মেইন ম্যেনু

জন কেরি বিএনপি-জামায়াতের সুরে কথা বলেন

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বিএনপি-জামায়াতের সুরে কথা বলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি প্রস্তুত করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল অফিসার ও দাতা সংস্থা ইউএস এইডের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ফোনের সমালোচনা করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘আজ বিএনপি-জামায়াত যে কথা বলে, জন কেরিও একই কথা বলেন। জন কেরি আমাদের শিক্ষা দেয়, শেখ হাসিনাকে ফোন করে বলে- তাদের নাগরিক, বন্ধু জুলহাজ মান্নান -এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। পচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময়, বিশ্বের জঘন্যতম ওই হত্যাকাণ্ড, যেখানে মা-শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল নির্মমভাবে; তখন জন কেরিরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশে খুনের রাজনীতির ইন্ধন দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকেও আমেরিকায় অবস্থান করছে বঙ্গবন্ধুর তিনজন খুনি, কিন্তু আপনারা (জন কেরি) তাদের এখনো হস্তান্তর করছেন না। এদের রাজনীতি হচ্ছে বাংলাদেশ যাতে সামনে এগিয়ে যেতে না পারে। এদের রাজনীতি হচ্ছে যেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র অব্যাহত না থাকে। এরা বঙ্গবন্ধুকে বিপর্যস্ত করেছিল, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। এরা নিজেদের স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে পারে।’

সেলিম বলেন, ‘জুলহাজের খুনিরা যেই হোক না কেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তাদের খুঁজে বের করবোই। তাদের বিচার করবো। কিন্তু দেশের জনগণকে বলবো, ষড়যন্ত্রকারীদের কোনোভাবেই উৎসাহিত করবেন না। কারণ আমরা হত্যার ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করি না, সে রাজনীতি বঙ্গবন্ধুও করেননি, শেখ হাসিনাও করে না। আর বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যে যেখানেই কোনো ষড়যন্ত্র দেখবেন, সাথে সাথেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবেন।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও হত্যা করা হয়েছে। জন কেরিরা সে কথা বলে না। তারা উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলে। এই জন কেরি, যখন কাদের মোল্লার ফাঁসি হয় তখনও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ‘ফাঁসি না দিয়ে পারা যায় না?’ আমার দেশে গণহত্যা করেছে, তাদের সমর্থনে সুপারিশ করে- এরা কারা? এদের একাত্তরের ভূমিকা মাথায় রেখে জনগণ যেন বিভ্রান্ত না হয়।’

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত করে সেলিম বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বাতিল করতে ব্যর্থ হয়ে প্রথমে মানুষ পুড়ালো। পুলিশ, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ মেরে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে তারা পারেনি। পরে পেট্রোল বোমা হামলা, বিদেশি নাগরিক হত্যা শুরু করে। যাতে করে বিদেশিরা আমাদের উপর নাখোশ হয়, চাপ প্রয়োগ করে। এখন গুপ্ত হত্যা চালানো হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে, দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধীরা এসব করছে।’

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবগুলোর বিচার আমরা করেছি, আমাদের দলের কেউ হলেও বিচার করা হয়েছে। জগন্নাথের ছাত্রলীগ কর্মীদেরও ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি, যে কেউই অপরাধী হোক, তার বিচার হবে।’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তিন যুগ হচ্ছে এবার। আমরা আগামী ১৭ মে নেত্রীকে অভ্যর্থনা দেবো। ওইদিন বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই