ট নম্বরও সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানার ক্ষেত্রে পরিবার কর্তৃক তালবাহানা করা হলে তাদের বিরুদ্ধেও নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে অন্তত ৭৭ জন তরুণ-যুবক নিখোঁজ হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছে তারা। সংশ্লিষ্টদের পরিবারও উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

কয়েকটি পরিবারের আর্তির পর খোঁজ নিয়ে পুলিশ নিখোঁজ ৭৭ জনের মধ্যে ১০ জনের পাসপোর্ট নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে।

তথ্যপ্রাপ্ত নিখোঁজরা হলেন, বাড্ডার জুনায়েদ খান (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮), তেজগাঁওয়ের বাসারুজ্জামান (পাসপোর্ট নম্বর এ এল ৭৩৮৪৯৮৭), গুলশানের আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৫২৫৮৪৯৬২৫), ধানমন্ডির জুবায়েদুর রহিম (পাসপোর্ট নম্বর ই১০৪৭৭১৯), পুরান ঢাকার ইব্রাহিম হাসান খান (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮), সিলেটের তামিম আহম্মেদ চৌধুরী (পাসপোর্ট নম্বর এল ০৬৩৩৪৭৮), মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি (পাসপোর্ট নম্বর টি কে ৪০৯৯৮৬০), জুল্লন শিকদার (পাসপোর্ট নম্বর বি ই ০৯৪৯১৭২); চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী এবং লক্ষ্মীপুরের এ টি এম তাজউদ্দিন (পাসপোর্ট নম্বর এফ ০৫৮৫৫৬৮)।

এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, নিখোঁজ যুবকদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। পরিবারের কোনো সদস্য নিখোঁজ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। সমাজের প্রত্যেক মা-বাবার উচিত সন্তানরা কোথায় যায়, কী করে তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করা।

র্যা বের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নিখোঁজ যুবকদের খোঁজা হচ্ছে। পরিবারের সহযোগিতা ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সহায়তা দরকার তাদেরই। ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদ রুখতে র্যা ব অ্যাপস তৈরির কাজ করছে। যেখানে সন্ত্রাসী হামলা, হুমকি, স্যোশাল মিডিয়া অপতৎপরতা, খুন, অপহরণের খবর দ্রুত জানানো হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘নিখোঁজ যুবকদের উদ্ধার করতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা নতুন করে নিখোঁজ হবে তাদের সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ পরিবারই সন্তান নিখোঁজের বিষয়টি আগাম পুলিশকে জানায়নি। ২/৪ জন জিডি করলেও বেশির ভাগই গোপন রেখে তালাশ করেছে। গুলশান হামলায় জড়িত রোহান ইবনে ইমতিয়াজসহ দুজন দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন। তবে তাদের পরিবার থানায় জিডিও করেছিল।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঘটনায় নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারী আবির রহমান কয়েক মাস আগে নিখোঁজ হলেও জিডি করা হয়েছে হামলার আগের দিন।

বারিধারার বাসায় আবিরের ভাই বলেন, গুলশান হামলার পর ২/১ জন নিখোঁজ থাকার পর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবর আসলে আমরা ভয় পেয়ে যাই। তবে ছবি মিলিয়ে দেখি সেখানে আবির নেই। এরপরই গত বুধবার ভাটারা থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু এর পরদিনই গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে বুঝলাম আবির শোলাকিয়ায় মারা গেছে।

অন্যদিকে নিহত জঙ্গি নিবরাসের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা খোলা চিঠিতে জানান, ‘গুলশানের ঘটনায় নিবরাস জড়িত থাকায় আমরা লজ্জিত। দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের কাছে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। ক্ষমা চান রোহান ইমতিয়াজের বাবা ও আওয়ামী লীগ নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বাবুল এবং মীর সমিহ মোবাশ্বেরের বাবা মীর হায়াত কবিরও।






মন্তব্য চালু নেই