মেইন ম্যেনু

জন্মের আগেই ঠিক হয়ে যায় যে নয়টি পরিচয়

সব সন্তানকেই ১০ মাস মাতৃগর্ভে থাকতে হয়। পৃথিবীর আলো দেখার পর চলে বেড়ে ওঠা, পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়। তবে বেড়ে ওঠার বিষয়টি আরো আগেই শুরু হয়। ১০ মাস ১০ দিন মাতৃগর্ভেই চলতে থাকে সন্তানের বড় হওয়া।

প্রথমদিন জীবনের শুরু

পিতার ২৫০ মিলিয়ন শুক্রাণুর একটি শুক্রাণু ডিম্বাশয়ে পৌছায়। একটি জীবনের শুরু মূলত তখন থেকেই। শুক্রাণু ও ডিম্বানুর মিলনেই তৈরি হয় নতুন এক কোষ। শুরু হয় জীবনের পথচলা। আর তখনই নির্ধারিত হয় সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে। যদি ডিম্বানুর সঙ্গে এক্স (X) ক্রোমোসোম মিলিত হয় তবে কন্যাসন্তান হবে এবং যদি ওয়াই (Y) ক্রোমোসোম মিলিত হয় তবে পুত্রসন্তান জন্ম নেবে। আর এরপর থেকেই নয় মাস ধরে মাতৃগর্ভে একটি মানুষ তৈরি হতে থাকে।

p0326r5b

৬ দিন নতুন কোষের জন্ম

ছয়দিনের মাথাতেই মূলত কোষ তৈরি হয়। আর তখনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এজন্য মাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হয়। কারণ তার ‍পুষ্টিই মূলত গর্ভে থাকা সন্তানকে পুষ্টি সরবরাহ করবে। অনেক সময় মা নিজেরাও জানেন না তার গর্ভে সন্তান জন্ম নিতে যাচ্ছে। আর তাই প্রায়ই অবহেলায় হারিয়ে যায় কোষটি। ঘটে জীবনের অবসান। আর যদি তা পর্যাপ্ত যত্ন পায় তবে জন্ম হয় কোষ, কোষ থেকে অঙ্গানু, আর সেখান থেকেই মানুষ।

p0326rhn

চার সপ্তাহ চেহারার আকৃতি গঠন

চার সপ্তাহের মধ্যেই শরীরের আকার ধারণ করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টিস্যুর কারণে ১৪টি ভিন্ন গঠনে আপনার চেহারার আকার তৈরি হতে থাকে। প্রত্যেক মানুষের চেহারাই এই গঠনে তৈরি কিন্তু কারো সঙ্গে কোনো মিল নেই। আপনার জীনের কারণেই আপনার চেহারায় ভিন্নতা আসতে শুরু করে।

p0326sg8

১১ সপ্তাহ বা-হাতি নাকি ডান হাতি

অস্টম সপ্তাহে একটি ভ্রূণ পুরোপুরি মানবকোষে রুপান্তরিত হয়। ১১ সপ্তাহের মধ্যে অন্যান্য অঙ্গও তৈরি হতে থাকে এবং তখন এগুলো নড়াচড়াও করতে থাকে। তখন পাশ ঘুরতেই সক্ষম হয় শিশু। এমন অবস্থাকে বলা হয় ফোয়েটাস। আর প্রতি ১০টি ফোয়েটাসের ৯টি ফোয়েটাসই ডানহাতি হয়ে থাকে। একজন বাঁহাতি হয়। আর মাত্র এক শতাংশ শিশু দুই হাতেই সমান পারদর্শী হয়। আর এই ব্যাপারটি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় মাত্র ১১ সপ্তাহের মাথাতেই নির্ধারিত হয়ে যায়।

১২তম সপ্তাহ হাতে ছাপ তৈরি

পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের প্রত্যেকেরই হাতের ছাপ আলাদা। আর এই ছাপ তৈরি হয়ে যায় মাতৃগর্ভের দ্বাদশ সপ্তাহেই। সে সময়ই এমিনোটিক ফ্লুইড এর মাধ্যমে এই ছাপে আসে ভিন্নতা। আঙ্গুলের চামড়া তখন সংকুচিত হতে থাকে। এমনকি জমজ বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও এই হাতের ছাপ ভিন্ন হয়ে থাকে। ১৭ সপ্তাহের মধ্যেই ১০টি আঙ্গুলের ছাপ তৈরি হয়ে যায় যা আপনাকে ৭০০ কোটি মানুষ থেকে আলাদা করবে।

১৪তম সপ্তাহ জীবনসঙ্গী কেমন হবে?

শুনতে খটকা লাগলেও এই সময়ের কিছু বিক্রিয়া আপনার পছন্দের উপর প্রভাব ফেলে। আপনার শরীরের গঠন তৈরির সঙ্গে সঙ্গে মনেরও কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসে। ১৪ সপ্তাহের মধ্যে মানবদেহে লিউকোসাইট এন্টিজেন প্রোটিন আসে। এর মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস সনাক্ত করা সম্ভব হয়। সূত্রমতে এই প্রোটিন আমাদের জীবনসঙ্গী কেমন হবে সেটাও নির্ধারণ করে দেয়। তাই জন্মের পর আপনি কেমন জীবনসঙ্গী বেছে নেবেন এটা আসলেই জন্মের আগেই নির্ধারিত হতে পারে।

১৫ তম সপ্তাহ আপনার মস্তিস্ক কতটা ‘পুরুষ’?

এতদিনে নির্ধারিত হয়ে গেছে যে আপনি পুরুষ না নারী। অস্টম সপ্তাহেই এই অঙ্গানু তৈরি হয়ে যায়। আর ১৫তম সপ্তহে এসে মস্তিস্ক গঠন হতে শুরু করে।

এসময় পুরুষ ফোয়েটাস অনেক বেশি টেস্টোরোস নামক হরমোন পায়। অন্যদিকে তুলনামূলক কম টেস্টোরোস হরমোন লাভ করে নারীরা। তাই এই হরমোনের উপরই অনেকটা নির্ভর করে আপনার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি। আপনার চিন্তাভাবনা কতটা পুরুষালি হবে সেটা আসলে এই হরমোনই নির্ধারণ করে দেয়।

২৮ সপ্তাহ যেমন দেখতে চান বিশ্বকে

২৮ সপ্তাহে ফোয়েটাস অনেক পরিপক্ক হয়ে যায়। মানব শরীর গঠনের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করে এসময়। শারীরিক গঠনের কারণে বিশ্ব দেখতে আপনি প্রস্তুত হয়ে যান। চোখে এসময় রং এর অনুভুতি বোঝার সেল তৈরি হয়ে যা। এসময় লাল, নীল ও সবুজ রং বুঝতে পারে শিশুরা। বেশিরভাগ শিশুই জন্মের পর এক কোটি রং বুঝতে পারে। ৮ শতাংশ পুরুষ ও .৫ শতাংশ নারী বর্ণান্ধ হয় থাকে। তবে কিছু মানুষ লাল ও নীলের মাঝের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রং দেখতে পায়। অর্থাৎ তাদরে দৃষ্টিশক্তি আরো প্রখর হয়।

CO5Gm7yWsAIV1Qk

৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ পরিপক্বতা
এ সময়ের মধ্যে একটি শিশু প্রায় পরিপক্কতা লাভ করে। এই নয়মাসে একটি কোষ থেকে কয়েক ট্রিলিয়ন এরও বেশি কোষ তৈরি হয়। জন্মের সময় আকার ও ওজন নির্ভর করে মূলত বংশগত জীনের উপর।
এছাড়াও মায়োর খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে হতাশাগ্রস্থ মন সবকিছুই শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে। মায়ের মাধ্যমেই শিশুর জীন ডিএনএ প্রভাবিত হয়। আর পরিসংখ্যান বলছে, জন্মের সময়ের ওজন আপনার পরবর্তী জীবনের সুস্থতা নিশ্চিত করে।

তাই গর্ভাবস্থায় থাকা প্রত্যেকটি মুহূর্তই শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বিবিসি






মন্তব্য চালু নেই